প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে শুরু হয়েছে এল নিনো। আর তাই আসছে বছর হতে পারে বিশ্ব ইতিহাসের উষ্ণতম বছর।
বৃহস্পতিবার এমন আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওশানিক এন্ড অ্যাটমসফেরিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (নোয়া) বিজ্ঞানীরা। এমনটা হলে কী ঘটতে পারে এল নিনোর প্রভাবে?
আবহাওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ এল নিনো। মূলত প্রশান্ত মহাসাগরের উপরিভাগের পানির তাপমাত্রা অতিরিক্ত বেড়ে গিয়ে আবহাওয়াকে প্রভাবিত করাকেই এল নিনো বলে।
নোয়ার পরিবেশ বিজ্ঞানী টম ডি লিবার্টো বলেন, এল নিনো কোনো ঝড় নয়। এখনই এটি আঘাত করছে না। এটা পুরো আবহাওয়ার ধরণটাই বদলে দেয়। এর একটা দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব থাকে।
কাজেই, আমরা যদি বলি, শক্তিশালী এল নিনো আসছে, তার অর্থ হলো, এর প্রভাব হবে শক্তিশালী আর তা থাকবে লম্বা সময় ধরে, বলেন তিনি।
এল নিনো সাদার্ন অসিলেশন বা সংক্ষেপে এনসোর তিনটি পর্যায় রয়েছে- গরম, ঠাণ্ডা ও নিরপেক্ষ।
এল নিনো নামক গরম পর্যায়টি প্রতি দুই থেকে সাত বছর অন্তর ঘটে। এর ফলে উষ্ণ জল দক্ষিণ আমেরিকার উপকূলে পৃষ্ঠে উঠে এসে সমুদ্রজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে এবং বায়ুমণ্ডলে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে তাপ ঠেলে দেয়।
বিশ্বের আবহাওয়া সংস্থাগুলো এই গরম পর্বটি কখন শুরু হবে তা নির্ধারণ করতে বিভিন্ন মানদণ্ড ব্যবহার করে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞানীদের সংজ্ঞা অনুযায়ী, সমুদ্রকে এক মাসের জন্য স্বাভাবিকের চেয়ে শূন্য দশমিক পাঁচ ডিগ্রি বেশি গরম হতে হবে, বায়ুমণ্ডলকে এই তাপের প্রতিক্রিয়া দেখাতে হবে এবং ঘটনাটি বজায় থাকার প্রমাণ থাকতে হবে।
মার্কিন বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, এরই মধ্যে এল নিনো শুরু হয়েছে। বৈশ্বিক উষ্ণতা এরই মধ্যে বেড়েছে নজিরবিহীনভাবে। তাই এই এল নিনো এক দশমিক পাঁচ ডিগ্রির মাইলস্টোনকে স্পর্শ করাতে সাহায্য করতে পারে।
লিবার্টোর মতে, পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে, এল নিনোর প্রভাবে ২০২৪ সালে গরমের রেকর্ড ভাঙবে। ২০১৬ সালের পর এবার সবচেয়ে শক্তিশালী এল নিনো লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তবে কোনো কিছুই নিশ্চিত করে বলা যায় না।
বলা হচ্ছে, এল নিনো বৈশ্বিক আবহাওয়ায় ব্যাপকভাবে প্রভাব ফেলতে পারে। অস্ট্রেলিয়ায় দেখা দিতে পারে খরা। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চলে দেখা দিতে পারে ভারি বর্ষণ। দুর্বল হতে পারে ভারতে বর্ষা ঋতু। দাবদাহ দেখা দিতে পারে অ্যামাজনে। শুধু তাই নয়, ঝুঁকি বাড়বে সাইক্লোন ও বন্যার।
আরও পড়ুন: দাবানলে জ্বলছে কানাডা, যুক্তরাষ্ট্রের বহু জায়গায়ও বায়ুদূষণ
বিজ্ঞানীরা বলছেন, এরই মধ্যে আবহাওয়ার ধরণ নির্ধারণকারী পরিস্থিতি এল নিনো এবং লা নিনার মধ্যে ভারসাম্য নষ্ট হতে দেখা যাচ্ছে। সাগরের এক অংশের চেয়ে বেশি তাপমাত্রা বাড়ছে আরেক অংশে। তাই নষ্ট হচ্ছে এই ভারসাম্য।
তবে আগামী বসন্ত পর্যন্ত এই এল নিনোর প্রভাব থাকবে। তারপর ধীরে ধীরে আবহাওয়ায় এর প্রভাব কমে যাবে। আর পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে আছে বলেও জানিয়েছে নোয়া।
একাত্তর/এসজে
