একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধে আমৃত্যু কারাদণ্ড পাওয়া জামায়াতে ইসলামীর নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর চিকিৎসা নিয়ে ব্রিফিং স্থগিত করেছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) কর্তৃপক্ষ।
বুধবার সকালে এক বার্তায় বিএসএমএমইউ জানায়, অনিবার্য কারণে সাঈদীর চিকিৎসা নিয়ে নির্ধারিত সংবাদ সম্মেলন স্থগিত করা হলো।
এর আগে মঙ্গলবার প্রতিষ্ঠানটির জনসংযোগ বিভাগ থেকে এক বার্তায় সংবাদ সম্মেলন করা হবে বলে জানানো হয়েছিল।
এদিকে সাঈদীর মৃত্যুতে বিএসএমএমই ’র হৃদরোগ বিভাগের অধ্যাপক ডা. এসএম মোস্তফা জামানকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ব্যাপারে তিনি ধানমন্ডি থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন।
ডা. মোস্তফা সাংবাদিকদের বলেছেন, আমরা সবার সমান চিকিৎসা দিয়ে থাকি। উনার (সাঈদী) ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে, কোনো ব্যতয় ঘটেনি। আমরা রোগীকে কোনো ভুল চিকিৎসা দেইনি। অপচিকিৎসার যে প্রোপাগান্ডা ছাড়নো হচ্ছে সেরকম কিছু হয়নি। তারপরও আমাকে উদ্দেশ্য করে কিছু প্রোপাগান্ডা, মিথ্যা গুজব দিনভর ছড়ানো হয়েছে। দেওয়া হয়েছে প্রাণনাশের হুমকিও।
তারও আগে সাঈদীর মৃত্যুর খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে আক্রান্ত হয়েছেন সাংবাদিকরা। তাদের অভিযোগ, জামায়াত-শিবিরের ক্যাডাররা তাদের ওপর হামলা করেছেন। মানবতা বিরোধী অপরাধের কয়েকটি মামলায় সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসেন সাঈদীকে যুদ্ধাপরাধী বলায় তারা ক্ষুব্ধ হন এবং আক্রমণ করেন। আহত কয়েকজন সাংবাদিক হাসপাতালে ভর্তি আছেন।
গত ১৩ আগস্ট গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে অসুস্থ অবস্থায় ঢাকায় এনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালের হৃদরোগ বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক চৌধুরী মেশকাত আহমেদের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৪ আগস্ট রাত আটটা ৪০ মিনিটে সাঈদী মারা যান।
হত্যা, ধর্ষণ, লুটপাট, নির্যাতন ও ধর্মান্তরে বাধ্য করার মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ২০১৩ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সাঈদীকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। পরে সাজা কমিয়ে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেয় আপিল বিভাগ।
ওই রায়ের পর দেশজুড়ে সহিংসতা চালায় জামায়াত ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের কর্মীরা। ওই তাণ্ডবে প্রথম তিন দিনেই নিহত হন অন্তত ৭০ জন। এছাড়া বহু গাড়ি-দোকানপাট ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ, হিন্দুদের মন্দির-ঘরবাড়ি ভাঙচুর করা হয়।
একাত্তর/এসি
