পাকিস্তান জুড়ে ভারী বর্ষণ ও আকস্মিক বন্যায় রোজই বাড়ছে মৃতের সংখ্যা। জুনের মাঝামাঝি সময় থেকে এ পর্যন্ত বন্যায় অন্তত ৯০৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছে এক হাজার পাঁচশ' জনেরও বেশি মানুষ। গৃহহীন হয়ে পড়েছে কমপক্ষে ৫০ হাজার পাক নাগরিক।
বুধবার দেশটির জাতীয় বিপর্যয় ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (এনডিএমএ) জানায়, বন্যায় শেষ ৪৮ ঘণ্টায় ১২৬ জন মারা গেছে। তাদের বেশির ভাগই মহিলা ও শিশু।
পাকিস্তানের জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী শেরি রেহমান বলেছেন, জলবায়ু বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতে আন্তর্জাতিক এবং জাতীয় সংহতি প্রয়োজন। শুধুমাত্র খাদ্য, আশ্রয় এবং মৌলিক বেঁচে থাকার সুযোগ-সুবিধাগুলোর আকারে নয়, উদ্ধার প্রচেষ্টার ক্ষেত্রেও।
তিনি আরও বলেন, বিপর্যয়ের মাত্রা বিবেচনা করে এসবকে মোকাবেলা করার কোনো উদ্যোগ নেই। মানুষের জীবন ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে এবং হাজার হাজার মানুষ গৃহহীন হয়েছেন।

এনডিএমএ জানিয়েছে, দক্ষিণ সিন্ধু প্রদেশ সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ অঞ্চলগুলোর মধ্যে একটি। যেখানে এখন পর্যন্ত ২৯৩ জন মারা গেছে। তারপরে রয়েছে দক্ষিণ-পশ্চিম বেলুচিস্তান প্রদেশ, সেখানে ২৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া উত্তর-পশ্চিম খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশে ১৬৯ জন এবং পূর্ব পাঞ্জাব প্রদেশে ১৬৪ জন নিহত হয়েছে।
এর আগে দেশের অর্থিক পরিস্থিতি সামলাতে হিমশিম খাচ্ছিল শাহবাজ শরিফের সরকার। এসবের মধ্যে বন্যার আঘাত নতুন করে সংকটে ফেলেছে দেশটিকে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ বুধবার বন্যা বিধ্বস্ত পাকিস্তানকে সহযোগিতা করার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন। দেশের আর্থিক দুরাবস্থা কাটিয়ে তোলার জন্য আরব দেশগুলোর কাছে বিনিয়োগ বা ঋণ হিসাবে আর্থিক সাহায্য চেয়েছেন।
এদিকে দক্ষিণ-পশ্চিম বালুচিস্তান এবং পঞ্জাব প্রদেশে নতুন করে বৃষ্টি শুরু হয়েছে। ফলে স্থানীয় প্রশাসন সেখানকার স্কুল কলেজ বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে।
অন্যদিকে কবরস্থানগুলোতে অতিরিক্ত পানির কারণে পরিজনের দেহ কবর দিতে গিয়েও সমস্যার সমস্যা মুখে পড়ছেন অনেকে। এলাকায় না দিয়ে দেহ নিয়ে অন্যত্র যেতে হচ্ছে কবর দেওয়ার জন্য। রয়েছে ওষুধ ও পানীয় জলের সংকট।
আরও পড়ুন: নাটোরে পুকুর থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার
আবহাওয়া অফিসের সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, পূর্ব বেলুচিস্তান, দক্ষিণ পাঞ্জাব এবং সিন্ধুতে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকবে। এর ফলে পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যেতে পারে।
উল্লেখ্য, পাকিস্তানে তিন দশকের মধ্যে জুলাই মাসে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে। এ সময় গত ৩০ বছরের গড় থেকে ১৩৩ শতাংশ বেশি বৃষ্টিপাত হয়।
একাত্তর/আরবিএস
