রাশিয়ার ভাড়াটে সেনাদল ওয়াগনার গ্রুপের প্রধান ইয়েভগেনি প্রিগোজিনের মৃত্যুর পর বাহিনীটির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। কে হচ্ছেন ওয়াগনারের নতুন বস, তা জানতে রুশ মিত্ররা এখন তাকিয়ে আছে মস্কোর দিকে। অনেকেরই আশঙ্কা, প্রিগোজিনের মৃত্যুতে ঝুঁকিতে পড়তে পারে আফ্রিকার কয়েকটি দেশ।
প্রিগোজিনের মৃত্যুর একদিন আগে একজন রুশ কর্মকর্তা লিবিয়ায় যান এবং মিত্রদের আশ্বস্ত করেন যে, ওয়াগনার যোদ্ধারা সেখানে তাদের কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে, তবে তা হবে মস্কোর নিয়ন্ত্রণে।
মঙ্গলবার বেনগাজিতে এক বৈঠকে রাশিয়ার উপ-প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইউনুস-বেক ইয়েভকুরভ পূর্ব লিবিয়ার কমান্ডার খলিফা হাফতারকে জানান, ওয়াগনার গ্রুপ একজন নতুন কমান্ডার নিয়োগ দেবে। শুক্রবার লিবিয়ার একজন সরকারি কর্মকর্তার বরাতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউটের লিবিয়া বিষয়ক গবেষক জালেল হারচাওই বলেন, ইয়েভকুরভের সফর এই ইঙ্গিত দেয় যে, লিবিয়ায় রাশিয়া অবস্থান সংকুচিত হওয়ার পরিবর্তে গভীর এবং প্রসারিত হতে পারে।
অন্যদিকে আফ্রিকায় ওয়াগনার প্রায় আগের অবস্থানেই থাকতে পারে বা অন্য কোনো রুশ ভাড়াটে গোষ্ঠীর অধীনে চলে যেতে পারে। যদিও বাহিনীটিকে নিয়ন্ত্রণে ক্ষেত্রে মস্কোর কোনো আনুষ্ঠানিক বা আইনগত ভিত্তি নেই, যা ক্রেমলিনের বৈদেশিক নীতির সাথে সামঞ্জস্য।
মার্কিন গবেষক জন লেচনার বলেন, ওয়াগনার একটি চলমান উদ্বেগের বিষয়। ভাড়াটে বাহিনীটি চুক্তি অনুযায়ী কাজ করে। এটি একটি ব্যবসা এবং তারা তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাবে।
তিনি আরও বলেন, বিশ্বাসযোগ্যতার দৃষ্টিকোণ থেকে (ওয়াগনার) এমনভাবে কাজ করার চেষ্টা করবে যেন সবকিছু স্বাভাবিকভাবে চলছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন ভাড়াটে বাহিনীটি নতুন নেতৃত্বে আগের মতোই তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাবে।
মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রের প্রেসিডেন্ট ফস্টিন-আর্চেঞ্জ তোয়াদেরার রাজনৈতিক উপদেষ্টা ফিদেল গৌয়ান্দজিকা প্রিগোজিনের মৃত্যুকে 'একটি দুঃখজনক ঘটনা' উল্লেখ করে শোক প্রকাশ করেছেন। তার মতে, ওয়াগনার গ্রুপ দেশটির 'গণতন্ত্রকে বাঁচাতে সহায়তা করেছিল'।
তিনি আরও বলেন, প্রিগোজিন একজন মৃত নেতা, আমরা তাকে প্রতিস্থাপন করতে পারি।
তবে বুর্কিনা ফাসোর রাজনৈতিক বিশ্লেষক উসমানে পারে বলছেন, প্রিগোজিনের মৃত্যুর ফলে আফ্রিকায় অনশ্চিয়তা ও ঝুঁকি বেড়েছে।
এর আগে গেলো বুধবার রাশিয়ার রাজধানী মস্কোর উত্তর-পশ্চিমের টিভের এলাকায় উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়ে নিহত হয়েছে ৬২ বছর বয়সী প্রিগোজিন। এই ঘটনাটি সেইদিনই ঘটেছে, যেদিন রুশ জেনারেল সের্গেই সুরোভিকিনকে বিমান বাহিনীর প্রধানের পদ থেকে বরখাস্ত করা হয়।
ওয়াগনার প্রধান ইয়েভগেনি প্রিগোজিনের মৃত্যুর ২৪ ঘণ্টা পর এ নিয়ে মুখ খুললেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তিনি বলেছেন, ভাড়াটে গোষ্ঠীর প্রধান একজন 'প্রতিভাবান ব্যক্তি' যিনি 'জীবনে গুরুতর ভুল করেছিলেন'।
দুই মাস আগে যখন প্রিগোজিন ও তার ওয়াগনার সেনারা রাশিয়ার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে বসে, তখন কোনো রাখঢাক ছাড়াই এ সম্পর্কে নিজের চিন্তাভাবনা প্রকাশ করেছিলেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তিনি একে 'বিশ্বাসঘাতকতা' ও রাশিয়ার 'পিঠে ছুরিকাঘাত' আখ্যা দিয়ে দোষীদের শাস্তি দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।
গ্রিসে দাবানল: ৭৯ অগ্নিসংযোগকারী গ্রেপ্তার