পাবনা জেলার সুজানগর ও বেড়া উপজেলার আংশিক এলাকা নিয়ে গঠিত পাবনা-২ আসন। কৃষি নির্ভর এই অঞ্চলে পাঁচ বার আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী বিজয়ী হয়েছে। আর তাই ক্ষমতাসীন দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরা এরই মধ্যে সাধারণ ভোটারদের সাথে গণসংযোগ শুরু করছেন। তবে এই আসনে আওয়ামী লীগের তৃণমূলের নেতাকর্মীসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা নেতৃত্বে পরিবর্তন চাইছেন।
আর বর্তমান সংসদ সদস্য আহমেদ ফিরোজ কবির বলছেন, একটি মহলের স্বার্থে বেশ আঘাত লাগায় এই পরিবর্তন চাইছেন তারা। এই আসনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির বাইরে অন্য দলগুলোর তৎপরতা তেমন নেই বললেই চলে। ক্ষমতাসীন দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরা এরই মধ্যে বিভিন্ন সভা, সমাবেশ, মতবিনিময় সভা করছেন। চাঙ্গা রাখছেন নেতা-কর্মীদের। লক্ষ্য, আসন্ন নির্বাচনেও আসনটি নিজেদের দখলে রাখা।
কৃষি নির্ভর অঞ্চলে পাবনার সুজানগর ও বেড়া অঞ্চল। মুক্তিযুদ্ধের পর থেকে এ আসনে পাঁচ বার আওয়ামী লীগ, তিন বার বিএনপি এবং একবার জাতীয় পার্টির প্রার্থী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। সবশেষ ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত আহমেদ ফিরোজ কবির বিএনপির এ কে এম সেলিম রেজা হাবিবকে হারিয়ে এই আসনে নির্বাচিত হন।
পাবনা-২ আসনে মোট ভোটার প্রায় সাড়ে তিন লাখ। আসনে আওয়ামী লীগের অবস্থান আগে থেকেই ভালো। অনেক দিন ধরে এই আসন হাতছাড়া বিএনপির। তবে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও তৃণমূল নেতা-কর্মীদের বড় অভিযোগ, বর্তমান সংসদ সদস্য আহমেদ ফিরোজ কবির নির্বাচিত হবার পর থেকেই দলের মধ্যে বিভাজন তৈরি করে রেখেছেন। যা আগামী নির্বাচনে বিজয়ে প্রভাব ফেলতে পারে।
তবে ফিরোজ কবিরের অনুসারীরা বলছেন, গেলো ১৫ বছরে এই অঞ্চলের জীবনধারায় পরিবর্তন এসেছে। আগে সন্ধ্যায় বাড়ি থেকে বের হতে যারা ভয়ে গুটিয়ে থাকতেন, তারা এখন নির্বিঘ্নে চলাচল করছে। তাদের সঙ্গেই আছেন বর্তমান সংসদ সদস্য। সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কাজের পাশাপাশি ব্যক্তিগত অর্থায়নে সাধারণ মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করছেন। এলাকার মানুষের সঙ্গে তার সম্পর্ক ও যোগাযোগ বেশ ভালো।
তবে স্থানীয় মানুষ বলছেন ভিন্ন কথা। কৃষি নির্ভর এই অঞ্চলে কৃষকের উন্নয়নের জন্য কাজ করার সুযোগ থাকলেও বিগত ১৫ বছরে তার ছিটেফোঁটাও পাননি না তারা। আর সংসদ সদস্য আহমেদ ফিরোজ কবির বলছেন, সাধারণ মানুষের শান্তির জন্য তিনি কাজ করেন। দলের একাংশের স্বার্থে আঘাত লাগায় তারা নানা অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। তবে দলীয় মনোনয়ন ঘোষণার পর কোন দ্বন্দ্বই থাকবে না।
ফিরোজ কবির বলেন, জনগণ আবারও নৌকাকে বিজয়ী করবে বলে বিশ্বাস করি। কারণ, এই সরকার ক্ষমতায় এলে মানুষের কল্যাণে কাজ করে। আমরা যে উন্নয়ন করেছি, তা কেউ কখনো করতে পারেনি। সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা ও প্রধানমন্ত্রী চাইলে তিনি আবারও প্রার্থী হবেন বলে জানান।
এর বাইরে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতা কামরুজ্জামান উজ্জ্বল বেশ তৎপর। প্রায়ই তিনি এলাকায় কর্মসূচি পালন করেন নেতা-কর্মীদের নিয়ে। এ ছাড়া অসহায়, দুস্থ মানুষদের পাশে গিয়ে তাদের সাহায্য করছেন। আওয়ামী লীগের একটি অংশ তার সঙ্গে রয়েছে। তিনিও এবার আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী।
এছাড়া সাবেক সংসদ সদস্য খন্দকার আজিজুল হক আরজু, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতা আশিকুর রহমান খান সবুজ, আব্দুল আজিজ খান, ছাত্রলীগের সাবেক নেতা আব্দুল মতীন, যুবলীগ নেতা খন্দকার জাহাঙ্গীর কবির রানা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল ওহাব প্রার্থী হতে পারেন।
আর বিএনপি দলীয় নেতাকর্মীরা বলছেন, দেশের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য তারা আন্দোলন করছেন। যদি তাদের দাবি মেনে নির্বাচন হয়, তাহলে তাদের প্রার্থীসহ পুরো পাবনা জেলায় তাদেরই অধিপত্য থাকবে। তবে জেলা থেকে শুরু করে তৃণমূলের বিএনপিতে কোন্দল অনেক।
বিএনপি নির্বাচনে এলে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে যাদের নাম শোনা যাচ্ছে, তারা হলেন- সাবেক সংসদ সদস্য এ কে এম সেলিম রেজা হাবিব, কেন্দ্রীয় কৃষক দলের সভাপতি কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিন, জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হালিম সাজ্জাদ।
এখনও নির্বাচনে আসার সিদ্ধান্ত না হওয়ায় দোটানায় রয়েছেন বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা। ক্ষমতাসীন দলের সম্ভাব্য মনোনয়নপ্রত্যাশীরা শুভেচ্ছাবার্তা, নানা উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের ডিজিটাল ব্যানার লাগিয়ে তাদের অবস্থান জানান দিচ্ছেন। যদি নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি হয়, তাহলে নিজেদের হারানো আসন ফিরে পেতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে বিএনপি।
একাত্তর/এসি
পাবনা-১: ঘরের শত্রু বিভীষণ ও জামায়াত ফ্যাক্টার