এক চড়ে নড়ে গেছে বাংলাদেশের ক্রিকেট। সেই ব্যথা ক্রিকেটারের গাল থেকে এখন বিসিবির মাথায়। খেলাযোগ লুকানো সত্য সামনে আনতেই তদন্ত কমিটি গঠন করতে বাধ্য হয়েছে বিসিবি। বিশ্বকাপজুড়ে সব অপকর্মের হবে যাচাই-বাছাই। তবে সেই তদন্তের প্রতিবেদন আদৌ আলোর মুখ দেখবে কিনা সন্দেহ। কোন বিষয়ে, কাদের ওপর হবে তাই থাকছে প্রতিবেদনে।
মুখগুলো বড্ড চেনা। বড় টুর্নামেন্টে জাতীয় দলের সফরসঙ্গী হন এদের অনেকে। টিম হোটেল থেকে ভিআইপি বক্স-মুখর থাকে এই পরিচালকদের পাদচারণায়। কিন্তু ৩০ অক্টোবর কলকাতায় এই দৃশ্য ছিলো বিরল। ভিআইপি বক্স নয়, সোজা মাঠে নেমে গিয়েছিলেন বোর্ডের একাধিক পরিচালক, ক্রিকেটারদের অনুশীলনে ছিলেন নীরব পর্যবেক্ষক।
কখনও কি মনে প্রশ্ন জেগেছে কি পর্যবেক্ষণ করতে সেদিন মাঠে ছিলেন বিসিবির কর্তারা?
শুনুন তবে প্রকাশ্যে না আসা সেই তথ্যটা।
পুনেতে হাথুরুর থাপ্পড় কাণ্ড, বিশ্বকাপে তার বিতর্কিত পরিকল্পনায় ক্রিকেটারদের ভেতর উত্তেজনা, হাথুরুর আচরণে অন্য কোচদের অসন্তোষ, টিম ডিরেক্টর খালেদ মাহমুদ সুজনকে পুতুল বানিয়ে রাখা-দলের মাঝে বয়ে চলা সেই সাইক্লোনে থামানোর পরোক্ষ বার্তা দিতেই সেদিন মাঠে নেমেছিলেন বোর্ডের পরিচালকরা।
তবে এসব কোন কাজেই দেয় নি। বিশ্বকাপ থেকে ফেরার পর ১৬ দিন পার হলেও নিশ্চুপ ছিল বিসিবি। কিন্তু বসে থাকে নি খেলাযোগ। উন্মোচন করেছে একের পর এক সত্য। যার শেষটা ছিল দলের এক ক্রিকেটারকে হাথুরুর চড় মারার ঘটনা।
অবশেষে এই গোমর ফাঁস হতেই নড়ে বসেছে বিসিবি। গঠন করেছে তদন্ত কমিটি।
কিন্তু প্রশ্ন হলো তদন্তের আওতায় কী আসবে, কারা থাকবেন? চলুন সেগুলোতে চোখ ফেরানো যাক-
১) বিশ্বকাপ চলাকালীন একজন ক্রিকেটারের গায়ে কীভাবে হাত তোলেন হাথুরুসিংহে? তাও ম্যাচ চলাকালীন মাঠের ভেতর। ঐ ঘটনার হাথুরুকে দাঁড় করানো হবে তদন্তের কাঠগড়ায়।
২) বিশ্বকাপে তামিমকে দল থেকে বের করার ক্ষেত্র প্রস্তুত করেছিলেন চণ্ডিকা, কিন্তু কেনো- বের করা হবে প্রতিটা পয়েন্ট।
৩) তামিম-সাকিব দুজনেই কেন্দ্রীয় চুক্তিতে থাকার পর কীভাবে গণমাধ্যমে বিবৃতি দেন, কার অনুমতিতে, ইন্ধনে কিংবা অবহেলায় খতিয়ে দেখা হবে সব।
৪) বিশ্বকাপে বাড়তি ওপেনার না নিয়ে কেনো বাড়তি পেসার নিলেন হাথুরু-পেছনের কারণ অনুসন্ধান করবে এই কমিটি।
৫) জাতীয় দলের দায়িত্ব নেবার পর একাধিক সিরিজ আর এশিয়া কাপে নানা এক্সপেরিমেন্ট করার পরেও কেনো একটা স্থির দল গড়া গেলো না, কেনো প্রতি ম্যাচেই ব্যাটিং অর্ডার পরিবর্তন করলেন চণ্ডিকা জানতে চাওয়া হবে তার কাছে।
৬) হাথুরুর কোন আচরণে অন্য কোচরা অসন্তুষ্ট ছিলেন, কেনো বিশ্বকাপ চলাকালীন চাকরি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন অ্যালান ডোনাল্ড আর অ্যানালিস্ট শ্রীনিবাস খুঁজে বের করা হবে পর্দার আড়ালের সেসব সত্য।
৭) খালেদ মাহমুদ সুজন, যিনি সবসময় দলের ডিসিশন মেকিং প্যানেলে যুক্ত থাকেন, তাকে কেন বিশ্বকাপে নীরব দর্শক বানিয়ে রেখেছিলেন চণ্ডিকা? কি ছিল তার যুক্তি তা খুঁজে বের করা হবে সব।
৮) টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের আগেই বাদ দেয়া হয় নিয়মিত ম্যানেজার নাফিস ইকবালকে। পেশাদারিত্বের বাইরে গিয়ে সাকিবের এমন সুপারিশ বিশ্বকাপে কোন প্রভাব ফেলেছিল কিনা, সেটাও থাকছে তদন্তের বিগ লিস্টে।
এর আগেও নানা সময় নানা ব্যর্থতায় তদন্ত হয়েছে কিন্তু সেগুলোর কোন ফল হয় নি, রেজাল্টও আসে নি প্রকাশ্যে। এবারও কী বিসিবি অসুখটা ধরেই বসে থাকবে নাকি অপারেশন করে রোগ সারাবে-সেটাই দেখার অপেক্ষা।
হাথুরুর ‘হাতুড়ি’ থামবে কবে