রাশিয়ার রাজধানী মস্কোর কাছেই একটি শহরের ক্রোকাস সিটি হলে ভয়াবাহ সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা নিয়ে এখনও চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। কেমন করে সন্ত্রাসীরা রাশিয়ার মাটিতে এ ধরনের হামলা চালানো, তা জোরশোরে চলছে তদন্ত, কর্মকর্তারা আত্মবিশ্বাসী দ্রুতই তারা জানতে পারবেন পেছনে ঘটনা।
তবে রাশিয়াতে যে সন্ত্রাসী হামলা হতে যাচ্ছে সেটি আগেই জানতে পেরেছিলো ইরান। শুধু জেনেই বসে থাকেনি তেহরান। পরীক্ষিত বন্ধু মস্কোকে সঙ্গে সঙ্গেই সে খবর পৌঁছে দেয়া হয়েছিলো। বলা হয়েছে, রাশিয়ার মাটিতে একটি সম্ভাভ্য সন্ত্রাসী অভিযান হতে পারে বলে গোয়েন্দা খবর রয়েছে তাদের হাতে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, মস্কোর কনসার্ট হলে নৃশংস হামলার ঘটনা নিয়ে কাজ করছে এমন তিনটি সূত্র এই খবর নিশ্চিত করেছে। তেহরানের সতর্ক বার্তার পরও পাত্তা দেয়নি রুশ গোয়েন্দা। এই হামলার আগে আমেরিকার সতর্ক বার্তাও আমলে নেয়নি পুতিনের গোয়েন্দারা।
গেলো ২২ মার্চ ক্রোকাস সিটি হলে একটি কনসার্ট শুরু হবার আগেই স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র দিয়ে হামলা চালিয়ে বহু মানুষের প্রাণ কেড়ে নেয় সন্ত্রাসীরা। গেলো ২০ বছরের মধ্যে এটিই রাশিয়ার মাটিতে সবচেয়ে বড় ধরনের সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা। এতে জড়িত থাকার অভিযোগে চার হামলাকারিসহ ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
হামলার পর আইএসআইএস জঙ্গি গোষ্ঠির খোরাসান শাখা দায় স্বীকার করে। এ নিয়ে শুরুতে রাশিয়া কোন প্রতিক্রিয়া না দিলেও, হামলার সঙ্গে ইউক্রেনের যোগ আছে বলে দাবি করা হয়। পরে অবশ্য রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, হামলার সঙ্গে ইসলামি চরমপন্থীরা জড়িত ছিলো।
তেহরান ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, ক্রোকাস হলে হামলার কয়েকদিন আগেই তেহরান একটি সম্ভাব্য বড় সন্ত্রাসী হামলার তথ্য মস্কোর সাথে শেয়ার করেছিলো। ইরানে মারাত্মক বোমা হামলায় জড়িতদের জিজ্ঞাসাবাদের সময় এই তথ্য তেহরানের হাতে আসেও উল্লেখ করা হয়েছিলো।
সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে গেলো জানুয়ারিতে ৩৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছিলো ইরান। এদের মধ্যে আইএস খোরাসান শাখার এক কমান্ডারও ছিলো। এই গোষ্ঠিটি ইরানের কেরমান শহরে ৩ জানুয়ারি এক সন্ত্রাসী হামলার সঙ্গে জড়িত ছিলো, সেই হামলায় শতাধিক মানুষকে হত্যা করে জঙ্গিরা।
তেহরান সংশ্লিষ্ট দ্বিতীয় সূত্র জানিয়েছে, তেহরান সন্ত্রাসী হামলার বিষয়ে মস্কোকে সতর্কবার্তা পাঠালেও তাতে হামলার সম্ভাব্য স্থান দিনক্ষণ সম্পর্কে কোন তথ্য দেয়া ছিলো না। শুধু বলা হয়েছে, আইএস-কে রাশিয়াতে হামলার জন্য দলের সদস্যদের প্রস্তুত হতে বলেছিলো, তাদের কিছু সদস্য মস্কোতে ভ্রমণ করছে।
তৃতীয় একটি সূত্র, এক সিনিয়র নিরাপত্তা কর্মকর্তা বলেছেন, যেহেতু ইরান বছরের পর বছর ধসন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়েছে, তাই ইরানি কর্তৃপক্ষ গ্রেফতার আইএস-কে সন্ত্রাসীদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মস্কোকে সতর্ক করার বিষয়ে তাদের দায়িত্ব পালন করেছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদন সম্পর্কে জানতে চাইলে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ সোমবার বলেন, তিনি এই বিষয়ে কিছুই জানেন না। অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই বিষয়ে মন্তব্য করার অনুরোধে কোন সাড়া দেয়নি। এই বিষয়ে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকেও কোনো মন্তব্য করা হয়নি।
মস্কো হত্যাযজ্ঞের পেছনে কারা, নিছক জঙ্গি হামলা নয়!
মস্কো হামলায় অভিযুক্ত চার, বিচার শুরু ২২ মে