রাহুল ঝড়ে উড়ে গেলো নরেন্দ্র মোদীর পদ্মফুল। বহু বছর পর, একচেটিয়া শাসনের ইতি ঘটলো ভারতে। বলা চলে, বুধবারের সকালটা কংগ্রেসের জন্যে একটু অন্যরকম এক ভালোলাগার অনুভূতি। আর জয়ের বারতা ঘরে আসলেও নরেন্দ্র মোদীর ধ্যান মনে হলো এখনও কাটেনি।
তাইতো বলেই বসলেন, এটা বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রের বিজয়। সবকা সাথ সবকা বিকাশের বিজয়। লোকসভা নির্বাচনে ৫৪৩ আসনের চূড়ান্ত ফল এসে গেছে। নির্বাচন কমিশন বলছে, বিজেপি নেতৃত্তাধীন এনডিএ পেয়েছে ২৯৪টি আসন। অন্যদিকে কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট পেয়েছে ২৩৪ টি আসন।
এবার বিজেপি সবচেয়ে বেশি আসন পেলেও সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় আসন পায়নি। সে ক্ষেত্রে এনডিএ জোট শরিকদের ওপর নির্ভর করতে হবে বিজেপিকে। বিজেপি তার জোটসঙ্গীদের নিয়ে সরকার গঠন করতে পারবে। তবে জোটসঙ্গীদের মধ্যে বেশি আসন পাওয়া দলগুলো বিরোধী শিবিরে গেলে চিত্র বদলে যেতে পারে। যা নিয়ে শুরু হয়ে গেছে জল্পনা কল্পনাও।

বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোটের শরিকদের প্রধান অন্ধ্রপ্রদেশে চন্দ্রবাবু নাইডুর তেলেগু দেশম পার্টি ১৬টি এবং বিহারে মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের জনতা দল-ইউনাইটেড (জেডি–ইউ) ১২টি আসনে জয় পেয়েছে। এই দুই দল ছাড়া অন্যান্য শরিকের ওপরও নির্ভর করতে হবে বিজেপিকে।
এদের মধ্যে রয়েছে মহারাষ্ট্রের শিবসেনার সিন্ধে গোষ্ঠী, বিহারে লোক জনশক্তি পার্টি এবং উত্তর প্রদেশের রাষ্ট্রীয় লোক দল। অর্থাৎ বিজেপির সামনের পথটা মসৃন নয়। এই সুযোগটাই এখন কাজে লাগাচ্ছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। সরকার গঠনে তৎপর তার জোটও।
ভোটের ফল ঘোষণার দিন থেকেই শরিকদের সাথে আলাপ আলোচনা শুরু করেছে বিজেপি এবং কংগ্রেস। হিন্দুস্থান টাইমসের খবর, হিন্দুস্তান টাইমস জানতে পেরেছে, এনডিএ জোটের শরিক চন্দ্রবাবু নাইডু এবং নীতীশ কুমারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন কংগ্রেস প্রধান মল্লিকার্জুন খাগড়ে।
এ ছাড়া ওডিশার নবীন পাটনায়েকের বিজু জনতা দল বিজেডি এবং বিহারের লোক জনশক্তি পার্টির রাম বিলাসের সঙ্গেও কথা হয়েছে তাঁর। আর এই দুই নেতার দলবদলের ইতিহাস বহু পুরনো। তাদের মত পাল্টালে একেবারে পানিতে পড়ে যাবেন নরেন্দ্র মোদী।

শুধু তাই নয়, কংগ্রেস নেতাদের আশা, মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডেকেও ইন্ডিয়া জোটে যোগ দেওয়ার বিষয়ে রাজি করাতে পারবেন তাঁরা। শিবসেনার আরেক অংশের নেতা উদ্ভব ঠাকরের সঙ্গেও তাঁদের কথা হয়েছে। বিজেডির নবীন পাটনায়েক বিজেপি বা কংগ্রেস, দুই দলের থেকেই সমান দূরত্ব বজায় রেখেছিল।
যদিও ওডিশা বিধানসভায় নিজেদের সুযোগ বাড়ানোর জন্য কংগ্রেসের সহায়তা চেয়েছে বিজেডি। ২০১৯ সালে রাজ্যটির বিধানসভায় কংগ্রেসের আসন ছিল নয়টি। তবে এখন দলটির দখলে ১৬টি আসন।
বুধবারই শরিকদের মধ্যে নিয়ে শুরু হবে দরকষাকষি। কে কার দলে ভিড়বেন? কিংবা কে প্রধানমন্ত্রী হবেন, কোন দল সরকার গঠন করবে-সব কিছুই নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে ঠিক করে নেবে দলগুলো। যদিও এবারের নির্বাচনই নির্ধারণ করে দিলো মোদির ভবিষ্যত হালখাতা।
কঠিন দরকষাকষিতে যাচ্ছেন নাইডু-নীতীশ