সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে ছোট ছোট বাচ্চাদের চোখে-মুখে আতঙ্ক, ভয় আর অনিশ্চয়তার ছাপ। তাদের পেটে ক্ষুধা। তাদের হাতে হাতে থালাবাটি। সবার চাওয়া একটু খাবার। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও মিলছে না ত্রাণের খাবার। যদিও ভাগ্যক্রমে খাবার মেলে তাও নিতান্তই সামান্য। এতে পেট ভরে না। ক্ষুধার জ্বালা সইতে না পেরে বাধ্য হয়ে এবার তারা খাচ্ছেন পশু-পাখির খাবার।
বেঁচে থাকার জন্য ময়দার বিকল্প হিসেবে পশুখাদ্য পিষে খাচ্ছে গাজাবাসী। এমন হৃদয়বিদারক পরিস্থিতিই এখন গাজাজুড়ে। অসহায় মানুষগুলোকে এভাবেই তিলে তিলে খাবারের কষ্টে মারছে ইসরাইলি হায়েনারা। যার ফলে চরম সীমায় পৌঁছে গেছে গাজার দুর্ভিক্ষ। এমন সব চিত্রই বিশ্বের সামনে তুলে ধরেছে দ্য গার্ডিয়ান, আনাদুলু এজেন্সি, আলজাজিরার মতো আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো।
গেলো বৃহস্পতিবার অ্যাকশন এইড গাজার চলমান দুর্ভিক্ষের করুণ চিত্র তুলে এনেছে। সেই সঙ্গে কিছুদিন আগেই সামাজিক মাধ্যমগুলোতে হ্যাশট্যাগ ‘গাজা স্টারর্ভিং’ ট্রেন্ডে উঠে। প্রকাশ করা সেই ভিডিওগুলোতে দেখা যায় হৃদয়বিদারক সব দৃশ্য। যা নাড়া দিচ্ছে বিশ্ব বিবেককে।

অ্যাকশনএইড প্যালেস্টাইনের অ্যাডভোকেসি রিহাম জাফারির মতে, এমনও পরিবার আছে যারা এক টুকরো রুটি ভাগ করে খেয়ে সারাদিন পার করে। অনেকেই আবার পশুখাদ্য পিষে খাচ্ছে। আবার অনেকেরই নোংরা-দূষিত পানি পান করা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই এবং এর ফলে তারা অসুস্থ হয়ে পড়ছে।
এদিকে ইসরাইলের অবিরাম বোমাবর্ষণে কোথাও নিরাপদ জায়গা নেই। বোমাবর্ষণের ঝুঁকি নিয়েই বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্রে গাদাগাদি করে থাকছে মানুষ। উত্তরের পর গাজার দক্ষিণেও ইসরাইল অভিযান শুরু করার পর গত শুক্রবার বহু লোককে খান ইউনিস শহর ছেড়ে উপকূলের পথ ধরে সরে যেতে দেখা যায়।

গাজার বহু বাস্তুচ্যুত মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে ঠাঁই না পেয়ে পথেঘাটে-প্রান্তরে পলিথিন দিয়ে ছাউনি বানিয়ে কোনো মতে সেখানে থাকছে। শীতকাল আসায় তাদের দুর্ভোগ এখন চরমে। ঝড়-বৃষ্টি, খাবার, পানি ও ওষুধের তীব্র সংকট, রোগ-বালাইয়ের বিস্তার সব মিলিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে গাজাবাসী।
দাতব্য সংস্থাগুলোর রিপোর্ট অনুযায়ী, গাজার ৯৭টি বেকারির মধ্যে মাত্র ১৫টি এখন কার্যকরী। খোলা থাকা বেকারিগুলোতে খাবারের দামও বেশি, যা অনেকের সাধ্যের বাইরে।

এদিকে শিশুদের পর্যাপ্ত ও পুষ্টিকর খাবার খাওয়াতে পারছে না তাদের বাবা-মায়েরা। ফলে অপুষ্টিতে ভুগতে শুরু করেছে শিশুরা। এছাড়া গাজায় চরম মাত্রায় দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানির অভাব।
আন্তর্জাতিক সংস্থা ইউএনওসিএইচএ অনুসারে, ৭ অক্টোবরের পর আগের চেয়ে পানির স্তর এক-দশমাংশের নিচে নেমে গেছে। সন্তানদের পানি খাওয়ানোর জন্যও বাবা-মাকে অনেক দূরের পথ পাড়ি দিতে হয়। এক ফোঁটা পানির আশায় থাকতে থাকতে পানি ছাড়াই ঘুমিয়ে পড়ে ছোট্ট ছোট্ট এই বাচ্চাগুলো।
জাতিসংঘের মতে, ইসরাইলি আক্রমণে গাজায় অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুতদের ৮৫ শতাংশ মানুষ খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি এবং ওষুধের সংকটে রয়েছে। ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রাম অনুসারে, গাজার ৩৩৫,০০০ শিশুর মধ্যে পাঁচ বছরের কম বয়সি কেউই পর্যাপ্ত পুষ্টি পাচ্ছে না।
গাজার অনাহারে থাকা মানুষদের বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য নেই। ত্রাণ সংস্থাগুলো তীব্র লড়াইয়ের মধ্যেই সেখানে যাওয়া ও স্থানীয়দের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছে। অপুষ্টির কারণে শিশুতের শরীর কতোটা ওজন হারালো তা মেপে বের করার পরিকল্পনা করেছে ত্রাণ সংস্থাগুলো।
ব্রিটেনে আবারও পরমাণু বোমা বসাচ্ছে আমেরিকা