রাজধানীর মিরপুরে শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে ছিনতাইয়ে বাধা দেয়াতেই ছুরিকাঘাতে খুন হন সায়মন। এক বড় ভাইকে মারধোরের কল্পিত অভিযোগ এনে অভিনব প্রতারণার মাধ্যমে বন্ধুসহ তাকে ওই নির্জন জায়গায় নিয়ে গিয়েছিল তিন ছিনতাইকারী।
দুই ছিনতাইকারী গ্রেপ্তারের পর এই খুনের রহস্য উদঘাটন করে পুলিশ। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যার তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তাররা হলেন- ইউসুফ (২১) ও ইকবাল (২০)। এ সময় তাদের কাছ থেকে নগদ এক হাজার ১০০ টাকা ও একটি সুইচ গিয়ার জব্দ করা হয়।
শুক্রবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মিরপুর বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. জসীম উদ্দীন মোল্লা এই বিষয়ে বিস্তারিত জানান।
দু’মাস আগেই রাজধানীতে আসেন সায়মন। নতুন চাকরী পান একটি গার্মেন্টসে। চাকরির প্রথম বেতনের দশ হাজার টাকা নিয়ে বন্ধুদের সাথে খাওয়া দাওয়া আর কেনাকাটা করতে বেড়ে হন তিনি। ইউসুফ ও ইকবালের অভিনব প্রতারণার ফাঁদ বুঝতে পারেননি তিনি।
জসীম উদ্দীন বলেন, দু’মাস আগে বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ থেকে চাকরির খোঁজে ঢাকায় আসে সায়মন। চাচার সঙ্গে থেকে মিরপুরের একটি গার্মেন্টসে পোশাক শ্রমিকের কাজ করতেন।
প্রথম মাসের বেতনের টাকা নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে খাওয়া-দাওয়া করতে সনি সিনেমা হল এলাকায় এসেছিলেন। সায়মনের সঙ্গে ছিলেন বন্ধু রাব্বি ও হৃদয়। বেতনের ১০ হাজার টাকার মধ্যে দুই হাজার টাকা খরচ করেছিলেন। কিনেছিলেন একটি প্যান্টও।
এরপর বাসায় ফেরার পথে রাজধানীর মিরপুরে সায়মন ও তার বন্ধু রাব্বি ছিনতাইকারীদের কবলে পড়েন। ছিনতাইকারীরা তখন বলেন, সায়মন নাকি তাদের বড় ভাইকে মেরে মাথা ফাটিয়ে দিয়েছেন।
ছবি মিলিয়ে দেখার কথা বলে রিকশায় করে মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থান এলাকায় নিয়ে যায় দুই বন্ধুকে। এ সময় ছিনতাইকারীরা সায়মনকে একটু দূরে নিয়ে মোবাইল ও টাকা ছিনিয়ে নেয় এবং তাকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা সায়মনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
মিরপুর বিভাগের ডিসি জসীম উদ্দীন মোল্লা আরও বলেন, ১১ অক্টোবর এই ঘটনার পরদিন গত বুধবার ভুক্তভোগীর বাবা শাহজাহান শেখ রাজধানীর দারুস সালাম থানায় হত্যা মামলা করেন।
এরপর পুলিশ তদন্ত শুরু করে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত ইউসুফ ও ইকবালকে গ্রেফতার করা হয়। অন্য আসামিদের ধরতে অভিযান অব্যাহত আছে বলেও জানান, এই পুলিশ কর্মকর্তা।
ইউসুফ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছে। সায়মনের ছিনতাই হওয়া মোবাইলটি আড়াই হাজার টাকায় কিনে গ্রেপ্তার হয়েছে সুজন। মুরগি বিক্রেতার ছদ্মবেশে নিয়মিত ছিনতাই করছিলো তারা। তাদের আরেক সঙ্গীকেও খুঁজছে পুলিশ।
একাত্তর/এসি
