রাজধানীসহ দেশজুড়ে নাশকতার পর পুলিশি অভিযানে মধ্যে ঘরবাড়ি ছেড়েছেন বিএনপির বহু নেতাকর্মী। অনেক কেন্দ্রীয় নেতার বাসায় পুলিশ তল্লাশি চালালেও তাদেরকে খুঁজে পাননি।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের বাসায় কয়েক দফা গিয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ। তবে আব্বাস শনিবার সকাল থেকেই বাসাতে নেই বলে তার পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।
মির্জা আব্বাসের স্ত্রী ও মহিলা দল সভাপতি আফরোজা আব্বাস বলেন, গতকাল রাত থেকে সাদা পোশাকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা কয়েক দফা বাসায় এসেছে, এখনও আছে। যেহেতু পোশাকে আসছে না, তাই তাদের পরিচয় নিশ্চিত না হওয়ায় শঙ্কা বাড়ছে।
আফরোজা আব্বাস বলেন, 'মির্জা আব্বাস গতকাল সকালে বেরিয়ে গেছেন আর ফেরেননি। এ অবস্থায় বাসায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।'
শনিবার সরকার পতনের এক দফা দাবিতে মহাসমাবেশ আয়োজন করে বিএনপি। কিন্তু সমাবেশ শুরুর আগেই সহিংসতায় জড়িয়ে পড়ে দলটির নেতা-কর্মীরা।
প্রকাশ্য রাজপথে পিটিয়ে হত্যা করা এক পুলিশ সদস্যকে। আগুন দেওয়া হয় অর্ধশতাধিক গাড়িতে। বিএনপির নেতা-কর্মীদের হামলায় ২৮ জন সাংবাদিক আহত হন। এ ছাড়া ৪১ জন পুলিশ সদস্যও আহত হয়েছেন।
পুলিশের হিসাবে, ৫৫টি গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়েছে। বেশ কয়েকটি পুলিশ বক্স পোড়ানোর পাশাপাশি প্রধান বিচারপতির বাসভবনেও হামলা চালানো হয়।
সহিংসতার মধ্যে শনিবার সমাবেশ পণ্ড হয়ে যায়। রোববার সারাদেশে সকাল-সন্ধ্যা হরতালের ডাক দেয় বিএনপি। হরতালের দিন সকাল থেকেই বিভিন্নস্থানে যানবাহনে আগুন দেয়া হচ্ছে।
শনিবারের নাশকতার পর রোববার সকাল থেকেই বিএনপির শীর্ষ নেতাদের বাসায় বাসায় তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ। আটক করা হয়েছে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে।
এছাড়া স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক আব্দুস সালাম, ঢাকা মহানগর উত্তরের সদস্য সচিব আমিনুল হক এবং যুবদলের সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর বাসায় অভিযান চালিয়েছে পুলিশ।
বিএনপির আন্তর্জাতিকবিষয়ক কমিটির সদস্য ইশরাক হোসেনের বাসায় অভিযান চালিয়ে তাকে না পাওয়ায় তার ছোট ভাই ইশফাক হোসেনকে ও গাড়ি চালক রাজিবকে ডিবি পুলিশ আটক করে নিয়ে গেছে।
টঙ্গীতে বিআরটিসির দোতলা বাসে অগ্নিসংযোগ
ইশরাক উধাও, ছোট ভাই ও গাড়িচালক ধরা