প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০২৩-২০৫০ সালের জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা (এনএপি) বাস্তবায়নের প্রচেষ্টাকে সমর্থন করতে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, এজন্য মোট ২৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রয়োজন।
তিনি বলেন, ‘আমাদের অভ্যন্তরীণ এবং আন্তর্জাতিক সংস্থান থেকে আমাদের এনএপি বাস্তবায়নে ২৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রয়োজন। বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক জলবায়ু অর্থায়ন থেকে অভিযোজন এবং প্রশমনের মধ্যে ৫০-৫০ বন্টনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।’
রোববার (১১ ডিসেম্বর) সকালে প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে যোগদান করে ‘গ্লোবাল হাব অন লোকাললি লেড অ্যাডাপটেশন’ খোলার ঘোষণা দিয়ে এ কথা বলেন।
হিমালয়ের বরফ গলে নদীর গতিপথ বদলে যাওয়া বা বন্যা অথবা সমুদ্রের উচ্চতা বৃদ্ধি বা লবণাক্ততা- যে চারটি পরিমাপে জলবায়ুর বিরুপ প্রভাব বোঝা যায় তার সবকটিতে বাংলাদেশের ঝুকি এখন সবারই জানা। এই জাতীয় দুর্যোগ মোকাবেলায় কারো উপর ভরসা না করে নিজেরাই নিজেদের বিপদ মোকাবেলায় স্থানীয় আদিবাসীদের চর্চা ও জ্ঞানকে কাজে লাগানোর তরিকা নিয়েছে বাংলাদেশ।
বিশ্ব ফোরামে সকলকে সেই বার্তা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানালেন, বাংলাদেশ প্রতিদিনের সংকট মোকাবেলার পাশাপাশি পাঁচ হাজার জলবায়ু উদ্বাস্তুর জন্য বহুতল ভবন ও পুনর্বাসনের পুরা কাজটি করেছে। লাখো মানুষকে এমন আধাপাকা ঘর করে দিয়েছে, যার ফলে হঠাৎ ঝড়ে ঘরহারা মানুষের সংখ্যা কমছে।
তিনি বলেন, এখন ঘভীর সমুদ্রে মাছধরা জেলে নৌকার মাঝির কাছে আবহাওয়ার জরুরি বার্তা পৌঁছে দিতে পারে বাংলাদেশ। গ্রামীন গৃহস্থালিতে যোগ হয়েছে পরিবেশবান্ধব সৌরশক্তি। সব মিলিয়ে বাংলাদেশ এখন উদাহরণ।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকার এখন জিডিপির ছয় বা সাত শতাংশ জলবায়ু অভিযোজনে ব্যয় করে এবং সম্প্রতি ২০২৩-২০৫০ সালের জন্য ন্যাপ চালু করেছে।
কপ ১৫-এর পর বাংলাদেশ তার নিজস্ব সম্পদ দিয়ে ২০০৯ সালে একটি জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ড গঠন করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই তহবিলটি জলবায়ু অভিযোজন এবং প্রশমন উভয় ক্ষেত্রেই এ পর্যন্ত ৮০০টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘ন্যাপ আমাদের বাংলাদেশ ডেল্টা প্ল্যান ২১০০ এবং মুজিব জলবায়ু সমৃদ্ধি পরিকল্পনার আওতায় যে কাজ হচ্ছে তার পরিপূরক হবে। আমি প্যারিস চুক্তির চেতনায় এই প্রচেষ্টায় আমাদের সাথে যোগ দেয়ার জন্য আন্তর্জাতিক সরকারী এবং বেসরকারী খাত থেকে আমাদের অংশীদারদের আমন্ত্রণ জানাই।’
‘একইসঙ্গে, আমরা সমস্ত প্রধান কার্বন নির্গমনকারী দেশগুলিকে তাদের জাতীয়ভাবে নির্ধারিত অবদানের সুযোগ আরও বাড়ানোর জন্য আহ্বান জানাই,’ যোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকার আজ চালু হওয়া স্থানীয় নেতৃত্বাধীন অভিযোজন বিষয়ে গ্লোবাল হাবকে সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তা দেবে।
আরও পড়ুন: জাতীয় স্লোগানে ‘জয় বঙ্গবন্ধু’ যুক্ত করার নির্দেশনা চেয়ে রিট
তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্বব্যাপী জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের জন্য বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আরেকটি অফার পেয়ে আমরা আনন্দিত।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ঢাকায় গ্লোবাল সেন্টার অন অ্যাডাপটেশন (জিসিএ) আঞ্চলিক কার্যালয়কে এই অঞ্চল এবং এর বাইরেও শ্রেষ্ঠত্বের কেন্দ্র হিসেবে আবির্ভূত হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।
একাত্তর/এসজে
