তালেবান আফগানিস্তানের দখল নেওয়ার পর ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্টুডেন্ট ভিসাসহ সব ধরনের আফগান ভিসার ক্ষেত্রে ভিসানীতিতে পরিবর্তন আনায় বিপাকে পড়েছেন আফগান শিক্ষার্থীরা।
আফগান ছাত্রী ইয়াসমিন আজিমি ভারতে তার পড়াশোনা আবার শুরু করার জন্য ভিসা পাওয়ার চেষ্টা করছেন দুই বছর ধরে। কাবুলের ২২ বছর বয়সী ওই তরুণীর দাবি, তার ভিসার আবেদন প্রত্যাখ্যান হয়েছে তিন দফায়। খবর: আল জাজিরা।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা ইন্ডিয়ান কাউন্সিল ফর কালচারাল রিলেশনস (আইসিসিআর)-এর বৃত্তির অধীনে ২০২১ সালের জানুয়ারিতে চণ্ডীগড় বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞান অধ্যয়নের জন্য স্নাতকোত্তর প্রোগ্রামে ভর্তি হয়েছিলেন ইয়াসমিন।
তবে ২০২১ সালের আগস্টে তালেবান আফগানিস্তানের দখল নেওয়ার পর ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (এমইএ) স্টুডেন্ট ভিসাসহ সব ধরনের আফগান ভিসা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়। আর এতেই ভারতে ইয়াসমিনের শিক্ষা নেওয়ার পরিকল্পনা ভেস্তে যায়।
ভিসা না পেয়ে বাধ্য হয়ে অনলাইনে কোর্সে যোগ দেন ইয়াসমিন। তবে দুর্বল ইন্টারনেটের কারণে সেখানে খুব একটা সুবিধা করতে পারছেন না তিনি। এভাবে কেটে গেছে আট মাস।
ইয়াসমিন বলেন, কোনও ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া নেই। এভাবে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব না।
তালেবান আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখল করার পর দিল্লির সঙ্গে কাবুলের কূটনৈতিক সম্পর্ক ভেঙে যায়। ভারত সরকার তার কাবুল দূতাবাসও বন্ধ করে দিয়েছে। গত আগস্টে দিল্লি তার দূতাবাসে সীমিত কার্যক্রম পুনরায় শুরু করলেও ভিসা সুবিধা এখনও চালু হয়নি।
আফগান নাগরিকদের ই-ভিসা প্রোগ্রামের অধীনে আবেদন করার নির্দেশ দিয়েছে দিল্লি। তবে এ ক্ষেত্রে ভিসার মেয়াদ কেবল ছয় মাসের জন্য, বিরল পরিস্থিতিতেই দেওয়া হয় এই ভিসা। গত বছর মাত্র ৩০০ আফগানকে ই-ভিসা দেওয়া হয়েছিল।
ই-ভিসার জন্য আবেদন করা সহজ। ভারতের কোনও প্রতিষ্ঠান থেকে বিজনেস কার্ড, আইডি এবং আমন্ত্রণপত্রের মতো মৌলিক নথি থাকলে ই-ভিসার জন্য আবেদন করা যায়।
আরও পড়ুন: হাসিনা ও মোদিকে আম পাঠাচ্ছেন মমতা
দিল্লিতে আফগান দূতাবাস জানিয়েছে, ভিসা না পাওয়ার কারণে ভারতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এবং কলেজগুলোতে নথিভুক্ত ২ হাজার ৫০০ জনের বেশি শিক্ষার্থী আফগানিস্তানে আটকে আছে। বাধ্য হয়ে আফগান শিক্ষার্থীরা এখন ইউরোপ, তুরস্ক, ইরান ও পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আবেদন করতে শুরু করেছে।
একাত্তর/জো
