নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবার পরমাণু আশ্রয়কেন্দ্র তৈরির কথা ভাবছে জাপান। উত্তর কোরিয়ার লাগামছাড়া পরমাণু পরীক্ষা ও ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়ন তরান্বিত হওয়ায় এই পদক্ষেপ নিতে চলেছে দেশটি।
দেশটির সংসদের নিম্নকক্ষ হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভের বাজেট কমিটির বৈঠকে জাপানের প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদা বলেন, আমরা বাস্তবসম্মতভাবে পাল্টা ব্যবস্থা বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে সচেতন।
বুধবার কিশিদা'র বরাতে সংবাদমাধ্যম এনএইচকে জানায়, জাপানজুড়ে বিভিন্ন স্থাপনাকে আশ্রয়কেন্দ্র হিসাবে ব্যবহারের উপযোগী করে তোলা হবে। ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সময় এসব আশ্রয়কেন্দ্র জরুরি নিরাপত্তা দেবে।

এদিকে চিফ কেবিনেট সেক্রেটারি মাৎসুনো হিরোকাযু মঙ্গলবার সাংবাদিকদের বলেছেন, উত্তর কোরিয়ার সাম্প্রতিক বিভিন্ন পদক্ষেপের আলোকে সরকার বিশ্বাস করে যে পরমাণু ও অন্যান্য হামলা মোকাবিলা করার জন্য সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণ করা দরকার।
এর জন্য জাতীয় নিরাপত্তা কৌশলসহ জাপানের প্রতিরক্ষা আইন সংশোধন করে নেয়ার প্রক্রিয়াও চালিয়ে যাচ্ছে দেশটি।
এর আগে ৪ অক্টোবর উত্তর কোরিয়ার নিক্ষেপ করা একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র জাপানের ওপর দিয়ে উড়ে গিয়ে মহাসাগরে পড়ে। গেলো পাঁচ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো জাপানের ওপর দিয়ে ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়ে কিম প্রশাসন। এ সময় জাপানের উত্তরাঞ্চলে কিছুক্ষণের জন্য ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখা হয় এবং স্থানীয়দের নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার জন্য সতর্কতা জারি করা হয়।
সে সময় জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাইয়াশি ইয়োশিমাসা বলেছিলেন, উত্তর কোরিয়ার পরমাণু ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি সহ্য করা জাপানের পক্ষে সম্ভব নয়। উত্তর কোরিয়ার সাম্প্রতিক ধারাবাহিক পদক্ষেপগুলো জাপান’সহ এই অঞ্চল এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ।
আরও পড়ুন: দ. কোরিয়ার জলসীমায় উত্তর কোরিয়ার শতাধিক গোলাবর্ষণ
এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়াকে সঙ্গে নিয়ে উত্তর কোরিয়ার হুমকি মোকাবিলা করতে চায় জাপান। পাশপাশি নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পরমাণু আশ্রয় কেন্দ্র তৈরির করবে দেশটি।
উল্লেখ্য, গত ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে কমপক্ষে ১৫টি মিসাইল পরীক্ষা চালিয়েছে উত্তর কোরিয়া। এর মধ্যে একটি ছিল মধ্যবর্তী-পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, যা জাপানের উপর দিয়ে প্রশান্ত মহাসাগরে পড়েছিল। এই মিসাইল দিয়ে প্রশান্ত মহাসাগরে থাকা মার্কিন অঞ্চল গুয়াম এবং তারও দূরে হামলা করা সম্ভব। এসব মিসাইল পরীক্ষার কারণে টোকিও উত্তর কোরিয়ার উপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।
একাত্তর/আরবিএস
