সুদানের সেনাবাহিনী এবং আধাসামরিক বাহিনীর মধ্যকার লড়াইয়ে এরইমধ্যে ৪০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে অন্তত চার হাজার মানুষ। এমন পরিস্থিতিতে যুদ্ধরত দলগুলো ৭২ ঘণ্টার যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। মূলত বিদেশি নাগরিকদের সেখান থেকে নিরাপদে সরিয়ে নিতেই এ সিদ্ধান্ত।
দেশটির সশস্ত্র বাহিনী (এসএএফ) জানিয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং সৌদি আরবের মধ্যস্থতায় স্থানীয় সময় সোমবার মধ্যরাত থেকে এ যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে। খবর আল-জাজিরার।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন সোমবার বলেন, দুই দিনের আলোচনার পর যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে একমত হয়েছে দলগুলো। সুদানের সেনাবাহিনী এবং প্রতিদ্বন্দ্বী আধাসামরিক র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ) গত সপ্তাহে বেশ কয়েকবার যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিলেও তারা চুক্তি মেনে চলেনি।
ব্লিঙ্কেন আরও বলেন, এই সময়ের মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দুই পক্ষকে সম্পূর্ণরূপে যুদ্ধবিরতি বজায় রাখার জন্য অনুরোধ করেছে। যুদ্ধ বন্ধে নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, সুদানকে অতল গহ্বরের কিনারা থেকে ফিরিয়ে আনার জন্য আমাদের সকলকে এগিয়ে আসতে হবে। আমরা এই ভয়ানক সময়ে তাদের সাথে দাঁড়িয়েছি।
পাশপাশি সুদান থেকে জাতিসংঘের কর্মী এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের নিরাপদে সরিয়ে আনার বিষয়েও সম্মতি দিয়েছেন গুতেরেস।
জানা গেছে, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ মঙ্গলবার সুদান নিয়ে একটি বৈঠকের পরিকল্পনা করেছে।
এর আগে সুদানের সেনাপ্রধান আবদেল ফাত্তাহ আল-বুরহান এবং তার ডেপুটি মোহাম্মদ হামদান দাগালো, যিনি আরএসএফ-এর নেতৃত্ব দেন, তাদের মধ্যে ক্ষমতার লড়াইয়ের পর গত সপ্তাহে এ সহিংসতার সূত্রপাত হয়।

জেনারেল দাগালো বলেছেন, সমস্ত সেনা ঘাঁটি দখল না করা পর্যন্ত তার সৈন্যরা লড়াই চালিয়ে যাবে।
আরও পড়ুন: পাকিস্তানে কাউন্টার টেররিজম অফিসে বিস্ফোরণ, নিহত ১২
প্রতিক্রিয়ায় সুদানের সশস্ত্র বাহিনী ‘আধাসামরিক আরএসএফ বিলুপ্ত না হওয়া পর্যন্ত’ আলোচনায় বসতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন সেনাপ্রধান আবদেল ফাত্তাহ আল-বুরহান।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, চীন, রাশিয়া, মিশর, সৌদি আরব, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং আফ্রিকান ইউনিয়ন এ সংঘাত বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে।
একাত্তর/আরবিএস
