দক্ষিণ কোরিয়া থেকে সীমান্ত অতিক্রম করে উত্তর কোরিয়ায় পালিয়ে যাওয়া মার্কিন সেনাসদস্যের মুক্তির ব্যাপারে আলোচনার প্রচেষ্টায় পিয়ংইয়ং সাড়া দিচ্ছে না বলে জানিয়েছে ওয়াশিংটন।
বৃহস্পতিবার পেন্টাগন উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র। তবে উত্তর কোরিয়া তাতে এখনও সাড়া দেয়নি বলে ধারণা করছেন তিনি।
এর আগে, মঙ্গলবার প্রাইভেট ট্র্যাভিস কিং উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়াকে বিভক্তকারী ডিমিলিটারাইজড জোন (ডিএমজেড) অতিক্রম করেন।
তার বর্তমান অবস্থান বা পরিণতি সম্পর্কে উত্তর কোরিয়ার কাছ থেকে এখন পর্যন্ত কোনও সাড়াশব্দ পাওয়া যায়নি।
উত্তর কোরিয়া সাম্প্রতিক সময়ে পরমাণু ওয়ারহেড বহন করতে সক্ষম শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালানোর ফলে দেশটির সাথে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের অবনতি ঘটেছে।
‘গ্রেপ্তারের ক্রমাগত গুরুতর ঝুঁকি’ এবং ‘অন্যায়ভাবে আটকে রাখার গুরুতর হুমকির’ কারণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তার নাগরিকদের উত্তর কোরিয়ায় ভ্রমণ না করার পরামর্শ দেয়। এটি পৃথিবীর সবচেয়ে বিচ্ছিন্ন দেশগুলোর মধ্যে একটি।
প্রাইভেট কিং সেনাবাহিনী ত্যাগ করেছেন, নাকি ফিরে আসার আশা করছেন তা এখনও স্পষ্ট নয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের নিম্ন-পদস্থ সৈনিককে নিয়ে প্রোপাগান্ডা বা গোয়েন্দা তথ্যের খুব একটা মূল্য নেই, যা উত্তর কোরিয়াকে তাকে মুক্তি দিতে প্ররোচিত করতে পারে। তবে তার কী হবে তা অত্যন্ত অনিশ্চিত রয়ে গেছে।
এই ধরনের ঘটনার কোনও নজির না থাকার কারণে পরবর্তী পদক্ষেপের পূর্বাভাস পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। সর্বশেষ কোনও মার্কিন সৈন্য উত্তর কোরিয়ায় চলে গিয়েছিলেন কয়েক দশক আগে।
পিয়ংইয়ংয়ের মার্কিন যোগাযোগের প্রচেষ্টায় সাড়া না দেয়া অনিশ্চয়তাকে আরও বাড়িয়ে তুলছে।
আরও পড়ুন: শস্যবাহী জাহাজে রুশ হামলার হুমকিতে বিশ্বব্যাপী বাড়ল গমের দাম
শাস্তিমূলক ব্যবস্থার মুখোমুখি হতে প্রাইভেট কিংয়ের তার কর্মস্থল দক্ষিণ কোরিয়া থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যাওয়ার কথা ছিল।
তবে মঙ্গলবার সিউলের কাছে ইঞ্চিওন বিমানবন্দরে তিনি উড়োজাহাজে না চড়ে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে উত্তর কোরিয়ায় চলে যান। কীভাবে তিনি এটি করতে পেরেছিলেন তা এখনও অস্পষ্ট।
একাত্তর/এসজে
