ভারতের অরুণাচল প্রদেশ নিয়ে বেইজিং-দিল্লির টানাপোড়েন অনেক দিনে। এই রাজ্যের নিয়ন্ত্রণ রেখা নিয়ে ভারত ও চীনের বিরোধ চলে আসছে বহুদিন থেকে। অরুণাচল প্রদেশকে নিজেদের বলে দাবি করে আসছে চীন। এর নামও দিয়েছে তারা জ্যাংনান। আর এর চরম বিরোধীতা করে আসছে ভারত।
প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা বা এলএসি নিয়ে চীনের সঙ্গে ভারতের দ্বন্দ্ব কিছু দিন আলোচনার বাইরে ছিলো। সম্প্রতি অরুণাচল প্রদেশের কিছু জায়গার নাম নিজেদের মতো রাখে চীন। সেই নাম প্রকাশও করা হয় রোববার। এ নিয়ে এবার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে ভারত। দিল্লি বেইজিংয়ের এমন আচরণকে বলেছে ‘বিবেকহীন’।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতীয় রাজ্য অরুণাচলের আরও ৩০টি জায়গার চীনা নাম প্রকাশ করেছে বেইজিং। এ নিয়ে চতুর্থ দফায় অরুণাচলের বিভিন্ন এলাকার চীনা নাম প্রকাশ করল দেশটি। চীনের বেসামরিক বিষয়ক মন্ত্রণালয় শনিবার এই ৩০ স্থানের সর্বজনীন নাম প্রকাশ করেছে।

চীনের এমন পদক্ষেপে বেজায় চটেছে মোদী সরকার। ভারত অরুণাচল প্রদেশে চীনা নামকরণের বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করে দেশটি জোর দিয়ে বলেছে, অরুণাচল রাজ্য ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং চীনের এমন ‘উদ্ভাবিত’ নাম বরাদ্দ করা এই বাস্তবতাকে পরিবর্তন করে না।
চীনের কাছে অরুণাচলের নাম ‘জ্যাংনান’। তাদের দাবি, ওই এলাকা দক্ষিণ তিব্বতের অংশ। মাঝেমধ্যেই তারা অরুণাচল প্রদেশের বিভিন্ন এলাকার নাম তাদের মতো করে রাখে। ভারত প্রতিবারই সেই উদ্যোগ ‘অসাড় ও অহেতুক’ বলে আসছে, অরুণাচল প্রদেশ ভারতের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ ছিল, আছে ও থাকবে।
এ নিয়ে চতুর্থবার চীন অরুণাচলের কিছু এলাকার নাম পরিবর্তন করে নিজেদের মতো করে রাখলো। এবার ১১টি আবাসিক এলাকা, ১২টি পার্বত্য এলাকা, চারটি নদী, একটি হ্রদ, একটি গিরিপথ ও একটি ফাঁকা ভূমির নাম রেখেছে চীন। এর আগে ২০১৭, ২০২১ ও ২০২৩ সালে চীন তিন দফায় একই কাজ করে বেইজিং।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল মঙ্গলবার বলেন, চীন মাঝেমধ্যেই এ ধরনের উদ্যোগ নেয়। অরুণাচলের জায়গার নাম বদলে দেয়। আমরা দৃঢ়ভাবে তা প্রত্যাখ্যান করি। মনগড়া নাম দিলেই বাস্তব পরিস্থিতি বদলে যায় না। অরুণাচল প্রদেশ ভারতের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। আগামী দিনেও তা–ই থাকবে।
আগের দিন সোমবার গুজরাটে এক অনুষ্ঠানে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর প্রশ্ন রেখে বলেন, আপনার বাড়ির নাম আমি বদলে দিলে সেটা কি আমার হয়ে যায়? মালিকানা বদলে যায়? যায় না। তেমনই অরুণাচল প্রদেশের নাম বদলালেও এই রাজ্য কখনো চীনের হবে না।
তিনি আরও বলেন, চীন ওদের মানচিত্র এমন ভূখণ্ডকে অন্তর্গত করেছে, যা আদৌ ওদের নয়। এটা ওদের পুরোনো অভ্যাস। ভারতীয় ভূখণ্ডকে নিজেদের ম্যাপে ঢুকিয়ে দিলেই কিছু পরিবর্তন হয় না। ভারত সরকার নিজেদের সীমান্ত সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবগত। আজগুবি দাবি করলেই অন্যের ভূখণ্ড ওদের হয়ে যাবে না।
সীমান্ত নিয়ে ভারত ও চীনের মধ্যে বিরোধ আছে। প্রায়ই চরম আকার ধারণ করে এই বিরোধ। গেলো বছর অরুণাচল নিয়ে শুরু হয় দ্বন্দ্ব। চীনের প্রকাশিত মানচিত্র নিয়েই মূলত এই দ্বন্দ্ব। ২৮ আগস্ট প্রকাশিত চীনের স্ট্যান্ডার্ড মানচিত্রে দেখা যায়, ভারতের অরুণাচল ও আকসাই চিন অঞ্চল চীনের মানচিত্রের ভেতরে!
আমেরিকা ঘায়েলে রাশিয়ার নতুন কৌশল!