নদীর নাম পার্ল। মুক্তার মতোই চীনের কাছে এই নদীর গুরুত্ব। গোটা গুয়াংজু শহরের ভিত যেন এই পার্ল নদী। নদীর দুই পাড়ে গড়ে উঠেছে অসংখ্য আকাশচুম্বী ভবন শিল্প-কারখানা। একটা সময় শিল্পকারখানার দূষণে পার্ল নদী ছিলো মৃতপ্রায়।
কিন্তু চীন সরকারের নানামুখী উদ্যোগে হারানো রূপ ফিরে পেয়েছে সেই নদী। এখন পর্যটনের অন্যতম আকর্ষণ এই নদী। শিল্প শহরের প্রাণকেন্দ্রে থাকা স্বত্বেও এই নদীকে বাঁচিয়ে রাখা হয়েছে।
চীনের তৃতীয় বৃহত্তম নদীটির নাম পার্ল। একসময় এর বহতা স্রোতধারার মাঝে বড় একটা পাথর ছিলো। যাকে দূর থেকে দেখতে মুক্তার মতো মনে হতো। সেই থেকে পার্ল নামের উৎপত্তি। এই নদীকে ঘিরেই গড়ে উঠেছে চীনের উত্তরাঞ্চলের যত ব্যবসা-বাণিজ্য।

আকাশচুম্বী একেকটি ভবন, শত শত শিল্প কারখানার কবলে একসময় নদীটির হাল হয়েছিলো আমাদের বুড়িগঙ্গার মতোই। কিন্তু এখন পরিবেশবান্ধব নানামুখী উদ্যোগে প্রাণ ফিরে পেয়েছে নদীটি।
নদীর পানি পরিষ্কার আছে কিনা সেই পরীক্ষা দিতে হয় সরকারি কর্মকর্তাদের। প্রতিবছর এই নদীতে তাদের জন্য আয়োজন করা হয় সাঁতার প্রতিযোগিতা। যেখানে শহরের সব কর্মকর্তাদের বাধ্যতামূলকভাবে অংশ নিতে হয়।
শুধু বাণিজ্য নয়, এখন পর্যটকদের কাছেও বড় আকর্ষণ এই পার্ল নদী। যার তীরে দাঁড়িয়ে হয়েছে বিশ্বের তৃতীয় সর্বোচ্চ ভবন ক্যানটন টাওয়ার। ১১১ তলার এই টাওয়ারে উঠলে এক নজরে দেখা যায় পুরো গুয়াংজু শহর।

রাতের পার্ল নদী ভিন্ন রূপে ধরা দেয় পর্যটকদের কাছে। কিছুক্ষণ পর ছেড়ে যায় ক্রুজ শিপ। এক-দেড় ঘণ্টার নৌ ভ্রমণে দেখা মেলে রঙিন ক্যান্টন টাওয়ার আর রং-বেরংয়ের সব অবকাঠামো। স্থানীয়রা জানান, পার্ল নদীর রিভারক্রুজ শুধু চীনাদের কাছেই নয়, বিশ্ববাসীর কাছেও বড় আকর্ষণ।
গুয়াংজুর যেমন আছে পার্ল, তেমনি ঢাকারও আছে বুড়িগঙ্গা, শীতলক্ষ্যা, বালু আর তুরাগ। নদী বাঁচাতে প্রয়োজন শুধু আন্তরিক উদ্যোগ, যা বাংলাদেশে বিরল।
ভয়াবহ বন্যায় ৬০ হাজার মানুষকে সরিয়ে নিয়েছে চীন