প্রতিবেশীদের সঙ্গে সম্পর্ক অন্যমাত্রায় নিতে এবার চীন ও থাইল্যান্ড একে অপরের নাগরিকদের জন্য ভিসা তুলে দিচ্ছে। আগামী মার্চ থেকে এই নিয়ম চালু হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন থাই প্রধানমন্ত্রী স্রেত্থা থাবিসিন।
করোনা মহামারীর কারণে পর্যটক খরায় ভুগছিলো থাইল্যান্ড। সেই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে গেলো সেপ্টেম্বর চীনের নাগরিকদের জন্য ভিসা তুলে দেয় থাইল্যান্ড।
ব্যাংককের এমন সিদ্ধান্তে ফলও পায় দেশটি। পরের দুই দিনেই চীন থেকে ২২ হাজারের বেশি পর্যটক আসে থাইল্যান্ডে। থাই সরকারের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে বেইজিংও।
এখন চীন একই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এখন আমরা দুই দেশই একে অপরের জন্য দ্বার উন্মুক্ত করে দেওয়ার জন্য প্রস্তুত।
তিনি আরও বলেন, দুই দেশই সিদ্ধান্ত নিয়েছে পর্যটকদের জন্য এই বিশেষ সুবিধা দিতে। এ সময় তিনি বিষয়টিকে দারুণ উৎসাহব্যঞ্জক এক খবর হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
থাই সরকার প্রধান বলেন, এ সিদ্ধান্তের ফলে উভয় দেশের সম্পর্কের উন্নয়ন হব। সে সঙ্গে থাই পাসপোর্টের মর্যাদাও বাড়বে। উল্লেখ্য, থাইল্যান্ডে মালয়েশিয়ার পরেই সবচেয়ে বেশি পর্যটক আসে চীন থেকে।
২০২৩ সালে চীন থেকে থাইল্যান্ডে প্রায় ৩৫ লাখ মানুষ বেড়াতে আসেন। তবে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে তা ছিলো কম। কেননা থাইল্যান্ড আশা করেছিল অন্তত ৪০ লাখ হবে সেই সংখ্যা।
এর আগে ২০১৯ সালেই থাইল্যান্ডে এক কোটির ওপরে পর্যটক এসেছিল চীন থেকে। সেই সংখ্যায় মারাত্মক ধস নামে পরের বছরগুলোতে। ২০২২ সালে তা ছিল মাত্র ২৭ লাখ।
কোভিডের পরে বিমান ভাড়া বৃদ্ধি ও চীনের অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি হ্রাসকে মূল কারণ হিসেবে দেখা হলেও আরো কিছু ঘটনার প্রভাব পড়েছে চীনাদের থাইল্যান্ড-পর্যটনে।
তবে ২০২৪ সালে চীন থেকে ৮২ লাখ পর্যটক আশা করছে থাইল্যান্ড। এজন্য ভিসা ব্যবস্থা তুলে নিলো তারা। এখন চীনও সিদ্ধান্ত নিলো থাইল্যান্ডের নাগরিকদের জন্য ভিসা তুলে দেওয়ার।
তবে একই সুবিধা ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, নেদারল্যান্ড, স্পেন ও মালয়েশিয়ার নাগরিকদের জন্য ইতোমধ্যেই জন্য ঘোষণা করেছে চীন। নভেম্বর পর্যন্ত চীনে ভ্রমণের জন্য এসব দেশের নাগরিকদের ভিসা লাগবে না।
