রাজবাড়ী সরকারি কলেজ থেকে বিএ পাশ করে দেশের বিভিন্ন জায়গায় নিউরো চিকিৎসা করছেন তিনি। বাপের দেয়া নাম বদল করে একজন মৃত চিকিৎসকের নামে এই কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। ২০১৩ সালে ‘ভুয়া ডাক্তার’ অভিযোগে তাকে ফরিদপুরে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে জামিনে ছাড়া পান।
কিন্তু এরপরও তিনি দমে যাননি। এবার নোয়াখালীতে ল্যাব এইডের মতো স্বনামধণ্য ডায়াগনস্টিক সেন্টারে তাকে হাতে নাতে ধরেছে র্যাব। এ বিষয়ে ল্যাব এইড কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে নোয়াখালী ল্যাব এইড কর্তৃপক্ষ কোনো কথা বলতে রাজি হয়নি।
শুক্রবার (১২ জানুয়ারি) তাকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে দুই বছরের কারাদণ্ডসহ ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। ওই ব্যক্তি নিজেকে নিউরো মেডিসিনের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে পরিচয় দিয়ে চিকিৎসা দিয়ে আসছিলেন।
চৌমুহনী পৌরসভার আলীপুর এলাকায় ল্যাব এইড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন বেগমগঞ্জ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আসিফ আল জিনাত।
গ্রেপ্তার ওই ব্যক্তির পরিবারের দেয়া নাম হাবিবুর রহমান। ১৯৯৯ সালে রাজবাড়ি সরকারি কলেজ থেকে বিএ পাশ করে এলাকা ছাড়েন। কয়েক বছর পর হাজির হন ড. রাকিব আহসান নামে। সেই নামে জাতীয় পরিচয়পত্রও বানান।
একজন নিউরো বিশেষজ্ঞ হিসেবে ফরিদপুর, যশোর, বরগুনা, মানিকগঞ্জ, ইশ্বরদী ও ভোলায় রোগী দেখা শুরু করেন। ২০১৩ সালে ফরিদপুরে তাকে গ্রেপ্তার করে জরিমানা করা হয়। কিন্তু এই প্রতারক দমে জাননি।
আরও বড় প্রতারণার মাধ্যমে ল্যাব এইডের মতো প্রতিষ্ঠানে নিউরো বিশেষজ্ঞ হিসেবে রোগি দেখা শুরু করেন। সবশেষ নোয়াখালীর ল্যাব এইড থেকে রোগী দেখার সময় হাতেনাতে হাবিবকে গ্রেপ্তার করে র্যাব।
হাবিব কখনো কখনো রাকিব আহসানের বদলে রাকিব হাসান নামেও পরিচয় দিতেন। নোয়াখালীতে আসা রোগীরা অভিযোগ করেন, ল্যাব এইডের মতো প্রতিষ্ঠান কোনো ধরনের যাচাইবাছাই না করে কীভাবে এমন এক ভুয়া চিকিৎসককে চেম্বার খোলার সুযোগ দিলো।
রাজবাড়ীতে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, হাবিব ওরফে রাকিব বিএ পাশ করার পর বালিয়াকান্দি বাওনাড়া হাই স্কুলে প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। ২০০১ সালে বিদ্যালয়টির তহবিল হাপিশ করায় সেখান থেকে বিতাড়িত হন।
এরপরই চিকিৎসক হিসেবে প্রতারণা শুরু করেন। এই প্রতারকের বিরুদ্ধে দুদকের মামলায় অভিযোগপত্রও দাখিল করা হয়েছে। তারপরও নামী প্রতিষ্ঠানের ছত্রছায়ায় প্রতরণা চালিয়ে যাচ্ছেন।
ভুয়া চিকিৎসক হাবিবুর রহমান নিজেকে এমবিবিএস ও নিউরো মেডিসেনের বিশেষজ্ঞ ডাক্তার পরিচয় দিয়ে মানিকগঞ্জের মেডিল্যাব জেনারেল হাসপাতাল প্রথমে হাত পাকান।
এরপর পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার আলো ডায়াগনস্টিক সেন্টার, বরগুনার কুয়েত প্রবাসী হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ভোলা ডায়াগনস্টিক সেন্টার, বরিশালের কমফোর্ট ডায়াগনস্টিক ল্যাবসহ বিভিন্ন হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে প্রতারণা করে রোগী দেখার নাম করে বহু টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আসিফ আল জিনাত বলেন, অভিযোগ পেয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করি। এ সময় হাবিবুর রহমান সার্টিফিকেটসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারেননি। তার ভুল চিকিৎসায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিল সাধারণ মানুষ। এজন্য তাকে দুই বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।
র্যাব -১১ এর নোয়াখালী ক্যাম্পের কোম্পানি অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মাহমুদুল হাসান বলেন, ভুয়া চিকিৎসক প্রতি শুক্রবার ল্যাবএইড ডায়াগনস্টিক সেন্টার নোয়াখালী শাখায় রোগী দেখতে আসেন। প্রতারণা করে অসহায় রোগীর কাছে থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে যান।
তিনি আরও বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে নজরদারি করে আজ তাকে হাতেনাতে ধরতে সক্ষম হয়েছি। ভুয়া চিকিৎসককে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে দুই বছরের কারাদণ্ড দেওয়ার পর র্যাবের মাধ্যমে তাকে বেগমগঞ্জ থানায় সোপর্দ করা হয় এবং সন্ধ্যায় জেলহাজতে পাঠানো হয়।
নারী উত্যক্তের প্রতিবাদ করায় বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যা