বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে নাশকতা, হত্যা ও রাষ্ট্রদ্রোহের ১১ মামলায় হাজিরার জন্য নতুন তারিখ ঠিক করা হয়েছে। আগামী ২৯ জুলাই এসব মামলায় আদালতে হাজির হতে হবে তাকে।
সোমবার এসব মামলায় খালেদা জিয়ার হাজিরার দিন ধার্য থাকলেও অসুস্থতাজনিত কারণে তিনি আদালতে উপস্থিত হতে পারেননি। তার আইনজীবীর করা সময়ের আবেদন মঞ্জুর করেন ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আসসামছ জগলুল হোসেন। একইসঙ্গে নতুন দিন ধার্য করেন।
১১ মামলার মধ্যে যাত্রাবাড়ী থানার একটি হত্যা মামলায় অভিযোগপত্র গ্রহণের বিষয়ে শুনানির জন্য দিন ধার্য ছিলো। আর বাকি ১০ মামলায় ছিলো অভিযোগ গঠনের শুনানির দিন।
এসব মামলার মধ্যে রাজধানীর দারুস সালাম থানায় রয়েছে আটটি; যেগুলোতে মামলায় নাশকতার অভিযোগ আনা হয়েছে। আর যাত্রাবাড়ী থানায় হত্যার অভিযোগসহ দুটি মামলা রয়েছে।
এছাড়া মুক্তিযুদ্ধে শহিদদের সংখ্যা নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করায় আদালতে রয়েছে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগের একটি মামলা।
২০১৫ সালে সরকার পতনের আন্দোলনে বাসে আগুন দিয়ে সারাদেশে ব্যাপক অগ্নি সন্ত্রাস চালানোর অভিযোগ রয়েছে বিএনপি-জামায়াতের বিরুদ্ধে। সে সময় অসংখ্য বাস পোড়ানো ছাড়ানো ছাড়াও বহু মানুষকে হত্যা করা হয়।
খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দারুস সালাম ও যাত্রাবাড়ী থানার মামলাগুলোতে ২০১৫ সালে অগ্নি সন্ত্রাসে প্রাণহানি ও নাশকতার অভিযোগ আনা হয়েছে।
ওইসব মামলায় ২০১৭ সালে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। সব মামলায় খালেদা জিয়াকে পলাতক দেখিয়ে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদন করা হয়। পরে খালেদা জিয়া আত্মসমর্পণ করে জামিন নেন।
২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় খালেদা জিয়াকে সাজা দেন আদালত। এরপর প্রায় দুই বছর জেলে ছিলেন তিনি।
করোনাভাইরাস মহামারির প্রকোপ শুরু হলে ২০২০ সালের ২৫ মার্চ খালেদা জিয়ার দণ্ড স্থগিত করে দুই শর্তে সরকারের নির্বাহী আদেশে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়।
শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে- তাকে বাসায় থেকে চিকিৎসা নিতে হবে এবং তিনি বিদেশ যেতে পারবেন না।
এরপর থেকে পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে খালেদা জিয়াকে ছয়মাস পরপর মুক্তির মেয়াদ বাড়ানো হচ্ছে।
৭৮ বছর বয়সী খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে আর্থরাইটিস, ডায়াবেটিস, কিডনি, লিভার, ফুসফুস, চোখের সমস্যাসহ নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন।
আবেদন খারিজ, খালেদার বিরুদ্ধে নাইকো দুর্নীতি মামলা চলবে