মোদীর ‘ঘর ভেঙে’ যেতে পারে যে সমীকরণে

আপডেট : ০৫ জুন ২০২৪, ০৬:৫০ পিএম

ভারতের লোকসভা নির্বাচনে বড় চমক দেখিয়েছে ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন জোট ‘ইনডিয়া’। তারা ক্ষমতাসীন বিজেপির জোট ‘এনডিএ’-এর সঙ্গে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই করেছে। নির্বাচনের ৫৪৩টি আসনের চূড়ান্ত ও আনুষ্ঠানিক ফল ঘোষণা করেছে দেশটির নির্বাচন কমিশন।

চূড়ান্ত ফলে দেখা যাচ্ছে মোদির বিজেপির নেতৃত্বাধীন জোট ‘এনডিএ’ ২৯২টি আসন পেয়েছে। অপরদিকে কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন জোট ‘ইনডিয়া’ পেয়েছে ২৩৪টি আসন। অন্যান্য দল পেয়েছে বাকি ১৭টি আসন।

গত দু’বারের মতো এবারও বিজেপি সবচেয়ে বেশি ২৪০ আসন পেয়েছে। তবে তারা নির্বাচনে একক সংখ্যা গরিষ্ঠতা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে। অপরদিকে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৯৯টি আসন পেয়েছে ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল কংগ্রেস।

রামমন্দির নির্মাণ, ৩৭০ ধারা বিলুপ্তি, নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের সিএএ প্রতিশ্রুতি পূরণের দাবি ছিলো। ‘এক দেশ এক ভোট’, অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কার্যকরের অঙ্গীকার ছিলো। ছিল ‘৪০০ পার’ স্লোগান কার্যকরের লক্ষ্য। কিন্তু অষ্টাদশ লোকসভার ফল জানিয়ে দিলো, এই প্রথমবার সহযোগীদের সমর্থনের উপর নির্ভর করে সরকার গড়তে হবে বিজেপিকে।

মাত্র সাড়ে ১১ মাস আগে গড়া বিরোধী জোট যাকে প্রচারপর্বের আগাগোড়া কটাক্ষ করে এসেছেন মোদী-সহ বিজেপি নেতারা আটকে দিল ‘পদ্মে’র নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথ। আগের দুই নির্বাচনে এ ম্যাজিক ফিগার স্পর্শ করলেও এবার তা পারেনি বিজেপি। এ কারণে সরকার গঠনে তাদের এবার জোটের শরীক দলগুলোর ওপর নির্ভর করতে হবে।

আর এই বিষয়টিরই সুবিধা নেয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে কংগ্রেস। তারা মোদির ‘ঘর ভেঙে’ অর্থাৎ জোট ভেঙে সরকার গঠনের চেষ্টা চালাবে। ভারতের গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, কংগ্রেসের কয়েকজন নেতা জানান সরকার গঠনের উদ্দেশ্যে তারা বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার এবং তেলেগু দিসাম পার্টির প্রধান চন্দ্রবাবু নাইডুর সঙ্গে কথা বলবেন; এ দুজনই মোদির বিজেপি দলের মিত্র।

ইনডিয়া জোটের নেতা উদ্ভব ঠাকরে প্রথম নেতা হিসেবে জনসম্মুখে এ নিয়ে কথা বলেছেন। তিনি জানান, কংগ্রেস তাদের সঙ্গে কথা বলতে আগ্রহী। কংগ্রেসের অপর জ্যেষ্ঠ নেতা সালমান খুরশিদ এ ব্যাপারে কিছুটা সতর্কতা বজায় রেখে বলেছেন, আমরা আমাদের সব মিত্র এবং অন্যদের নিয়ে একটি স্থিতিশীল সরকার গঠনে কাজ করব। এই সম্ভাবনা আরও প্রবল হয়েছে কারণ দুই জোটের মধ্যে ব্যবধান খুবই কম।

নীতীশ কুমার এবং চন্দ্রবাবু নাইডুর দল মিলে ২৮টি আসন পেয়েছে বলে ফলাফলে দেখা গেছে। যদি এ দুজন বিজেপির সঙ্গ ত্যাগ করে এবং ‘ইনডিয়া’-র সঙ্গে যোগ দেয় তাহলে কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন এ জোটের আসন সংখ্যা দাঁড়াবে ২৬০ এ। অপরদিকে বিজেপির ‘এনডিএ’ জোটের আসন সংখ্যা কমে দাঁড়াবে ২৬০ এ।

তখন দুই জোটেরই সংখ্যাগরিষ্ঠতার ম্যাজিক ফিগার ২৭২ থেকে ১২ আসন কম থাকবে। আর এই বিষয়টি তখন পূরণ করতে পারবে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। তারা সরকার গঠনে সহায়তা করতে এগিয়ে আসতে পারে।তার মানে দাঁড়ায় ভারতের সরকার গঠনের জন্য এখন দামী হয়ে ওঠেছে স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও!

তবে এর আগে তো নীতিশ বাবুকে এনডিও জোট ছেড়ে কংগ্রেসের হাত ধরতে হবে। একই সাথে হাত বাড়াত হবে আরেক ক্রীড়ানক অন্ধপ্রদেশের বাবুচন্দ্র নাইডু দিকে। তবে চিন্তা নেই, নীতিশ কুমার ও চন্দ্রবাবু নাইডু দুই জনই ভারতীয় রাজনীতির খুব পুরনো ‘পাল্টুরাম’ হিসেবে পরিচিত। পাল্টি শব্দটা হিন্দিতেও প্রচলিত, যার মানে হল ডিগবাজি খাওয়া।

আসলে নীতিশ কুমার ও চন্দ্রবাবু নাইডু, দুই জনেই তাদের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে এতবার বিজেপির সঙ্গ ছেড়েছেন এবং ধরেছেন যে রাজনীতির পর্যবেক্ষকরাও খেই হারিয়ে ফেলেছেন। কিন্তু ‘পাল্টুরাম’ শব্দটা তাদের নামের সঙ্গে সেঁটে বসে গেছে। এরা যদি শেষ মুহুর্তে ডিগবাজি খায় তাহলেই কেল্লাফতেহ।

বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের জোট পরিবর্তন করার জন্য ‘কুখ্যাতি’ রয়েছে। তিনি গত ১০ বছরে পাঁচবার জোট পরিবর্তন করেছেন। সবশেষটি করেছেন চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে। ওই মাসে তিনি ‘ইনডিয়া’ জোট ছেড়ে মোদির ‘এনডিএ’-তে যোগ দিয়েছিলেন।

অপরদিকে, বাবুচন্দ্র নাইডু ২০১৯ সালের নির্বাচনের আগ মুহূর্তে মোদির জোট ছেড়ে দিয়েছিলেন। এরপর এবারের নির্বাচনের আগে আবার জোটটিতে যোগ দেন তিনি। যেমন এবারের লোকসভা নির্বাচনেই জেডিইউ ও টিডিপি দুটি দলই বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটের অংশ হিসেবে ভোটে লড়েছে।

বিহারে ও অন্ধ্রে যথাক্রমে জেডিইউ ও টিডিপি’র সঙ্গে বিজেপির আসন সমঝোতাও হয়েছে। কিন্তু তার মানে এই নয় যে নির্বাচনের ফল বেরোনোর পরেও এই দুটি দল বিজেপিকে সমর্থন করতে বাধ্য থাকবে।

ভারতে নির্বাচনের আগে যে সব ‘প্রাক-নির্বাচনি সমঝোতা’ হয়, ভোটের পরেও কোনও একটা জোটের সেই দলগুলোকে এক সঙ্গে থাকতে হবে, তার কোনও আইনগত বাধ্যবাধকতা নেই।

ধরা যাক এনডিএ জোটের কোনও দল ভোটের ফল বেরোনোর পর প্রতিপক্ষ ইন্ডিয়া জোটে যোগ দিতেই পারে কিংবা উল্টোটাও অনায়াসেই ঘটতে পারে। দেশের রাষ্ট্রপতিকে চিঠি দিয়ে তাদের সমর্থন কোন দল বা জোটের দিকে, সেটা জানালেই যথেষ্ঠ। তাই এখন দেখার অপেক্ষা কোথাকার পানি কোথায় গিয়ে গড়ায়।

 

 

এআর
তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে এক অভাবনীয় ও নাটকীয় পটপরিবর্তন ঘটিয়ে অভিনেতা থেকে রাজনীতিক হওয়া থালাপাতির বিজয়ের নেতৃত্বাধীন 'তামিলাগা ভেত্তরি কাজহাগাম' (টিভিকে) সরকার গঠনের পথে চূড়ান্ত ধাপে পৌঁছেছে।...
পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের চরম খরা কাটিয়ে এক নাটকীয় রূপকথার জন্ম দিয়েছেন মোতাব শেখ। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া থেকে শুরু করে বিধানসভার দোরগোড়ায় পৌঁছানো, ফারাক্কার এই...
পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার গুরুত্বারোপ করে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ফোনালাপে মোদী...
পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান সংঘাতময় পরিস্থিতি ও আঞ্চলিক উত্তেজনা নিয়ে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। খবর দ্য হিন্দুর।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দীর্ঘদিন ধরে রাজপথে ফ্যাসিবাদ বিরোধী যুগপৎ আন্দোলনে শরিক নেতাদের উদ্দেশ্য বলেছেন, আমরা অতীতে একসাথে ছিলাম, আছি এবং একসাথেই থাকবো।
স্বাক্ষরিত জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে পালন করবে বিএনপি সরকার। যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের এমনটিই জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে স্পেনের মহাকাব্যিক জয় শুধু একটি ঐতিহাসিক ট্রফি অর্জন আর রূপকথার গল্প নয়, এটি ছিল ফুটবলের এক প্রজন্ম থেকে অন্য প্রজংশে ব্যাটন হস্তান্তরের স্মারক। ফুটবল...
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের রোমাঞ্চকর ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে ইনজুরি টাইমে ফেরান তোরেসের অবিশ্বাস্য গোল স্প্যানিশ ফুটবলে নতুন ইতিহাস লিখেছে। ২০১০ সালে আন্দ্রেস ইনিয়েস্তার সেই ঐতিহাসিক জয়ের পর দেশকে...
লোডিং...
সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর