আবারও খবরের শিরোনামে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের আইকনিক মিনার- আইফেল টাওয়ার। দু’দিন আগেই এই স্থাপনাটি উড়িয়ে দেয়ার হুমিক দিয়েছিলো এক ব্যক্তি। এ নিয়ে হইচই শেষে হতে না হতেই আবারও শিরোনামে এসেছে আইফেল টাওয়ার।
দুই ব্যক্তি মাতাল অবস্থায় আইফেল টাওয়ারে চড়ে সেখানেই ঘুমিয়ে পড়ে। পুলিশ গিয়ে ঘুম থেকে জাগাতেই তুলতেই টাওয়ার থেকে ঝাঁপ দেন। আর এ ঘটনায় এখনো তোলপাড় প্রেমের শহর হিসাবে খ্যাত প্যারিস। আইফেল টাওয়ারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন প্যারিসবাসী।
বার্তা সংস্থা এএফপি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, সোমবার আইফেল টাওয়ারের মধ্যে দু'জনকে শুয়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেয় পর্যটকদের একাংশ। সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সেখানে ছুটে যায়। পর্যটকদের ওই মিনার চত্বর থেকে কিছুক্ষণের জন্য বের করে দেন তারা।
কিন্তু, ওই দুই ব্যক্তিকে আইফেল টাওয়ার থেকে নামাতে গিয়ে রীতিমতো হিমশিম খেতে হয়েছে ফরাসি পুলিশকে। নীচে জাল পেতে নানা ভাবে তাদের নামানোর চেষ্টা করে তারা। শেষে উপর থেকে জালের উপর ঝাঁপ দেন ওই দু'জন। পরে তাদের গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায় পুলিশ।
ফরাসি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার দুই অভিযুক্ত আমেরিকার নাগরিক। পুলিশের ধারণা, রোববার আইফেল টাওয়ার চত্বরে ঢোকেন ওই দু'জন। সেখানকার রেস্তোরাঁয় মদপান করেন তারা। এরপরই মত্ত অবস্থায় টাওয়ারের উপরে ওঠেন ওই দু'জন।
গত শনিবার বিস্ফোরণের হুমকি আসায় আইফেল টাওয়ার চত্বর ফাঁকা করতে হয়েছে পুলিশকে। টাওয়ারের তিনটি তলার রেস্তোরাগুলো সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়া হয়। গোটা এলাকা ঘিরে ফেলে দীর্ঘ সময় ধরে তল্লাশি চালায় বম্ব স্কোয়াড। যদিও বিস্ফোরক জাতীয় কিছু উদ্ধার হয়নি।
উল্লেখ্য, আইফেল টাওয়ার বিশ্বের পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় একটি স্থান। ঐতিহ্যবাহী মিনার দেখতে বছরে প্রায় ৭০ লাখ পর্যটকের পা পড়ে প্যারিসে। ফরাসি বিপ্লবের প্রায় শতবর্ষের মাথায় ১৮৮৭ সালের জানুয়ারিতে শুরু হয় আইফেল টাওয়ারের নির্মাণ কাজ। আর, ১৮৮৯ সালের ৩১ মার্চ আইফেল টাওয়ার তৈরির কাজ শেষ করে ফরাসি প্রশাসন।
একাত্তর/এআর
