পাকিস্তানে জোট গড়ে সরকার গঠনের তোড়জোড় শুরু করেছে নওয়াজের দল পিএমএলএন। তবে নওয়াজ শরীফ নন, প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন তার ছোট ভাই শাহবাজ শরিফ। পাকিস্তানি গণমাধ্যমগুলো বলছে, শাহবাজের সঙ্গে বর্তমান সামরিক বাহিনীর নেতৃত্বের সম্পর্ক উষ্ণ। নওয়াজের বদলে শাহবাজকেই নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত করার নির্দেশনা তারাই দিতে পারে।
গত দশকের মাঝপথে দুর্নীতির মামলায় আজীবন নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত হয়ে ব্রিটেনে পাড়ি জমান পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ। গত ৮ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের আগে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়।সবার কাছে দিনের আলোর মতো পরিষ্কার ছিলো নওয়াজকে সামরিক বাহিনী ক্ষমতায় বসাতে মরিয়া।
তবে ভোটে ইমরানপন্থীদের অবিস্মরণীয় জয়ের পর জোট রাজনীতির ঘটনাপ্রবাহে নিজেকে প্রধানমন্ত্রিত্বের দৌড় থেকে সরিয়ে নিয়েছেন নওয়াজ। আর এর পেছনের কারণ খুঁজতে নানা সমীকরণ মিলিয়ে দেখছে পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যমগুলো। বলা হচ্ছে, পরিস্থিতি বুঝেই ভাইকে সামনে ঠেলে দিয়েছেন তিনি।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে অনাস্থা ভোটে হারানোর পর জোট সরকারের নেতৃত্ব দেন নওয়াজের ভাই শেহবাজ শরিফ। ভাইয়ের প্রত্যাবর্তনের পর থেকে ভোটের ফল ঘোষণার আগ পর্যন্ত নানা সময় তিনি বলেছেন, পিএমএল-এন প্রধান নওয়াজকে চতুর্থ মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী পদে দেখতে মুখিয়ে রয়েছেন তিনি।
তবে নওয়াজকন্যা মরিয়ম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানান, শেহবাজ হচ্ছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী এবং তিনি হচ্ছেন পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী। নওয়াজ তাদের পর্দার আড়াল থেকে নির্দেশনা দেবেন।
পাকিস্তানি গণমাধ্যম ‘দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন’ বলছে, শেহবাজের সঙ্গে বর্তমান এস্টাবলিশমেন্ট সামরিক বাহিনী নেতৃত্বের সম্পর্ক উষ্ণ। নওয়াজের বদলে শেহবাজকেই নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত করার নির্দেশনা তারাই দিতে পারে। সেনারা মনে করতে পারে, ভোট পরবর্তী পরিস্থিতে শেহবাজই ভালো অপশন।
২০১৮ সালে পিটিআই সর্বোচ্চ আসনে জয়লাভ করে জোট সরকার গঠন করে তিন বছরেরও বেশি ক্ষমতায় থাকার পর পিডিএম জোটের কাছে আস্থা ভোটে হেরে যায়। তখন থেকেই যেভাবেই হোক পাকিস্তানের নেতৃত্ব দিয়েছেন নওয়াজের ভাই শাহবাজ। আর তাই হয়তো পাকিস্তানের ক্রান্তিকালে যে হাল ধরেছে তার ওপরই আস্থা রাখতে চায় সেনাবাহিনীসহ সবাই।
