বরিশাল-৫ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী সাদিক আব্দুল্লাহর প্রার্থিতা বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন। হলফনামায় অসত্য তথ্য দেওয়ার অভিযোগে ইসি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
শুক্রবার সকালে নির্বাচন কমিশনের আপিল শুনানি শেষে রায় দেয় প্রধান নির্বাচন কমিশনার সিইসি কাজী হাবিবুল আওয়ালের নেতৃত্বাধীন কমিশন।
গত ৬ ডিসেম্বর সাদিক আবদুল্লাহর মনোনয়নপত্র গ্রহণের বিরুদ্ধে আপিল করেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী জাহিদ ফারুক। পরে সোমবার সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ এবং তার স্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও সম্পদের তথ্য দিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেয় নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
ওই চিঠিতে বলা হয়, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-৫ সংসদীয় আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ রিটার্নিং অফিসারের নিকট দাখিলকৃত মনোনয়নপত্রের সঙ্গে সংযুক্ত হলফনামায় তার ও তার স্ত্রীর দ্বৈত নাগরিকত্ব ও যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থিত সম্পদ সম্পর্কে তথ্য গোপন করেছেন মর্মে অভিযোগ করে তার প্রার্থিতা বাতিল চেয়ে ওই আসনের আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী জাহিদ ফারুক নির্বাচন কমিশনে আপিল করেছেন।
কমিশন গত ১০ ডিসেম্বর আপিল শুনানিকালে এ প্রার্থী ও তার স্ত্রীর দ্বৈত নাগরিকত্ব ও যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থিত সম্পদ সম্পর্কে তথ্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ঢাকার মার্কিন দূতাবাসের সহায়তায় সংগ্রহের জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়। ওই আপিল সংক্রান্ত শুনানি মুলতবি করে চাওয়া তথ্যপ্রাপ্তি সাপেক্ষে এ সিদ্ধান্ত দিলো নির্বাচন কমিশন।
এর আগে অভিযোগ উঠেছিলো- সাদিক আব্দুল্লাহ তার স্ত্রীর নামে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের বাড়ির কথা হলফনামায় গোপন করেছেন। তবে যাচাই-বাছাইয়ে শেষ পর্যন্ত সেবার অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় সাদিক আব্দুল্লাহর মনোনয়ন ৪ ডিসেম্বর বৈধ ঘোষণা করা হয়।
বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের মেয়র পদে মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে সংসদীয় নির্বাচনে বরিশাল-৫ আসন থেকে দলীয় মনোনয়ন চেয়েও পাননি সাদিক আবদুল্লাহ। পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও বর্তমান সংসদ সদস্য ফারুক শামীমকে বরিশাল-৫ আসনে প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেয় আওয়ামী লীগ।
বরিশাল-৫ (সদর) আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে মনোনয়ন সংগ্রহ করেন বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ।
সাদিকের বাবা বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও বরিশাল-১ আসনের দলীয় প্রার্থী আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফুফাতো ভাই। সাদিক আব্দুল্লাহ ২০১৮ সালে বরিশাল সিটি নির্বাচনে মেয়র পদে জয়ী হন। তবে ২০২৩ সালে দলীয় মনোনয়ন চেয়েও পাননি তিনি।
তার বদলে মনোনয়ন দেওয়া হয় সাদিকের ছোট চাচা আবুল খায়ের আব্দুল্লাহকে (খোকন সেরনিয়াবাত)। তিনি নির্বাচিতও হয়েছেন। এরপর চাচা-ভাতিজার দ্বন্দ্ব নিয়ে সারা দেশে আলোচনা তৈরি হয়। ওই নির্বাচনে জাহিদ ফারুকের অনুসারীরা সার্বক্ষণিক আবুল খায়ের আবদুল্লাহর পাশে ছিলেন।
১৪ নভেম্বর বরিশালের মেয়রের দায়িত্ব নেন আবুল খায়ের আবদুল্লাহ।
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আপিল শুনানি শেষ হচ্ছে শুক্রবার। নির্বাচন কমিশনে (ইসি) বৃহস্পতিবার ৯৯টি আবেদনের শুনানিতে প্রার্থিতা ফিরে পান ৪৩ জন। আপিল মঞ্জুর হয়নি ৫২ জনের।
বুধবার চতুর্থ দিনে (১৩ ডিসেম্বর) ৪৫ জন, মঙ্গলবার (১২ ডিসেম্বর) তৃতীয় দিনে ৬১ জন, সোমবার (১১ ডিসেম্বর) দ্বিতীয় দিনে ৫১ জন এবং রোববার (১০ ডিসেম্বর) প্রথম দিনে ৫৬ জন প্রার্থিতা ফিরে পান। গত পাঁচ দিনের শুনানিতে এ পর্যন্ত ২৬৩ জন প্রার্থী তাদের প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন।
ইসির তফসিল অনুযায়ী, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ১৭ ডিসেম্বর। এরপর রিটার্নিং কর্মকর্তারা প্রতীক বরাদ্দ করবেন ১৮ ডিসেম্বর। সেদিন থেকে আগামী ৫ জানুয়ারি সকাল ৮টা পর্যন্ত নির্বাচনী প্রচার চলবে। ভোট হবে ৭ জানুয়ারি।
বরিশাল-৪ আসনে নৌকার শাম্মী আহম্মেদের প্রার্থিতা বাতিল
ফরিদপুর-৩ আসনে নৌকার প্রার্থী শামীম হকের প্রার্থিতা বাতিল
আপিলেও সালাহউদ্দিনের মনোনয়ন বাতিল