রাশিয়া খুব শিগগিরই তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ বাধিয়ে দিতে পারে বলে আশঙ্কা জানিয়েছে জার্মানি। বলেছে চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে রাশিয়া-ইউক্রেনের মধ্যে সংঘর্ষ বাড়ানোর পাশাপাশি লিথুনিয়া ও পোল্যান্ডে হামলা চালাতে পারে মস্কো। এজন্য রাশিয়ার বিরুদ্ধে সশস্ত্র সংঘাতের প্রস্তুতিও নিচ্ছে বার্লিন।
সম্প্রতি ফাঁস হওয়া কিছু নথির বরাতে এসব তথ্য জানিয়েছে জার্মান সংবাদপত্র বিল্ড। সংবাদমাধ্যমটি বলছে, জার্মান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে একটি শ্রেণিবদ্ধ সামরিক তথ্য পেয়েছে তারা। যেখানে বলা হয়েছে, জার্মান সশস্ত্র বাহিনী পূর্ব ইউরোপে রাশিয়ার ‘হাইব্রিড’ আক্রমণের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।
বিল্ডের দাবি, আগামী বছর রাশিয়া সামরিক জোট ন্যাটোর মিত্র দেশগুলোতে আক্রমণ করে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধ আরও প্রসারিত করতে পারে। আর এর মাধ্যমেই তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হতে পারে বলে ধারণা করছে জার্মানি।
এতে আরও বলা হয়েছে, ইউরোপের বিভিন্ন দেশের সশস্ত্র বাহিনী রাশিয়ার আক্রমণের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। আর এর মধ্যে সাইবার হামলাও অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। আসছে বসন্তে ইউক্রেনে ব্যাপক হামলা চালাতে পারে রাশিয়া। এর পর ধাপে ধাপে কীভাবে রুশ বাহিনী এগিয়ে যাবে ও কীভাবে ন্যাটো তার মিত্রদের রক্ষা করবে সেটিও ফাঁস হওয়া নথিগুলোতে বর্ণনা করা হয়েছে।
গোপন এই নথি অনুসারে, চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে রাশিয়া-ইউক্রেনের মধ্যে সংঘর্ষ বাড়বে। আর ধারাবাহিক সংঘর্ষই প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে রাশিয়ার পশ্চিমাঞ্চল ও বেলারুশে বড় আকারের সামরিক মহড়া শুরু করতে প্ররোচিত করবে। এই মহড়ায় প্রায় ৫০ হাজার রুশ সেনা অংশ নিতে পারে।
এরপরে রাশিয়া ন্যাটোর উপর আক্রমণের সতর্কবার্তা দিয়ে লিথুয়ানিয়া ও পোল্যান্ডে বোমাবর্ষণ করতে পারে। এই হামলার চূড়ান্ত লক্ষ্য হবে ‘সুওয়ালকি গ্যাপ’ নামে পরিচিত একটি এলাকা জয় করা।

সুওয়ালকি গ্যাপ একটি সংকীর্ণ পোলিশ-লিথুয়ানিয়ান করিডোর যা বেলারুশ ও রাশিয়ার কালিনিনগ্রাদ প্রদেশের মধ্যে অবস্থিত। নথি অনুসারে, সংঘাত বাড়ার সাথে সাথে কালিনিনগ্রাদে হাজার হাজার সেনা ও মধ্য-পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করতে পারে মস্কো।
ফাঁস হওয়া নথিতে আরও বলা হয়েছে এমন পরিস্থিতিতে মিত্রদের সহযোগিতার জন্য ৩০ হাজার জার্মান সেনা যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হবে। অন্যদিকে, এসময়ে আনুমানিক ৭০ হাজার রুশ সেনা বেলারুশে জড়ো হবে।
চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে নিজেদের মিথ্যা প্রচারণা ও সহিংসতা আরও বাড়াতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করতে পারে রাশিয়া। যদিও পুতিন ও রুশ কর্মকর্তারা বারবার বলে আসছেন যে, ইউক্রেন ছাড়া তারা আর কোনো দেশের সঙ্গে সংঘাতে সৃষ্টি করবে না।
তবে রুশ কর্মকর্তারা বিল্ডের এই প্রতিবেদনটি ‘ভুয়া’ বলে দাবি করেছেন এবং এই বিষয়ে তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
তবে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা বলছেন, ইউরোপের মধ্যে সন্দেহের বীজ বপনের জন্য জার্মানির খ্যাতি রয়েছে। ভুলে গেলে চলবে না, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের জন্য একভাবে দায়ী ছিলো জার্মানি।
বিশ্বে সমর শক্তিতে আমেরিকা এক, রাশিয়া দুই, চীন তিনে