এক ছাতার নিচে আসছে চট্টগ্রাম বন্দরকেন্দ্রিক সব কার্যক্রম। বন্দর কর্তৃপক্ষ চালু করতে যাচ্ছে ওয়ান স্টপ সার্ভিস। এরইমধ্যে শুরু হয়েছে অবকাঠামো নির্মাণ কাজ। এটি বাস্তবায়ন করা গেলে আমদানি ও রপ্তানি বাণিজ্যে গতি আসবে, সুফল পাবেন বন্দর ব্যবহারকারীরা।
চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য খালাস, জাহাজীকরণ ও শুল্কায়নের জন্য বন্দর ব্যবহারকারীদের সরকারি-বেসরকারি প্রায় অর্ধডজন দপ্তরে ঘুরতে হয়। এতে অপচয় হয় সময় ও অর্থের।
ব্যবসায়ীদের এই ভোগান্তি থেকে রেহাই দিতে ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালু করতে যাচ্ছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। এটি চালু হলে সহজ ও সাবলীল হবে বন্দর ব্যবহারকারীদের কাজ।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এম সোহায়েল বলেন, আমরা আশা করছি এই ডিসেম্বর মাসের মধ্যে ওয়ান স্টপ সার্ভিসের ভবনের নির্মাণ কাজ শেষ হবে। নির্মাণ কাজ শেষ হলে কাস্টমস থেকে শুরু করে বিভিন্ন ব্যাংক, বন্দরের ট্র্যাফিক ও অন্যান্য বিভাগ সব একসাথে কাজ করবে। একজন বন্দর ব্যবহারকারী যেন এক জায়গায় সব কাজের সমাধান পান।
ব্যবসায়ীরা জানান, ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালু হলে উপকৃত হবেন বন্দর সংশ্লিষ্ট সবাই।
চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজের পরিচালক মাহফুজুল হক শাহ বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতির যেভাবে প্রবৃদ্ধি হচ্ছে, উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে যাচ্ছে, যেভাবে বিনিয়োগকারীরা আসা শুরু করেছে, এতে আমাদের বন্দরকেন্দ্রিক যে কার্যক্রম আছে তার গতি বাড়তে হবে।
বাংলাদেশ শিপিং এজেন্টস এসোসিয়েশনের পরিচালক খায়রুল আলম সুজন বলেন, স্মার্ট বাংলাদেশ তৈরি করতে হলে আমাদের এসব সমন্বয় করতে হবে যাতে দ্রুত এবং কম খরচে আমরা সেবা দিতে পারি।
বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান জানান, মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্র বন্দর, বে টার্মিনাল ও পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল অপারেশনে আসলে বাংলাদেশ হবে এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসা কেন্দ্র। যা বাংলাদেশের অর্থনীতিকে ভিন্ন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।
তিনি বলেন, আগামী তিন থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমে যত সমস্যা আছে সবই সমাধান করা যাবে।
বিশ্বের কয়েক হাজার বন্দরের মধ্যে বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরের অবস্থান ৬৪ তম। গত অর্থ বছর বন্দরের রাজস্ব বেড়েছে ৪ শতাংশ। মোট আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের ৯২ শতাংশ সামলেছে এই বন্দর।
একাত্তর/আরবিএস
