ভারতের উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় মণিপুর রাজ্যে চলমান সহিংসতায় বেশ কয়েকজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
শুক্রবার ইম্ফলের স্থানীয় নির্ভরযোগ্য সংবাদপত্রগুলো অন্তত ১১ জন মারা যাওয়ার খবর নিশ্চিত করেছে।
আনুষ্ঠানিকভাবে মৃতের সংখ্যা জানানো না হলেও, বেশ কয়েকজনের মৃত্যুর কথা নিশ্চিত করেছেন সেখানকার মুখ্যমন্ত্রী এন বীরেন সিং।
রাজ্যটিতে চলমান সহিংসতায় এই প্রথম প্রাণহানির কথা জানাল রাজ্য সরকার।
সেনাবাহিনী ও কেন্দ্রীয় পুলিশ বাহিনী শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত ১৫ থেকে ২০ হাজার মানুষকে উপদ্রুত এলাকা থেকে সরিয়ে নিয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন রাজ্যের পুলিশ মহানির্দেশক পি ডউঙ্গেল।
প্রায় এক হাজার জন মণিপুর থেকে আসামের কাছাড় জেলায় আশ্রয় নিয়েছেন বলে সেখানকার এসপি জানিয়েছেন।
রাজধানী ইম্ফলসহ গোটা রাজ্যে কারফিউ জারি করা হয়েছে এবং দেখা মাত্র গুলি করার নির্দেশ জারি রয়েছে।
কেন্দ্রীয় সরকার বৃহস্পতিবার রাতেই সেনাবাহিনী পাঠাতে শুরু করেছিল। শুক্রবার তারা জানিয়েছে, সহিংসতা বন্ধ করতে তারা কেন্দ্রীয় বাহিনীর আরও ২০টি কোম্পানি পাঠাচ্ছে।
বাহিনী মোতায়েন এবং আইনশৃঙ্খলার দায়িত্ব সিনিয়র কেন্দ্রীয় বাহিনীর অফিসারদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।
মণিপুরের সহিংসতার প্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ কর্ণাটকে তার নির্বাচনী প্রচার বাতিল করে মণিপুরের ওপর নজরদারি চালাচ্ছেন বলে সংবাদসংস্থা এএনআই জানিয়েছে।
স্থানীয় সাংবাদিকরা বলছেন, বৃহস্পতিবারের তুলনায় শুক্রবার অশান্তি কিছুটা কমেছে। তবে রাজধানী ইম্ফল ও সহিংসতার উৎস যে চূড়াচন্দ্রপুর, সেখানে এখনও প্রবল উত্তেজনা রয়েছে।
আরও পড়ুন: করোনা ভাইরাসের বৈশ্বিক জরুরি অবস্থা প্রত্যাহার
তবে সেনাবাহিনী মোতায়েন হওয়ার আগেই দুদিন ধরে বহু বাড়িঘর, দোকান ও গাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে। লুট হয়েছে দোকানপাট। সাত-আটটি পুলিশ থানা থেকে বন্দুক ও গুলি লুট হয়েছে।
পুলিশ মহানির্দেশক শুক্রবার জানিয়েছেন, যারা সেগুলো লুট করেছে, তারা যদি নিজে থেকে তা ফেরত দিয়ে দেয়, তাহলে তাদের শাস্তি দেওয়া হবে না। কিন্তু যারা বন্দুক ফেরত দেবে না, তাদের জাতীয় সন্ত্রাস দমন এজেন্সির তদন্তের মুখে পড়তে হবে।
একাত্তর/এসজে
