ইরানে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। গেলো ২৮ জুন দেশটিতে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রথম পর্যায়ের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু চার প্রার্থীর কেউই ৫০ শতাংশ ভোট না পাওয়ায় দ্বিতীয় দফায় ভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
ইরানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম পার্সটুডে ও প্রেসটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার সকাল ৮টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে, যা সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত চলবে। তবে ভোটারের উপস্থিতি বেশি হলে ভোটগ্রহণের সময় বাড়ানো হবে।
সকালে রাজধানী তেহরানে প্রথম প্রহরেই ভোট দিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। এসময় তিনি ইরানের সর্বস্তরের জনগণকে ভোট কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে তাদের রায় প্রদানের আহবান জানিয়েছেন।
খামেনি বলেন, আমি আশা করব ইরানি জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দেবেন। ভোটাররা যত বেশি সুস্পষ্টভাবে তাদের রায় ঘোষণা করবেন, দেশের শাসনব্যবস্থা রাষ্ট্রকে এগিয়ে নেয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গণে তত বেশি কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে। এই দিক দিয়ে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দ্বিতীয় পর্বের এই ভোট ইরানি জনগণের সামনে মহা সুযোগ এনে দিয়েছে।
ইরানের অভিভাবক পরিষদের মুখপাত্র হাদি তাহান নাজিফ এর আগে এক ঘোষণায় জানিয়েছিলেন, কেবলমাত্র ইরান থেকেই নয় বরং বিশ্বের ৯৫টি দেশ থেকে এই নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাবেন ইরানিরা।

এদিকে প্রথম দফার নির্বাচনে ভোটগ্রহণের জন্য ইরানে ৫৯ হাজার ভোটকেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছিল। আজকের নির্বাচনেও কেন্দ্রের সংখ্যা একই থাকবে। তবে প্রয়োজনে বাড়ানোর কথা বলেছেন নির্বাচনী কর্মকর্তারা।
এর আগে গেলো ২৮ জুন অনুষ্ঠিত নির্বাচনে চার প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন তবে কেউ এককভাবে শতকরা ৫০ ভাগের বেশি ভোট না পাওয়ায় নির্বাচন রান অফে গড়ায়। নির্বাচন রান অফে গড়ানোর কারণে এখন প্রধান দুই প্রার্থী সাঈদ জাললি এবং মাসুদ পেজেশকিয়ানের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে।
প্রথম দফার নির্বাচনে ভোট দেন দুই কোটি ৪৫ লাখ ইরানি। এরমধ্যে সংস্কারপন্থি প্রার্থী পেজেশকিয়ান পান এক কোটি চার লাখ ভোট। অন্যদিকে সাবেক প্রধান পরমাণু আলোচক ও বিপ্লবের মূলনীতির অনুসারী সাঈদ জালিলি পান ৯৪ লাখ ভোট।

গেলো রোববার থেকে এই দুই প্রার্থী রান অফ নির্বাচনের জন্য জোরদার প্রচারণা শুরু করেন। এর অংশ হিসেবে তারা নির্বাচনী প্রচার সভা ও বৈঠকে যোগ দেন। এছাড়া টেলিভিশনের দুটি মুখোমুখি বিতর্ক অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
ধারণা করা হচ্ছে আজকের নির্বাচনে এই দুই নেতার মধ্যে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে।
যে কারণে আগাম নির্বাচন
গেলো মে মাসে আজারবাইজানের সীমান্তের কাছে দুটি বাঁধ উদ্বোধন করেন ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি। এরপর হেলিকপ্টারে চড়ে ইরানের উত্তর-পশ্চিমের তাবরিজ শহরের দিকে যাচ্ছিলেন তিনি ও তার সহযাত্রীরা। পথিমধ্যে পাহাড়ি এলাকায় দুর্ঘটনার কবলে পড়ে তাদের বহনকারী হেলিকপ্টারটি।
পরে পূর্ব আজারবাইজান প্রদেশের পাহাড়ি ও তুষারাবৃত এলাকায় ইরানি প্রেসিডেন্টকে বহনকারী হেলিকপ্টারের ধ্বংসাবশেষ খুঁজে পায় অনুসন্ধানী দল।
দুর্ঘটনায় নিহত হন ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি, পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসেইন আমির আব্দুল্লাহিয়ান পূর্ব আজারবাইজানের গভর্নর মালেক রহমাতি, পূর্ব আজারবাইজানে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার প্রতিনিধি মোহাম্মদ আলী আলে-হাশেম, প্রেসিডেন্ট গার্ডের প্রধান মেহেদি মুসাভি। প্রাণ হারিয়েছেন হেলিকপ্টারের পাইলট, কো-পাইলটও।
নির্বাচন থেকে কিছুতেই সরে দাঁড়াবেন না বাইডেন
লেবার পার্টির নিরঙ্কুশ জয়, হার মেনে নিলেন সুনাক