শরিকদের হতাশ করলেন মোদী?

আপডেট : ১০ জুন ২০২৪, ১০:১০ পিএম

শরিকদের উপর নির্ভর করে সরকার গঠন করলেও সব চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় নিজেদের হাতেই রেখেছে বিজেপি।

নরেন্দ্র মোদীর মন্ত্রিসভায় বিজেপি নেতারা পেলেন প্রধান প্রধান সব মন্ত্রণালয়। তুলনামূলক কম গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে এনডিএ’র ছোট শরিকদের। মন্ত্রিসভায় শরিকদের পাঁচ জনকে পূর্ণমন্ত্রী করেছে বিজেপি। স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী হয়েছেন দু’জন। এ ছাড়া চার জনকে দেয়া হয়েছে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব।

কর্নাটকের অন্যতম প্রধান শরিক জেডিএসসের এইচ ডি কুমারস্বামীকে ভারী শিল্প এবং ইস্পাত মন্ত্রীর পদ দেয়া হয়েছে। কুটির, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের মন্ত্রী করা হয়েছে হিন্দুস্তানি আওয়াম মোর্চার জিতন রাম মাঞ্জি। বিহার থেকে জয়ী হয়েছেন তিনি। ওই রাজ্যে নীতীশ কুমারের দলকে একটি পূর্ণমন্ত্রী দেয়া হয়েছে। পঞ্চায়েত রাজ, মৎস্য, প্রাণিসম্পদ ও দুগ্ধ প্রক্রিয়াকরণ মন্ত্রী করা হয়েছে জেডিইউয়ের রাজীবরঞ্জন সিংহকে।

এ ছাড়া বিহারের আরেক শরিক লোক জনশক্তি পার্টির চিরাগ পাসওয়ানকে খাদ্যপ্রক্রিয়াকরণ শিল্পের মন্ত্রী করা হয়েছে।

বিজেপির অন্যতম প্রধান শরিক তেলুগু দেশম পার্টি-টিডিপিকে দেয়া হয়েছে বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব। ওই দপ্তরের মন্ত্রী করা হয়েছে টিডিপির কিনজারাপু রামমোহন নায়ডুকে।

স্বাস্থ্য এবং পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী করা হয়েছে শিবসেনার প্রতাপরাও যাদবকে। রাষ্ট্রীয় লোক দলের জয়ন্ত চৌধুরিকে দক্ষতা উন্নয়ন, উদ্যোগ এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী করা হয়েছে। অন্য দিকে, রিপাবলিকান পার্টি অফ ইন্ডিয়ার নেতা রামদাস অঠওয়ালেকে সামাজিক ন্যায় এবং ক্ষমতায়নের প্রতিমন্ত্রী করা হয়েছে। কৃষি ও কৃষক কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী করা হয়েছে জেডিইউ’র রামনাথ ঠাকুরকে।

আপনা দলের অনুপ্রিয়া পাটেলকে স্বাস্থ্য, পরিবার কল্যাণ এবং সার ও রাসায়নিক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। টিডিপি’র চন্দ্রশেখর পেম্মাসনি মোদীর মন্ত্রিসভায় গ্রামীণ উন্নয়ন এবং যোগাযোগ মন্ত্রণায়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন।

এনডিএ সরকারের মন্ত্রিপরিষদে কোনো পূর্ণমন্ত্রী না পাওয়ায় সোমবার হতাশা প্রকাশ করেছে শিবসেনা। অজিত পাওয়ারের ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টি (এনসিপি) মন্ত্রিত্ব দাবি দাবি করার একদিন পরেই শিবসেনার দাবি সামনে এলো।

নতুন মন্ত্রিপরিষদে এনডিএর অন্যান্য মিত্রদের আনুপাতিক হার তুলে ধরে একনাথ সিন্ধের শিবসেনার প্রধান হুইপ শ্রীরং বার্নে বলেন, আমরা অন্তত একজন মন্ত্রী আশা করেছিলাম।

তিনি বলেন, চিরাগ পাসোয়ান পাঁচজন, জিতন রাম মাঞ্জি একজন এবং জেডিএস থেকে মাত্র দুইজন সংসদ সদস্য। তবুও তারা প্রত্যেকে মন্ত্রিসভায় একটি করে পদ পেয়েছেন।

‘আর আমাদের সাতটি লোকসভা আসন থাকা সত্ত্বেও, শিবসেনা থেকে কেন শুধু মাত্র একজন স্বাধীন দায়িত্বের প্রতিমন্ত্রী পেল,’ ক্ষোভের সঙ্গে এ প্রশ্ন তলে বার্নে বলেন, শিবসেনা বিজেপির পুরোনো মিত্র। অন্তত এর জন্য হলেও শিবসেনার পূর্ণ মন্ত্রী পদ পাওয়া উচিত ছিল।

এদিকে এনডিএ জোটের ওপর ক্ষোভ ঝেড়েছেন মহারাষ্ট্রের এনসিপি। একজন হলেও পূর্ণমন্ত্রী চান তারা। তবে এই এনডিএ মিত্রকে তা না দিয়ে একজন প্রতিমন্ত্রীর দেওয়ায় রোববার শপথের দিনই ক্ষোভ ঝাড়েন দলটির নেতারা। এনসিপির প্রধান অজিত পাওয়ার প্রতিমন্ত্রীর প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন।

সদ্য শেষ হওয়া নির্বাচনে বিজেপির অন্যতম মিত্র মহারাষ্ট্রে সাতটি আসনে আর এনসিপি বিজয়ী হয় চার আসনে। মহারাষ্ট্রে নয়টি আসনে জয় পেয়েছে বিজেপি।

রোববার টানা তৃতীয়বারের মতো শপথ নিয়ে স্বাধীন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর রেকর্ড ছুঁয়েছেন নরেন্দ্র মোদী। মোদীর টিমে রয়েছেন ৩০ জন পূর্ণমন্ত্রী ও ৪১ জন প্রতিমন্ত্রী। এরমধ্যে জোট শরিকদের দেওয়া হয়েছে ১১টি পদ।

৪০০ আসন পাওয়ার ঘোষণা দিয়ে এবার ভোটের নামে মোদীর নেতৃত্বে এনডিএ। কিন্তু গত তিনটি নির্বাচনের মধ্যে বিজেপি এবার সবচেয়ে খারাপ ফল করেছে। ৫৪৩ আসনের মধ্যে এনডিএ পেয়েছে ২৯২ আসন, আর বিজেপি একা পেয়েছে ২৪০ আসন।

কিন্তু ১০ বছর আগেও এই চিত্র ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। ২০১৪ সালের নির্বাচনে ২৭২ এবং ২০১৯ সালের নির্বাচনে ৩০৩ আসন পায় বিজেপি একাই। ভারতে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ২৭২ আসন।

গত দুইবার একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা সরকার গঠন করায় যে দাপট দেখিয়েছেন নরেন্দ্র মোদী, এবার আর তা হচ্ছে না। মোদী হয়ে পড়েছেন নির্ভরশীল। মোদীর সঙ্গে  কঠিন দরকষাকষিতে নামে শরিকরা।

এদিকে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইন্ডিয়া জোট পেয়েছে ২৩৩ আসন। আর কংগ্রেস একা পেয়েছে ৯৯ আসন। রাহুল গান্ধী লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা নির্বাচিত হয়েছেন।

কেএসএইচ
ভোটার তালিকা সংশোধনে অনিয়মের অভিযোগে ভারতের রাজধানী দিল্লির কনট প্লেসে ‘লেহরা দো তিরঙ্গা’ বা জাতীয় পতাকা পদযাত্রার পরিকল্পনা করার দায়ে গ্রেপ্তার হওয়া কাকরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা...
ভারতের রাজনীতিতে এখন চরম উত্তেজনার পারদ! সৌজন্যে- জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণ ছাত্রনেত্রী নেহা বোরা এবং তার একটি বিস্ফোরক ভিডিও। সাক্ষাৎকারের একটি ক্লিপে নেহাকে বলতে শোনা গেছে, ভারতের...
ভারতের রাজনীতি আর বিচারবিভাগের রাজকীয় সীমানা, দুইয়ের সংঘাত এখন তুঙ্গে! দেশের নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সরাসরি সুপ্রিম কোর্টে মিছিল এবং আদালত চত্বরে বিক্ষোভ প্রদর্শনের ঘটনায় তীব্র...
ভারতের বাণিজ্যিক রাজধানী হিসাবে খ্যাত মুম্বাইয়ে এক রাজনৈতিক প্রতিবাদে অংশ নিয়ে চরম আইনি জটিলতায় পড়েছেন বলিউড অভিনেতা ইমরান খান। মার্কিন নাগরিকত্বধারী এই অভিনেতাকে ভারত ত্যাগের নির্দেশ দিয়ে...
সৌদি আরবে নিহত প্রবাসী বাংলাদেশি নুরুল হকের পরিবার সরকারের কূটনৈতিক সহায়তায় দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ক্ষতিপূরণের অর্থ বুঝে পেয়েছে। প্রাপ্ত এই সহযোগিতার জন্য গভীর কৃতজ্ঞতা জানাতে নিহতের স্বজনেরা আজ...
বরগুনার বেতাগীতে কিশোর গ্যাং, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড, চাঁদাবাজি, অবৈধ দখলবাজি এবং ছড়িয়ে পড়া অনলাইন জুয়া চিরতরে নির্মূল করতে বেতাগী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) দুই মাসের (৬০ দিন) সময়সীমা বেঁধে...
কেউ যদি সাধারণ মানুষের প্রত্যাশার পরিপন্থী কোনো কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে, তবে সে বিষয়ে আইন ও সরকারের অবস্থান স্পষ্ট, এখানে কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন...
দেশে মাদক নিয়ন্ত্রণ ও চিকিৎসা ব্যবস্থার মতো স্পর্শকাতর খাতগুলোতে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর চরম অকার্যকারিতা ও ব্যর্থতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের তীব্র সমালোচনা...
লোডিং...
সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর