বঙ্গবন্ধুসহ নিহতদের ধর্মীয় রীতি মেনে দাফন করতে দেয়নি খুনিরা

আপডেট : ১৫ আগস্ট ২০২২, ১২:৪০ পিএম

১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পরিবারের ১৮ জনকে কেবল খুন করেই ক্ষান্ত হয়নি খুনিরা। ধর্মীয় রীতি মেনে তাদের দাফনও করতে দেওয়া হয়নি। দাফনের পর কবরস্থানে জারি করা হয় অনির্দিষ্টকালের কারফিউ। কবরগুলো সংরক্ষণেও বাধা দিয়েছিলো খুনিদের মদদপুষ্ট বাহিনী।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট রাতে ঘাতকদের নির্মম বুলেটে ধানমন্ডির ৩২ নম্বর সড়কের ঐতিহাসিক ভবনে শহীদ হন হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

সেই রাতে প্রাণ হারান বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিণী ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, ছেলে শেখ কামাল, শেখ জামাল ও শেখ রাসেল, পুত্রবধূ সুলতানা কামাল ও রোজী জামাল, ভাই শেখ নাসের ও কর্নেল জামিল। 

ঘাতকদের বুলেটে আরও প্রাণ হারান বঙ্গবন্ধুর ভাগনে মুক্তিযোদ্ধা শেখ ফজলুল হক মণি, তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী আরজু মণি, ভগ্নিপতি আবদুর রব সেরনিয়াবাত, শিশু বাবু, আরিফ খান রিন্টুসহ আরও অনেকে। দেশে না থাকায় প্রাণে বেঁচে যান বঙ্গবন্ধুর জ্যেষ্ঠ কন্যা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তার ছোট বোন শেখ রেহানা।

এরপর ১৫ আগস্ট ভোর থেকে ১৬ আগস্ট ভোর, ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও ধানমন্ডির বাড়িতে পড়ে ছিলো শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব, শেখ কামাল, জামাল ও রাসেলসহ অন্যদের মরদেহ। আব্দুর রব সেরনিয়াবাদ ও শেখ মনির পরিবারের সদস্যদের মরদেহ পড়েছিলো ঢাকা মেডিক্যালের মর্গে। ততক্ষণে তাদের মরদেহে পচন ধরেছে। 

image


১৬ আগস্ট ভোরের আলো ফোটার আগেই একটি ট্রাকে জড়ো করে তাদের নেওয়া হয় বনানী করবস্থানে। ধর্মীয় রীতি নীতি মেনে গোসল বা জানাজা ছাড়া যার পরনে যে কাপড় ছিলো সে অবস্থাতেই তাদের মাটিচাপা দেওয়া হয়।

image


এদিকে ১৬ আগস্ট বেলা ১২টায় বঙ্গবন্ধুকে দাফনের জন্য হেলিকপ্টারে টুঙ্গিপাড়ায় নেয়া হয়। সেখানেও তাকে বিনা গোসলে দাফন করতে চাইলে গ্রাসবাসীর আপত্তির মুখে ধর্মীয় রীতি মেনে ৫৭০ সাবান আর রিলিফের মার্কিন কাপড় দিয়ে কবর দেওয়া হয়। বসানো হয় সশস্ত্র পাহারা।

image


বনানী কবরস্থানের তখনকার সুপারভাইজার নজরুল ইসলাম রনি জানান, সময়টা তখন এমন ছিলো যে, কোথায় তাদের দাফন হয়েছে, সেই তথ্যটাও জাতিকে জানতে দেওয়া হয়নি। 

১৯৭৮ সাল থেকে ২০০৬ পর্যন্ত বনানী কবরস্থান মসজিদে ইমামের দায়িত্ব পালন করা মাওলানা আব্দুর রশিদ জানান, বাধা থাকার পরও অনেকেই আসতো, দোয়া করতো। 

আরও পড়ুন: শোক দিবসে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

ঢাকা মহানগর উত্তর ভাইস প্রেসিডেন্ট  এম এ কাদের খান বলেন, কবরগুলো রক্ষণাবেক্ষনেও বাধা ছিলো। কয়েকবার কবর পাকা করা হলেও ভেঙে দেয় খুনিদের কুড়াল বাহিনীর কর্মীরা।  

তবে ১৯৮১ সালে শেখ হাসিনা দেশে ফেরার পর পাল্টাতে থাকে পরিস্থিতি। তখন থেকে ১৫ আগস্টসহ নানা দিবসে জাতির পিতার পরিবারের সদস্যদের স্মরণ করা হয়।  


একাত্তর/এসি

৯০২ কোটি টাকার অতিরিক্ত বাজেটের ঘাটতি এবং পরিচালনা সংক্রান্ত জটিলতায় আটকে আছে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অত্যাধুনিক থার্ড টার্মিনাল। আন্তর্জাতিক মানের সেবা প্রদানে নির্মিত এই...
১৫ আগস্ট উপলক্ষে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং যেকোনো ধরনের নাশকতা এড়াতে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। 
সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর ভার্সিটি ঘাট থেকে যতো দূর চোখ যায়, কেবলই উত্তাল যমুনা। নৌকায় প্রায় ঘণ্টাখানেকের নদীপথ পাড়ি দিয়ে, তারপর দু-চাকার বাহনে চরের ধূ ধূ ধূলিপথ। চরের শান্ত নিভৃত এক গ্রামে গড়ে উঠেছে...
পরিবেশ রক্ষা, কৃষিজমি সংরক্ষণ এবং বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে সরকার গত কয়েক বছরে জোরালো অভিযান চালিয়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সাল থেকে মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত দেশে ২ হাজার...
প্রখ্যাত চিত্রনায়ক সালমান শাহকে (চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন) পূর্বপরিকল্পিতভাবে হত্যার অভিযোগে তার স্ত্রী সামীরা হকসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে করা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ৫ নভেম্বর দিন...
কৌশলগতভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল নৌপথ হরমুজ প্রণালীতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইয়েমেন সংলগ্ন অঞ্চলে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের অব্যাহত তোপের মুখে পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে মার্কিন নৌবাহিনী!
জনগণের জন্য জ্বালানির মূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখতে যুগোপযোগী ও বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা প্রণয়ন ও উপস্থাপনের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে সুপারিশ করেছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সরকারি প্রতিষ্ঠান সম্পর্কিত...
দীর্ঘ দুই দশকের রক্তক্ষয়ী সংঘাত ও সাড়ে চার হাজার মার্কিন সেনার আত্মত্যাগের স্মৃতি বিজড়িত পথ বেয়ে অবশেষে মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্র ইরাক ছাড়ছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। বুধবরের মধ্যে দেশটিতে...
লোডিং...
সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর