রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ ইউক্রেনের পরাজয় এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। এই কথা স্বীকার করছেন স্বয়ং পশ্চিমা রাষ্ট্রনেতা ও গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। কিন্তু শেষ মুহূর্তে এই যুদ্ধকে দীর্ঘায়িত করতে উঠে পড়ে লেগেছে যুক্তরাষ্ট্র। ইউক্রেনের আক্রমণে শান দিতে এরিমধ্যে অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান এফ-১৬ পাঠানোর সিদ্ধান্তে অনুমোদন দিয়েছে। এমন সিদ্ধান্তে বেজায় চটেছেন রাশিয়ার নেতা ভ্লাদিমির পুতিন। পশ্চিমাদের জঙ্গিবিমান এফ-১৬ ভূপাতিতের হুমকি দিয়েছেন তিনি।
কারণ ক্রেমলিনের হাতে রয়েছে এফ-১৬ কে টেক্কা দেয়ার মতো অস্ত্রের ভাণ্ডার। তবে সব কিছু ছাপিয়ে আবারও আলোচনা রাশিয়ার দুর্ধর্ষ যুদ্ধবিমান মিগ-২৯। এখানে স্মরণ করিয়ে দেয়া যেতে যে, তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের সঙ্গে আমেরিকার স্নায়ুযুদ্ধের সময় গোটা বিশ্বেই অন্যতম জনপ্রিয় আলোচনার বিষয় হচ্ছে এফ-১৬ বনাম মিগ-২৯ বিতর্ক। কোন জেট ফাইটার সেরা, তা নিয়ে চায়ের কাপে ঝড় উঠেছে, তর্ক-বিতর্ক গড়িয়েছে হাতাহাতিতেও।

এবার আসা যাক মিগ টোয়েন্টি নাইনের গল্প। এই রুশ ফাইটার জেট যুদ্ধক্ষেত্রে কতটা শক্তিশালী, সেটা জেনে নেয়ার আগে জানতে হবে এর কার্যক্ষমতা, গুণাবলী আর কার্যকারিতার উপরে। মিগ-২৯ রাশিয়ার তৈরি একটি চতুর্থ প্রজন্মের জঙ্গি বিমান। নির্ভরযোগ্য কার্যক্ষমতার জন্য এর ডাক নাম রাখা হয়েছে ফালক্রাম। সত্তর দশকের প্রথম দিকে জঙ্গি বিমানের নকশা তৈরি হবার পর ১৯৮৩ সালে রাশিয়ার বিমান বাহিনী বহরে এই যুদ্ধবিমান যুক্ত করা হয়।
মিগ-২৯ একটি অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সুপারসনিক জেট ফাইটার। এটি রাশিয়ার তৈরি ফাইটারের মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত। ‘স্টেট ওফ আর্ট’ হিসাবে বিবেচিত মিগ-২৯ সব ধরনের আবহাওয়া উপযোগী। আকাশ থেকে আকাশে এবং আকাশ থেকে ভূমিতে দুর্দান্ত যুদ্ধ ক্ষমতার জন্য এই ফাইটার জেট অনেক দিন পর্যন্ত অনেক ইউরোপীয় দেশের কাছে মূর্তিমান আতঙ্কের নাম ছিলো। এটি তৈরিই করা হয়েছিলো সেই সময়ের মার্কিন জঙ্গি বিমান এফ-১৬ কে টেক্কা দিতে।

মিগ-২৯ এর সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় দুই হাজার চারশ’ কিলোমিটার। দৈর্ঘ্য ১৭ মিটার। উচ্চতা ১৫ ফুট ছয় ইঞ্চি। খালি অবস্থায় ওজন এগার হাজার। গোলা বারুদ ও অস্ত্র বোঝাই অবস্থায় ওজন ওজন ২১ হাজার কেজি। এই ফাইটারের শক্তির উৎস দুইটি শক্তিশালী আফটার বার্নিং টার্বো ফ্যান। মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে এটি পৌঁছাতে পারে সর্বোচ্চ গতিতে। মিগ-২৯ যুদ্ধবিমান খুব নিচ দিয়ে উড়ে যেতে পারার কারণে এটির বিশেষ মর্যাদা রয়েছে।
মিগ-২৯ বিমানে বেশ কয়েকটি যুদ্ধাস্ত্র রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো শক্তিশালী কামান। যাতে ১৫০ রাউন্ড গোলা রয়েছে। আরেকটি অস্ত্র হচ্ছে সর্বোচ্চ সাড়ে তিন কেজি ওজনের ছয়টি অ্যান্টি এয়ার ক্রাফট মিসাইল। এটি অস্ত্র বহনে এখনও বিশ্বের যে কোন যুদ্ধবিমান থেকে এগিয়ে। রয়েছে শত্রুর যুদ্ধবিমানকে শনাক্ত করার বিশেষ রাডার ব্যবস্থা। নির্দিষ্ট আকাশ সীমায় শত্রুর ফাইটারকে সবার আগে শনাক্ত করার ক্ষেত্রে এগিয়ে থাকায় এটি ডগ ফাউটে অপ্রতিরোধ্য।

এছাড়াও আরো কিছু গুণ রয়েছে মিগ টোয়েন্টি নাইনের। এটি বিভিন্ন ভাবে রাডারকে ফাঁকি দিতে পারে। শত্রুর মিসাইল থেকে নিজেকে রক্ষার জন্য অতি দ্রুত টার্ন নেয়ার দুর্দান্ত সক্ষমতা রয়েছে। সমুদ্রের জাহাজে অনেক উঁচু থেকে আঘাত করতে পারে। শত্রু বাহিনীর উপর অতি দ্রুত বোমা মেরে দিতে পারে। বিশাল ট্যাঙ্ক বহরকে বোমা মেরে গুড়িয়ে দিতেই মিগ টোয়েন্টি নাইনের জুড়ি নেই। অতি দ্রুত মিশন শেষ করে নিরাপদে ফিরে আসতে পারে মিগ-২৯।

মিগ ২৯ বিমান ব্যবহারকারী দেশের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলছে। বর্তমানে বিমানটি ব্যবহার করছে- বাংলাদেশ, আলজেরিয়া, আজারবাইজান, বেলারুশ, বুলগেরিয়া, কিউবা, ইরিত্রিয়া, ভারত, ইরান, মালয়েশিয়া, পেরু, উত্তর কোরিয়া, পোল্যান্ড, রাশিয়া, স্লোভাকিয়া, সিরিয়া এবং ইউক্রেন। বর্তমানে সারা পৃথিবীতে এই বিমানের সংখ্যা ১৬০০ এর বেশি। যার বেশিরভাগ ব্যবহারকারী রাশিয়া। কসভো ও গালফ যুদ্ধে দারুণ কার্যক্ষমতা দেখিয়েছিলো এই মিগ-২৯।
এফ-১৬ যুদ্ধবিমান কতোটা শক্তিশালী?
ইসরাইলের তেল শোধনাগারে ইরাকি যোদ্ধাদের ড্রোন হামলা