স্বপ্নের সাথে বাস্তবতার এক অভূতপূর্ব মেলবন্ধন পদ্মাসেতু। দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের সাথে শুধু যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নই হয়নি, বেড়েছে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও।
উদ্বোধনের এক বছরে দেশের সবচেয়ে বড় এই সেতু আয় করেছে প্রায় আটশ' কোটি টাকা। আর এই আয় থেকেই ৬৩২ কোটি টাকার ঋণ পরিশোধ করেছে সেতু কর্তৃপক্ষ।
নানা চড়াই উৎরাই পার করে বাংলার মানুষের স্বপ্নের বাস্তবায়ন ঘটে নিজস্ব টাকায় পদ্মা সেতু নির্মানের মধ্যে দিয়ে। গেল বছর ২৫ জুন সেতুটির উদ্বোধন করা হয়।
আর বাণিজ্যিক চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হয় ২৬ জুন। ক্যালেন্ডারের পাতা বলছে এক বছর পার করলো দেশের সবচেয় বড় এই সেতু।
সেতুতে প্রতিদিন গড়ে ৭ হাজার যান চলাচল করবে, এমন ধারণা করা হলেও তা ১১ হাজারের উপরে থেকেছে বছরের বেশিরভাগ সময়ই। ফলে এক বছরে আয় ৭৯৪ কোটি টাকার বেশি।
আর প্রতিদিন গড় টোল আদায় হয়েছে ২ কোটি ৮ লাখ ৪৯ হাজার ৩৮৭ টাকা। প্রতিদিনই এই পথে যানবাহণের সংখ্যা বাড়ছে।
কারণ হিসেবে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে শিল্পায়ন ও নানা অর্থনৈতিক কর্মকান্ডকেই সামনে আনছেন কর্তৃপক্ষ। শুধু সেতুর আয় নয়, গতি পেয়েছে ওসব অঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড।
নদী শাসনের কাজ শেষ হতে আরো কিছু সময় লাগবে। তবে এরই মধ্যে আরো এক দফায় এক হাজার ৫২৫ কোটি ৬১ লাখ টাকা বাড়ানো হয়েছে ব্যয়।
যা ডলারের দাম বৃদ্ধির কারণেই হয়েছে বলে জানান প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা। প্রমত্তা পদ্মার বুকে এই সেতু নিজেদের সক্ষমতার বড় একটি পদক্ষেপ হিসেবেই দাঁড়িয়ে থাকবে।
এ সেতু এশিয়ান হাইওয়ের সঙ্গেও যুক্ত করেছে বাংলাদেশকে। সেতু নিয়ে দেশের স্বপ্ন আকাশচুম্বী। পদ্মা সেতু একদিন ট্রান্স এশিয়ান রেলওয়ের অংশ হবে।
সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, মিয়ানমার হয়ে বাংলাদেশের পদ্মা সেতু পেরিয়ে ভারত পাকিস্তান ঘুরে ইউরোপ যাবে ট্রেন। এই স্বপ্ন হয়তো সত্যি হতে আর বেশি দেরি নেই।
একাত্তর/আরবিএস
