নাইজারের প্রেসিডেন্সিয়াল গার্ডের সৈন্যদের দ্বারা প্ররোচিত একটি অভ্যুত্থানের প্রতি সমর্থন ঘোষণা করেছে দেশটির সেনা কমান্ড। দেশকে অস্থিতিশীল হওয়া থেকে রক্ষা করাই তাদের উদ্দেশ্য বলে দাবি করেছে তারা।
বৃহস্পতিবার সেনাবাহিনী প্রধানের সই করা এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ও তার পরিবারের ‘শারীরিক অখণ্ডতা রক্ষা করা’ এবং ‘একটি মারাত্মক সংঘর্ষ এড়ানোর প্রয়োজন ছিল...যা রক্তপাতের সৃষ্টি করতে পারে এবং জনগণের নিরাপত্তাকে প্রভাবিত করতে পারে’।
অভ্যুত্থানের শত শত সমর্থক রাজধানী নিয়ামে ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির সামনে জড়ো হন। কেউ কেউ রাশিয়ান পতাকা উড়িয়ে ফরাসিবিরোধী স্লোগান দিয়েছেন, যা প্রাক্তন ঔপনিবেশিক শক্তি ফ্রান্স এবং সাহেল অঞ্চলে এর প্রভাবের প্রতি ক্রমবর্ধমান ক্ষোভের প্রতিধ্বনি।
প্রেসিডেন্ট মোহামেদ বাজুম এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাসুমি মাসউদু এর আগে দেশের গণতান্ত্রিক শক্তিকে ক্ষমতা দখল প্রতিরোধ করার আহ্বান জানিয়েছিলেন, কারণ পশ্চিমা কর্মকর্তারা বলেছিলেন যে অভ্যুত্থানের প্রচেষ্টার অবস্থা অস্পষ্ট ছিল।
সৈন্যরা গভীর রাতে টেলিভিশনে প্রচারিত ভাষণে বলেছে, বাজুমকে ক্ষমতা থেকে সরানো হয়েছে এবং প্রজাতন্ত্রের প্রতিষ্ঠানগুলো স্থগিত করা হয়েছে। এটি ২০২০ সাল থেকে পশ্চিম ও মধ্য আফ্রিকায় সপ্তম অভ্যুত্থান।
এর আগে, তারা রাজধানী নিয়ামে প্রেসিডেন্টের প্রাসাদ ঘিরে ফেলে তাকে ভেতরে অবরুদ্ধ করে ফেলে।
বৃহস্পতিবার সকালে একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে, সাহেল অঞ্চলে বিদ্রোহের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সাহায্যকারী পশ্চিমা দেশগুলোর মিত্র নাইজারে গণতান্ত্রিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দেন বাজুম।
মাসুদুও ‘গণতন্ত্রী এবং দেশপ্রেমিকদের অভ্যুত্থানের প্রচেষ্টা’ ব্যর্থ করার আহ্বান জানান সামাজিক যোগাযোগ প্ল্যাটফর্ম এক্স-এ, যেটি আগে টুইটার নামে পরিচিত ছিল।
প্রতিবেশী মালি এবং বুরকিনা ফাসোর জান্তারা যথাক্রমে ২০২০ এবং ২০২২ সালে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে রাশিয়ার সাথে তাদের ঘনিষ্ঠতা বেড়েছে।
আরও পড়ুন: এলিয়েন নিয়ে মার্কিন কংগ্রেসের ঐতিহাসিক বৈঠক
এই অঞ্চলে সহিংস বিদ্রোহের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সাহায্যকারী পশ্চিমা শক্তিগুলোর জন্য নাইজারের ভূমিকা ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ফ্রান্স গত বছর মালি থেকে তাদের সৈন্য নাইজারে সরিয়ে নেয়।
বাজুমের কাছ থেকে কে দায়িত্ব নেবেন তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট হয়নি। প্রেসিডেন্সিয়াল গার্ডের নেতৃত্বে আছেন জেনারেল ওমর তচিয়ানি, কিন্তু টেলিভিশনে বিবৃতিটি পড়েন বিমানবাহিনীর কর্নেল আব্রামানে।
একাত্তর/এসজে
