অপহরণের দায়ে দোষী সাব্যস্ত ভারতের সাবেক সংসদ সদস্য আতিক আহমেদ ও তার ভাইকে শনিবার টিভিতে লাইভ চলাকালীন গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। গুলি চালানোর পরপরই সাংবাদিক পরিচয় দেয়া তিন হামলাকারী দ্রুত আত্মসমর্পণ করেন এবং তাদেরকে পুলিশের হেফাজতে নেয়া হয়। ঘাতকদের দাবি, অপরাধের দুনিয়ায় বিখ্যাত হতেই এ হামলা।
পুলিশের বরাতে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া ও আনন্দবাজারের খবরে বলা হয়েছে, রোববার পুলিশি জেরায় ওই তিন ঘাতক স্বীকার করেছেন যে, অনেক আগে থেকেই আতিক এবং তার ভাই আশরফকে খুন করার পরিকল্পনা ছিল তাদের।
হামলার উদ্দেশেই তারা তিন জন নকল প্রেস কার্ড তৈরি করেছিলেন। শনিবার হাতে বুম এবং ক্যামেরা নিয়ে অন্য সাংবাদিকদের ভিড়ে মিশে গিয়েছিলেন তারা।
ঘাতক লভলেশ তিওয়ারি, সানি এবং অরুণ মৌর্য সকাল থেকেই আতিক এবং আশরফের সঙ্গে ছিলেন। তারা আগে থেকেই জানতেন রোববার পর্যন্ত পুলিশি হেফাজতে থাকা আতিক এবং তার ভাইকে মেডিক্যাল পরীক্ষার জন্য প্রয়াগরাজের মতিলাল নেহরু হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হবে। সকাল থেকেই আতিকদের গতিবিধির ওপর নজর রাখছিলেন তারা।
তারা পুলিশিকে জানিয়েছেন, আতিককে মেরে অপরাধের দুনিয়ায় বিখ্যাত হতে চেয়েছিলেন তারা।

হত্যার কিছুক্ষণ আগে সাবেক সংসদ সদস্য আতিক ও তার ভাই আশরফ
এদিকে ভারতের গণমাধ্যম বলছে, এ ঘটনায় নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশকর্মীদের বিরুদ্ধে এখনও কোনো পদক্ষেপ করা হয়নি। প্রয়াগরাজের বেশ কিছু জায়গায় ইন্টারনেট সংযোগ এখনও বন্ধ রাখা হয়েছে। উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকের পর কেন্দ্রীয় সরকারকে রিপোর্ট পাঠিয়েছ রাজ্য প্রশাসন।
এর আগে শনিবার রাতে আতিককে মেডিক্যাল পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছিল উত্তরপ্রদেশের পুলিশ। রাত ১০টার পর হাসপাতালে যাওয়ার সময়ে তার ওপর হামলা হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পুলিশের সামনেই আতিক এবং তার ভাই আশরফকে লক্ষ্য করে গুলি চালান সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে আসা ঘাতকরা। এসময় তারা চিৎকার করে স্লোগানও দেয়। একাধিক টিভির লাইভ ক্যামেরায় ধরা পড়েছে সেই দৃশ্য।
এদিন ঘটনার সময় হাসপাতালের সামনেই ছিলেন আতিকের আইনজীবী বিজয়।

টিভি লাইভে আতিকের মাথায় গুলি করেন এক ঘাতক
আরও পড়ুন: কুমিল্লায় দুই ট্রেনের মুখোমুখি সংঘর্ষ, ছয় বগি লাইনচ্যুত
তিনি বলেন, পুলিশ তাদের গাড়ি থেকে নামিয়ে মেডিক্যাল পরীক্ষার জন্য নিয়ে যাচ্ছিল। তারা হাসপাতাল চত্বরে ঢোকেন এবং তখন গুলির শব্দ শোনা যায়। বিধায়ক এবং তার ভাইয়ের গায়ে গুলি লাগে। ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়।
এ ঘটনার পরেই উত্তরপ্রদেশের আইনশৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিরোধী দলগুলো। নিন্দা জানিয়েছেন, রাজ্যের প্রাক্তন দুই মুখ্যমন্ত্রী মায়াবতী এবং অখিলেশ সিংহ যাদবও।
উল্লেখ্য, কিছুদিন আগে পুলিশের সঙ্গে ‘ক্রসফায়ারে’ মৃত্যু হয় উমেশ পাল হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত আতিক-পুত্র আসাদের।
একাত্তর/আরবিএস
