জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে জম্মু-কাশ্মীরের রাজধানী শ্রীনগরে গেলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। জম্মু-কাশ্মিরের স্বায়ত্তশাসন বাতিলের পাঁচ বছর পর এই প্রথম এ রাজ্যের যাচ্ছেন তিনি।
ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, শুক্রবার শ্রীনগরে শোভাযাত্রা ও সমাবেশ করবে বিজেপি, সেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে থাকবেন মোদি।
১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন থেকে স্বাধীনতালাভের পর যে সংবিধান গ্রহণ করেছিল ভারত, সেখানে ‘৩৭০ নম্বর ধারা’ নামের একটি ধারা যুক্ত ছিল। সেই ধারা অনুযায়ী, জম্মু-কাশ্মির-লাদাখের নিজেদের সংবিধান এবং আলাদা পতাকার অধিকার দেওয়া হয়েছিল। সেই সঙ্গে বলা হয়েছিল, কেবল এই রাজ্যের বাসিন্দা বা বংশোদ্ভূতরাই জম্মু-কাশ্মির-লাদাখে জমি কিনতে পারবেন।
২০১৯ সালের ৫ আগস্ট এক পার্লামেন্ট ভোটের ৩৭০ নম্বর ধারা বাতিল করে জম্মু-কাশ্মির এবং লাদাখকে পৃথক করে দু’টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে রূপান্তর করা হয়। সংবিধানের এই পরিবর্তনের জেরে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছিল মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ কাশ্মিরে। এ কারণে দীর্ঘদিন কার্যত ‘প্রশাসনিক লকডাউনে’ ছিল জম্মু-কাশ্মির।
আগামী এপ্রিল থেকে ভারতের পার্লামেন্ট লোকসভার নির্বাচন শুরু হতে যাচ্ছে। ভারতের রাজনীতি বিশ্লেষকদের মতে, আসন্ন নির্বাচনে জম্মু-কাশ্মিরে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করতে মোদির এই সফর।
৩৭০ নম্বর ধারা বাতিলের পর অমিত শাহ-জেপি নাড্ডাসহ বিজেপির অন্যান্য জ্যেষ্ঠ দলীয় কর্মসূচিতে যোগ দিতে কাশ্মির সফরে গেলেও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যাননি। গত পাঁচ বছরে এই প্রথম দলীয় কর্মসূচিতে যোগ দিতে কাশ্মির যাচ্ছেন তিনি।
প্রসঙ্গত, এর আগের পার্লামেন্ট নির্বাচনগুলোতে জম্মুতে কয়েকটি আসনে জয়ী হলেও কাশ্মিরে এ পর্যন্ত কোনো আসনে জয়ী হতে পারেনি বিজেপি। তাই এবার কাশ্মিরে বিশেষ মনোযোগ দিচ্ছে দলটির হাইকমান্ড।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষ্যে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জারি করা হয়েছে। শ্রীনগরজুড়ে মোতায়েন করা হয়েছে পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর হাজার হাজার সদস্যকে। রাজধানীর যেখানে মোদির সমাবেশ হবে, সেই বকশি স্টেডিয়াম কার্যত ‘নিরাপত্তা দুর্গে’ পরিণত হয়েছে হয়েছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।
ভারতে বিদেশী পর্যটক ধর্ষণের শিকার