প্রাক্তন ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত, একজন জাপানি সাংবাদিক এবং একজন অস্ট্রেলিয়ান অর্থনৈতিক উপদেষ্টাসহ প্রায় ছয় হাজার বন্দিকে মুক্তি দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী।
বৃহস্পতিবার (১৭ নভেম্বর) জান্তার এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, প্রাক্তন ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত ভিকি বোম্যান, অস্ট্রেলিয়ান অর্থনীতি উপদেষ্টা শন টার্নেল এবং জাপানি সাংবাদিক তোরু কুবোতাকে ‘জাতীয় দিবস উপলক্ষে মুক্তি দেওয়া হবে’
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশটি গত বছর সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে বিশৃঙ্খল অবস্থায় রয়েছে এবং রক্তক্ষয়ী দমন-পীড়নের ফলে ভিন্নমতের হাজার হাজার লোক জেলে গেছে। এছাড়াও অভিযানে কয়েক ডজন বিদেশী নাগরিককে আটক করা হয়েছে।
সেনাবাহিনী জানিয়েছে, সব মিলিয়ে প্রায় ৬০০ নারী বন্দীসহ পাঁচ হাজার ৭৭৪ জন বন্দীকে মুক্তি দেওয়া হবে।
তবে, ভিন্নমতাবলম্বীদের বিরুদ্ধে সামরিক বাহিনীর অভিযানের সময় ক্ষমাপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের মধ্যে কতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তা তারা জানায়নি।
বোম্যান, যিনি ২০০২ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন, আগস্টে তার স্বামীর সাথে আটক করা হয়েছিল। কারণ তিনি তার বিদেশীর নিবন্ধন সনদপত্রে তালিকাভুক্ত ঠিকানা থেকে ভিন্ন ঠিকানায় বসবাস করছেন।
পরে তাদের এক বছরের জেল হয়। তার স্বামী বিশিষ্ট শিল্পী হিতেন লিনকেও মুক্তি দেওয়া হবে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে অভ্যুত্থানের পরপরই যখন শন টার্নেলকে আটক করা হয়, তখন মিয়ানমারের বেসামরিক নেতা সু চির উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করছিলেন তিনি।
সেপ্টেম্বরে তাকে এবং সু চিকে সরকারী গোপনীয় আইন লঙ্ঘনের কারণে একটি জান্তা আদালত দোষী সাব্যস্ত করে এবং প্রত্যেককে তিন বছরের জন্য কারাদণ্ড দেয়া হয়।
২৬ বছর বয়সী কুবোতাকে জুলাই মাসে ইয়াঙ্গুনে একটি সরকারবিরোধী সমাবেশের কাছে মিয়ানমারের দুই নাগরিকের সাথে আটক করে এবং ১০ বছরের কারাদণ্ড দেয়।
আরও পড়ুন: রাশিয়া-ইউক্রেন শস্য রপ্তানি চুক্তির মেয়াদ বাড়লো
মিয়ানমারে জাপানের দূতাবাসের একটি সূত্র জানিয়েছে, জান্তা কর্তৃপক্ষ তাদের ‘জানিয়েছে কুবোতাকে আজ মুক্তি দেওয়া হবে।’
আর সামরিক জান্তা বলেছে, কুবোতা ‘আজ জাপানের উদ্দেশে রওনা হবেন।’
একাত্তর/এসজে
