দক্ষিণ কোরিয়ায় অবতরণের সময় উড়োজাহাজের জরুরি দরজা খুলে লাফ দিতে চাওয়া এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
শুক্রবার দায়েগু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ১৯৪ যাত্রী নিয়ে নিরাপদে অবতরণ করে এশিয়ানা এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটটি। তবে অবতরণের সময়ও খোলাই ছিল দরজা।
স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, এ ঘটনার সময় কিছু যাত্রী অজ্ঞান হয়ে পড়েন এবং কয়েকজনের শ্বাসকষ্ট শুরু হলে তাদের হাসপাতালে নেয়া হয়।
বার্তাসংস্থা ইয়োনহাপ জানিয়েছে, অভিযুক্ত ৩০ বছর বয়সী ওই ব্যক্তিকে অবতরণের পর গ্রেপ্তার করা হয়।
ফ্লাইট ওজেড৮১২৪ একটি এয়ারবাস এ৩২১-২০০ জেট, যেটি শুক্রবার স্থানীয় সময় সকাল ১১টা ৪৫ মিনিটে জেজু দ্বীপ থেকে যাত্রা করে।
উড্ডয়নের প্রায় এক ঘণ্টা পর অবতরণের ঠিক আগে আগে একজন পুরুষ যাত্রী জরুরী দরজা খোলেন, যখন উড়োজাহাজটি মাটি থেকে মাত্র ২৫০ মিটার উচ্চতায় ছিল।
একজন যাত্রীর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করা ভিডিওতে উড়োজাহাজের বাম দিকে একটি ফাঁকা অংশ এবং সিটে বসা যাত্রীদের সারির মাঝখান দিয়ে বাতাস বয়ে যেতে দেখা গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা স্থানীয় গণমাধ্যমকে জানান, ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টরা তাকে থামাতে পারেনি কারণ বিমানটি অবতরণ করতে যাচ্ছিল। লোকটি দরজা খোলার পরে বিমান থেকে লাফ দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন বলে জানান তারা।
এক যাত্রী ইয়োনহাপকে বলেন, দরজার কাছে থাকা লোকজন একে একে অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার সাথে সাথে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয় এবং ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টরা উড়োজাহাজে থাকা চিকিৎসকদের ডাকতে থাকেন।
‘আমি ভেবেছিলাম বিমানটি বিস্ফোরিত হচ্ছে। আমি ভেবেছিলাম আমি এভাবেই মারা যাব’, বলেন তিনি।
জানা গেছে, ফ্লাইটে বেশ কিছু স্কুল শিক্ষার্থীও ছিল, যারা একটি ক্রীড়া ইভেন্টে যাচ্ছিলো। ‘শিশুরা কাঁপছিল, কাঁদছিল এবং ভীত ছিল’ বলে এক ছাত্রের মা ইয়োনহাপকে বলেন।
আরও পড়ুন: সিডনির ভবনে ভয়াবহ আগুন, দুই কিশোরের আত্মসমর্পণ
পুলিশ বলেছে, সন্দেহভাজন ব্যক্তি এখন পর্যন্ত তার কর্মের জন্য কোন ব্যাখ্যা দেয়নি এবং গ্রেপ্তারের সময় সে মাতালও ছিল না।
এক কর্মকর্তা বলেন, ‘তার সঙ্গে স্বাভাবিক কথোপকথন করা কঠিন। আমরা অপরাধের উদ্দেশ্য তদন্ত করব এবং তাকে শাস্তি দেব’।
একাত্তর/এসজে
