আফ্রিকাতে আমেরিকার আধিপত্য অনেক দিন ধরেই হুমকির মুখে। মহাদেশটিতে ক্রমেই নিজেদের শক্তি বাড়াচ্ছে রাশিয়া ও চীন। এবার নাইজারের একটি বিমান ঘাঁটিতে প্রবেশ করেছে রুশ সেনারা, সেখানে অনেক আগ থেকেই অবস্থান করছিলো আমেরিকার একটি সেনাবহর। খবর বিবিসির।
মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নাইজারের একটি বিমান ঘাঁটিতে রুশ সেনা মোতায়েন করা হয়েছে, যেখানে আমেরিকান সৈন্যরা অবস্থান করছে। নাইজারের সামরিক শাসকরা দেশে ইসলামি বিদ্রোহীদের প্রতিরোধে নিয়োজিত সেনা প্রত্যাহারের জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে নির্দেশ দেয়ার পরে এই পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।
রুশ বাহিনী নাইজারের রাজধানী নিয়ামে বিমানঘাঁটিতে অবস্থান নিলেও সেখানে আগে থেকেই থাকা মার্কিন সেনাদের সঙ্গে কোনো ধরনের মেলামেশা করা থেকে বিরত রয়েছে। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী লয়েড অস্টিন বলেছেন, রাশিয়া মার্কিন বাহিনীর জন্য কোন ঝুঁকি তৈরি করেনি।

হাওয়াইয়ের হনলুলুতে সাংবাদিকদের কাছে অস্টিন বলেন, রাশিয়ানরা একটি আলাদা কম্পাউন্ডে রয়েছে এবং মার্কিন বাহিনীর কাছে তাদের প্রবেশ নিষিদ্ধ এবং একইভাবে রুশ শিবিরেও মার্কিন সেনাদের প্রবেশ নিষিদ্ধ। তিনি আরও জানান, মার্কিন সেনাদের সমরভান্ডারেও রুশ সেনাদের প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে না।
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী অস্টিন বলেন, এয়ারবেজ ১০১-এ মার্কিন বাহিনী আছে। এটি নাইজার বিমানবাহিনীর একটি ঘাঁটি। সেখানকার একটি আলাদা কম্পাউন্ডে রাশিয়ার লোকজন আছে। তবে এই মুহূর্তে তিনি সেখানে মার্কিন বাহিনীর নিরাপত্তা, সুরক্ষার ক্ষেত্রে বড় কোনো সমস্যা দেখতে পাচ্ছেন না।
‘এয়ারবেজ ১০১’ নামের বিমানঘাঁটি নাইজারের রাজধানী নিয়ামের ডিওরি হামানি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছেই অবস্থিত। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ঊর্ধ্বতন মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা জানান, বিমানঘাঁটিতে রুশ সেনাদের উপস্থিত রয়েছে। তবে বিমানঘাঁটিতে মুখোমুখি পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।

নাইজার জান্তা সরকার গত মার্চে তাদের দেশে অবস্থানরত প্রায় এক হাজার মার্কিন সেনাকে সরে যেতে বলে। গত বছরের জুলাইতে সামরিক অভ্যুত্থানের আগে নাইজার ছিল যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম অংশীদার। তারা একসঙ্গে আফ্রিকার সাহেল অঞ্চলে আইএস ও আল-কায়েদা জঙ্গিদের বিরুদ্ধে লড়াই করছিল।
রাশিয়ার এ পদক্ষেপ নাইজারে মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোর ভবিষ্যত নিয়েও প্রশ্ন সৃষ্টি করেছে। এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, পরিস্থিতি ভালো নয়। তবে স্বল্প মেয়াদে তা ব্যবস্থাপনাযোগ্য। এ ব্যাপারটি নিয়ে ওয়াশিংটনে নাইজার ও রুশ দূতাবাস কোনো মন্তব্য করেনি।
আফ্রিকার কয়েকটি দেশে সামরিক অভ্যুত্থানের পর মহাদেশটির বেশ কয়েকটি রাষ্ট্র থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা সেনা প্রত্যাহারে বাধ্য হয়েছে। নাইজার ছাড়াও সাম্প্রতিক সময়ে শাদ থেকেও যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী সরে গেছে। আর ফরাসি সেনারা বিদায় নিয়েছে মালি ও বুরকিনা ফাসো থেকে।
