বাংলাদেশ বিমান সিট ফাঁকা রেখে ওড়ে, এমন অভিযোগ সত্য নয় বলে দাবি করেছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী মুহাম্মদ ফারুক খান।
বৃহস্পতিবার সংসদে বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ মুজিবুল হক চুন্নুর প্রশ্নের জবাবে এ দাবি করেন তিনি। স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উপস্থাপন করা হয়।
অনলাইনে টিকিট না মিললেও ফ্লাইটে অনেক আসন ফাঁকা থাকার অভিযোগ- বিমানের বিরুদ্ধে নতুন নয়। এ নিয়ে গণমাধ্যমের বিভিন্ন সময় খবর প্রকাশিত হয়। সামাজিক যোগযোগ মাধ্যমেও সমালোচনা হয়েছে।
গত মার্চ মাসে এক যাত্রী এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা করলে বিষয়টি আবারও আলোচনা আসে। এ নিয়ে গণমাধ্যমেও খবর হয়। তখন বিমান এ অভিযোগকে ‘ঢালাও মনগড়া’ বলে আখ্যা দেয়।
সংসদে প্রশ্নের জবাবে ফারুক খান বলেন, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের টিকিট যাত্রীরা বিমানের ওয়েবসাইট, জিডিএস, মোবাইল অ্যাপ, কল সেন্টার ও বিমানের নিজস্ব বিক্রয়কেন্দ্র ছাড়াও যে কোনো অনুমোদিত দেশি/বিদেশি ট্র্যাভেল এজেন্ট থেকে কিনতে পারেন। বিমানের কোনো টিকিট যাত্রীর তথ্য ছাড়া বুকিং করা সম্ভব নয়। ফলে কারোর পক্ষে একসঙ্গে অনেক টিকিট যাত্রীর তথ্য ছাড়া বুকিং করে রাখার কোনো সুযোগ নেই। কোনো এজেন্সি চাইলেই যাত্রীর তথ্য ছাড়া কোনো টিকিট বুকিং করতে পারবে না। সেই সঙ্গে কোনো এজেন্সি মিথ্যা বা ভুয়া তথ্য দিয়ে বুকিং করলে সেটি ধরে জরিমানাসহ অন্যান্য পদক্ষেপও নেয়া হয়। এছাড়াও প্রতিটি টিকিটে বুকিং সময়সীমা দেয়া থাকে যার মাঝে টিকিট কেনা না হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যায়।
এয়ারলাইন্স ব্যবসায় ‘ভরা মৌসুম’ ও ‘মন্দা মৌসুম’ থাকে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, যখন ফ্লাইটে চাপ কম থাকবে, তখন কিছু সিট খালি থাকতে পারে যা সারা বছরের চিত্র নয়। আসন খালি থাকা সত্ত্বেও টিকিট কিনতে গেলে বলে টিকিট নেই, যা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিরুদ্ধে ঢালাও অভিযোগ। এছাড়াও যাত্রীরা টিকিট কনফার্ম করেও যথাসময়ে এয়ারপোর্টে উপস্থিত হতে না পারা, যাত্রীদের অনেকের ভুয়া ভিসা ও তথ্য থাকায় এবং ইমিগ্রেশনের আইনি জটিলতার কারণেও অনেক সময় আসন ফাঁকা থাকে। কিছু রুটে লোড পেনাল্টি থাকায় কিছু সংখ্যক সিট অবিক্রিত রাখা হয়, তাই সিট ফাঁকা থাকে। কিন্তু সিট ফাঁকা থাকলেও বিমানের টিকিট পাওয়া যায় না এবং বেশিরভাগ সময় সিট ফাঁকা রেখে বিমান উড্ডয়ন করে থাকে এই কথা সত্য নয়।
স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য এ বি এম আনিছুজ্জামানের প্রশ্নের উত্তরে বিমানমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের রুট বা গন্তব্যভেদে টিকিট মূল্য বিভিন্ন হয়ে থাকে। বিভিন্ন দেশের এয়ারলাইন্সগুলো তাদের বিদ্যমান যোগান ও চাহিদা, প্রতিযোগিতামূলক বাজার, ব্যবসায়িক সম্প্রসারণ নীতি, পরিষেবা প্রদান প্রভৃতির ওপর ভিত্তি করে টিকিট মূল্য নির্ধারণ করে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়লেও বিমানের টিকিটের দাম বেড়ে যায়।
তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ব্যবসায়িক স্বার্থের ঊর্ধ্বে থেকে যাত্রীদের কথা বিবেচনা করে বিভিন্ন গন্তব্যে সারা বছরেই বিভিন্ন অফার বা টিকিটে ছাড় দিয়ে থাকে। আর বিভিন্ন অফার বা ছাড় দেওয়ার বিষয়টি সবসময়ই অব্যাহত থাকে। বিমান বাংলাদেশ বাজেট এয়ারলাইন্স নয়, এটি একটি ফুল সার্ভিস ক্যারিয়ার।
নতুন সময়সূচিতে যাচ্ছে মেট্রোরেল