বিশ্বের অন্যতম বাণিজ্যিক সমুদ্রপথ লোহিত সাগর এখন ইসরাইল সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর জন্য রীতিমতো নরকে পরিণত হয়েছে। ইয়েমেন সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতি যোদ্ধাদের তাণ্ডবে এই সমুদ্রপথে প্রায় প্রতিদিনই পশ্চিমা বাণিজ্য জাহাজ আক্রান্তের খবর শিরোনামে আসছে। শুধু আক্রান্তই নয়, হুতির গোলায় ডুবেও যাচ্ছে জাহাজ।
ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতির হামলার এক সপ্তাহ পরে, গ্রিসের মালিকানাধীন একটি জাহাজ ডুবে গেছে। বুধবার লোহিত সাগর দিয়ে যাওয়া কয়লাবাহী ওই জাহাজে হামলা চালায় হুতিরা। এ ঘটনায় হতাহতের কোন খবর পাওয়া যায়নি। তবে হামলার সময় ইঞ্জিনরুমে থাকা একজন ক্রু নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে।
বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ইউনাইটেড কিংডম মেরিটাইম ট্রেড অপারেশন্স জানিয়েছে, মঙ্গলবার টিউটর নামক ওই জাহাজটি সবশেষ যেখানে দেখা গিয়েছিল, তার চারপাশে ধ্বংসাবশেষ ও তেল দেখা গেছে। অন্যান্য জাহাজকেও এই এলাকায় সতর্কতা বজায় রাখার পরামর্শ দিয়েছে ইউকেএমটিও।

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইসরাইল-হামাস চলমান যুদ্ধে হামাসের পক্ষ নিয়ে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা লোহিত সাগরে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোয় ক্রমাগত হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দ্বিতীয় জাহাজডুবিতে দারুণ বিচলিত হয়ে পড়েছে জাহাজ মালিকরা।
সূত্র জানায়, জাহাজটিতে মিসাইল ও বিস্ফোরকবাহী দূরনিয়ন্ত্রিত নৌকা দিয়ে হামলা চালানো হয়েছে। চলতি বছরের ২ মার্চ হুতির হামলায় ডুবে যায় ৪১ হাজার টনেরও বেশি সার বহনকারী ব্রিটিশ জাহাজ ‘রুবিমার’। এরপরেই টিউটরের ডুবে যাওয়ার খবর এলো। এতে করে এই সমুদ্রপথ আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠলো।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক নৌ সেনারা পণ্যবাহী জাহাজগুলোকে রক্ষায় লোহিত সাগরে নিয়মিত টহল দিলেও হুতিদের হামলার সংখ্যা অনেক বেড়েছে। হুতিদের দূর নিয়ন্ত্রিত নৌকা দিয়ে হামলার কারণে উদ্বেগ বেড়ে গেছে। শুধু উদ্বেগবি নয়, বিষয়টি এখন মূর্তিমান আতঙ্কও।

কারণ, এই প্রথম মানুষহীন দূর নিয়ন্ত্রিত নৌকা দিয়ে সফলভাবে হামলা চালাচ্ছে হুতি যোদ্ধারা। এমন জটিল পরিস্থিতিতে ঝামেলা আরও বাড়ছে। এসব হামলার কারণে জাহাজের ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার খরচও বেড়েছে। দ্বিতীয় জাহাজডুবির কারণে যে খরচ আরও বেড়ে যেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
একটি হিসাব জানাচ্ছে, গত মে মাসে হুতিরা পাঁচবার বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালালেও, চলতি জুনে এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০-এ। যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক নৌ সেনারা পণ্যবাহী জাহাজগুলোকে রক্ষায় লোহিত সাগরে নিয়মিত টহল দিলেও হুতিদের হামলার সংখ্যা অনেক বেড়েছে।
হামলা থেকে রক্ষা পেতে পণ্যবাহী জাহাজগুলোকে আফ্রিকার দক্ষিণে উত্তমাশা অন্তরীপ ঘুরে চলাচল করতে বলা হচ্ছে। তবে এই ঘুর পথে চলাচল করতে হলে পণ্য পরিবহনে খরচ অনেক বেড়ে যাবে, যার সরাসরি প্রভাব ফেলবে আন্তর্জাতিক বাজারে। আর সেই ঝুঁকি নিতে চাইছে না বেশিরভাগ দেশ।
রাশিয়ার জ্বালানি ডিপোতে ড্রোন হামলায় আগুন