রাশিয়া ও ইউক্রেনের দুই মানবাধিকার সংগঠনের সাথে যৌথভাবে এবছর শান্তিতে নোবেল পুরস্কার জিতেছেন বেলারুশের প্রখ্যাত মানবাধিকার কর্মী অ্যালেস বিয়ালিয়াৎস্কি। বর্তমানে বিনা বিচারে কারাগারে রয়েছেন তিনি।
বেলারুশের স্বৈরাচারী শাসক অ্যালেকজান্ডার লুকাশেঙ্কোর দমন-পীড়নের প্রতিবাদে ১৯৯৬ সালে ভিয়াসনা হিউম্যান রাইটস সেন্টার প্রতিষ্ঠা করেন বিয়ালিয়াৎস্কি।
সেসময় কারাবন্দি আন্দোলনকারী ও তাদের পরিবারকে সহায়তা দেয়ার পাশাপাশি রাজনৈতিক বন্দিদের ওপর সরকারের অত্যাচারের কথা নথিবদ্ধ করে ভিয়াসনা।
নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করে নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটির প্রধান বেরিত রাইস-অ্যান্ডারসেন বিয়ালিয়াৎস্কি সম্পর্কে বলেন, তিনি নিজ দেশে গণতন্ত্র ও শান্তিপূর্ণ উন্নয়নের প্রচারে তার জীবন উৎসর্গ করেছেন।
২০১১ সালে ট্যাক্স ফাঁকির অভিযোগে বিয়ালিয়াৎস্কিকে প্রথম গ্রেপ্তার করা হয়। তবে এ অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছেন তিনি।
বেলারুশে নির্বাচনে কারচুপির বিরুদ্ধে গণআন্দোলনের পর ২০২০ সালে তাকে আবারও গ্রেপ্তার করা হয়।
নোবেল কমিটি তাদের বিবৃতিতে বলে, প্রচণ্ড ব্যক্তিগত সংগ্রামের পরও বেলারুশে মানবাধিকার ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে এতটুকু ছাড় দেননি বিয়ালিয়াৎস্কি।
দুই বছর আগে গ্রেপ্তার হওয়ার মাত্র কিছুদিন আগেই নিজের ফেসবুক পেইজে বিয়ালিয়াৎস্কি লিখেছিলেন, বেলারুশিয়ান কর্তৃপক্ষ 'দখলদারি শাসকের মতো কাজ করছে'। বেলারুশে শতশত আন্দোলনকারীকে আটক করার অভিযোগ করেন তিনি।
আরও পড়ুন: বেলারুশের মানবাধিকার কর্মী এবং রুশ ও ইউক্রেনীয় সংগঠনের শান্তিতে নোবেল জয়
উল্লেখ্য, ইউরোপের শেষ একনায়ক হিসেবে পরিচিত অ্যালেকজান্ডার লুকাশেঙ্কো ১৯৯৪ সাল থেকে লৌহহস্তে বেলারুশ শাসন করে আসছেন।
রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণের শুরু থেকেই তিনি বেলারুশের ভূমি ব্যবহার করে ইউক্রেনে মিসাইল হামলা চালাতে সাহায্য করে আসছেন তার ঘনিষ্ঠ মিত্র ভ্লাদিমির পুতিনকে।
একাত্তর/এসজে
