জাপানে একটি সামরিক প্রশিক্ষণ রেঞ্জে এক প্রশিক্ষণার্থীর গুলিতে দুই সৈন্য নিহত এবং অন্য একজন আহত হয়েছে।
বুধবার গিফুতে একটি শুটিং ড্রিল চলাকালীন ১৮ বছর বয়সী এক প্রশিক্ষণার্থী প্রশিক্ষকদের উপর আটবার গুলি চালান। তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
নিহতদের মধ্যে ২৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তি রয়েছেন বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। তবে বিশোর্ধ ও পঞ্চাশোর্ধ বাকি দুই ভুক্তভোগীর পরিচয় এখনো জানা যায়নি।
জাপানের গ্রাউন্ড সেলফ-ডিফেন্স ফোর্স জানিয়েছে, এ ঘটনায় কোনো বেসামরিক নাগরিক জড়িত ছিল না।
তারা বলেছে, নতুন সদস্য এবং সম্ভাব্য প্রার্থীদের জন্য একটি লাইভ-ফায়ার প্রশিক্ষণের সময় এই গুলি চালানো হয়। সন্দেহভাজন ব্যক্তি গত এপ্রিল মাসে সেনাবাহিনীতে যোগ দেন।
গুলি চালানোর পর বেশ কয়েকজন সৈন্যকে একে অপরকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে দেখা গেছে বলে একজন বাসিন্দা স্থানীয় গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন।
জাপানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান বলেছেন, হামলার পর দেশজুড়ে লাইভ ফায়ার এবং বিস্ফোরক প্রশিক্ষণ মহড়া স্থগিত করা হয়েছে।
জাপানে বন্দুক সহিংসতা অত্যন্ত বিরল হলেও, গত এক বছরে কিছু উল্লেখযোগ্য ঘটনা ঘটেছে।
প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে গত জুলাইয়ে একটি রাজনৈতিক সমাবেশে এক বিক্ষোভকারীর গুলিতে নিহত হন। আবে জাপানের সবচেয়ে দীর্ঘ মেয়াদী প্রধানমন্ত্রী ছিলেন এবং তার মৃত্যু দেশটিকে গভীরভাবে শোকাহত করেছে।
এরপর এই এপ্রিলে জাপান আবার বিশৃঙ্খল হয়ে পড়ে, যখন প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদার প্রচারণা অনুষ্ঠানে একটি ধোঁয়া বোমা নিক্ষেপ করার পর অক্ষত অবস্থায় বেঁচে যান।
আরও পড়ুন: ঘূর্ণিঝড় বিপর্যয়: গুজরাটে রেড অ্যালার্ট জারি
জাপানি গণমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে পুলিশ এবং জরুরী যানবাহনকে গিফু শহরের প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের চারপাশে রাস্তা বন্ধ করে দিতে দেখা গেছে।
জাপানের প্রধান মন্ত্রিপরিষদ সচিব মাৎসুনো হিরোকাজু বলেছেন, তিনি গুলি করার বিষয়ে অবগত রয়েছেন এবং ঘটনাটি এখনও তদন্তাধীন।
একাত্তর/এসজে
