মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও মার্কিন-ইসরাইল জোটের মধ্যে চলমান সংঘাত ষষ্ঠ দিনে গড়িয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) ভোরে ইসরাইলকে লক্ষ্য করে ইরান বড়ো ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এতে দেশটির লাখ লাখ বাসিন্দা বোমাপ্রুফ আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নিতে বাধ্য হয়েছেন। এদিকে ওয়াশিংটনে মার্কিন বিমান হামলা বন্ধের একটি প্রস্তাব সিনেটে নাকচ হয়ে গেছে। খবর রয়টার্সের।
যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে বিমান অভিযান বন্ধ এবং সামরিক পদক্ষেপের জন্য কংগ্রেসের অনুমোদনের দাবিতে আনা একটি প্রস্তাব ৫৩-৪৭ ভোটে বাতিল হয়েছে। একজন রিপাবলিকান বাদে বাকি সবাই প্রস্তাবটির বিপক্ষে ভোট দেন। এর ফলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধ পরিচালনার ক্ষমতা মূলত অবাধ রইলো।
এদিকে বুধবার শ্রীলঙ্কা উপকূলে একটি মার্কিন সাবমেরিন ইরানের একটি যুদ্ধজাহাজ ডুবিয়ে দিয়েছে, যাতে অন্তত ৮০ জন নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে, তুরস্কের দিকে ছোড়া একটি ইরানি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করেছে ন্যাটোর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। এই প্রথম ন্যাটোর কোনো সদস্য দেশ এই সংঘাতের সরাসরি কবলে পড়ল। তবে মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ জানিয়েছেন, এটি জোটের যৌথ-প্রতিরক্ষা ধারা চালুর পর্যায়ে পড়েনি।
অপরদিকে ইসরাইলি হামলায় নিহত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শেষকৃত্য অনুষ্ঠান অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। এদিকে তার ছেলে মোজতবা খামেনি উত্তরসূরি হিসেবে সামনে আসছেন বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। বিশেষজ্ঞ পরিষদ দ্রুতই নতুন নেতার নাম ঘোষণা করবে বলে জানা গেছে। সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন হাসান খোমেনি। তবে ইসরাইল হুমকি দিয়েছে, যাকে নির্বাচিত করা হোক না কেন, তাদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে।
যুদ্ধের প্রভাবে স্থবির হয়ে পড়েছে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ ‘হরমুজ প্রণালী’। রয়টার্সের তথ্যমতে, অন্তত ২০০টি জাহাজ উপকূলে নোঙর করে আছে। এর ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম লাফিয়ে বাড়ছে।
আইএমএফ প্রধান ক্রিস্টালিনা জর্জিভা সতর্ক করে বলেছেন, এই যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি মূল্য ও মুদ্রাস্ফীতির ওপর চরম প্রভাব পড়বে।
মার্কিন জ্বালানি সচিব ক্রিস রাইট জানিয়েছেন, মার্কিন নৌবাহিনী আপাতত ইরানকে ‘নিষ্ক্রিয়’ করার কাজে ব্যস্ত থাকায় বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে পাহারা দেওয়ার কাজ এখনই শুরু করতে পারছে না।
সংঘাতের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথ প্রায় বন্ধ। দুবাইসহ প্রধান বিমানবন্দরগুলো থেকে বাণিজ্যিক ফ্লাইট চলাচল নেই বললেই চলে। বিভিন্ন দেশের সরকার তাদের নাগরিকদের সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। ব্রিটিশ নাগরিকদের একটি বিশেষ ফ্লাইট ওমান থেকে যাত্রা করার কথা থাকলেও তা স্থগিত করে বৃহস্পতিবার পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।
এদিকে সিআইএ-র সঙ্গে ইরানি গোয়েন্দাদের যোগাযোগের একটি খবর নিউ ইয়র্ক টাইমস প্রকাশ করলেও ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম একে সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।
