গোটা ইউরোপ যখন ডানপন্থার দিকে ঝুঁকছে, সেখানে পাল্টা চিত্র দেখা গেলো যুক্তরাজ্যে। দেশটির পার্লামেন্ট নির্বাচনে মধ্য বামপন্থি লেবার পার্টি ঐতিহাসিক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এ প্রবণতা ভবিষ্যতে ব্রিটেনের রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
গত মাসের ইউরোপীয় পার্লামেন্ট নির্বাচনে কট্টর ডানপন্থি দলের সদস্যরা রেকর্ড সংখ্যায় নির্বাচিত হয়েছেন। এর ফলে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ নিজের দেশে আগাম নির্বাচন আয়োজন করেন। প্রথম ধাপের নির্বাচনে কট্টর ডানপন্থি ন্যাশনাল পার্টি এগিয়ে রয়েছে। এছাড়া, নেদারল্যান্ডসেও ডানপন্থিদের সরকার গঠিত হয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে কট্টর ডানপন্থি নেতার নেতৃত্বে রয়েছে ইতালি।
এর পেছনে বিভিন্ন কারণের কথা উঠে এসেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক প্রতিবেদনে। এসব কারণের মধ্যে রয়েছে- অর্থনীতির ধীরগতি, অভিবাসীদের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং জ্বালানির উচ্চমূল্য। তবে ডানপন্থিদের প্রচারণায় ব্রেক্সিটের মাধ্যমে ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে ব্রিটেন বেরিয়ে গেলেও এখন দেশটি মধ্য-বামপন্থার দিকে ঝুঁকছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার (ব্রেক্সিট) আহ্বানের জোয়ার ওঠায় রীতিমতো গণভোট আয়োজন করতে হয়েছে যুক্তরাজ্যে। তাহলে সেই দেশের নির্বাচনী ফলাফলে কেন ইউরোপের অন্য দেশেগুলোর বিপরীত চিত্র—উঠেছে এমন প্রশ্ন।
যুক্তরাজ্যে মধ্য-বাম ঘরানার লেবার পার্টির জয় ইউরোপীয় ডানপন্থার উত্থানের বিরুদ্ধে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। তবে ব্রিটেনের ডানপন্থি রাজনীতিতে নাইজেল ফারাজের প্রভাব এবং কনজারভেটিভ পার্টির ভাঙন ভবিষ্যতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
কনজারভেটিভ পার্টির নতুন নেতা নির্বাচন নিয়ে দলটিতে অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। নাইজেল ফারাজের সঙ্গে মিলিত হয়ে ভোট ভাগাভাগি করা নিয়ে বিতর্ক চলবে। কয়েকজন নেতা হয়তো চাইবেন ডানপন্থায় ঝুঁকে ফারাজের দলের ভোটারদের সমর্থন পেতে। আবার কেউ কেউ ফারাজের সঙ্গে সমঝোতার বিরোধিতা করতে পারেন।
ইউরোপের অন্যান্য দেশের মতো এ ধরনের সমস্যার অনেকগুলোরই সম্মুখীন যুক্তরাজ্যও। স্টারমার যদি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে হোঁচট খান, তবে গণ–আকাঙ্ক্ষা মুঠোয় আনার সব সম্ভাবনা আছে জনপ্রিয় ডানপন্থীদের; যেমনটা ঘটেছে ইউরোপের অন্যান্য দেশে।
এর আগে বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত যুক্তরাজ্যের সাধারণ নির্বাচনে ভূমিধস বিজয় লাভ করেছে লেবার পার্টি। কিয়ার স্টারমারের নেতৃত্বাধীন লেবার পার্টি ৪১২ আসনে জয় নিশ্চিত করেছে। গত নির্বাচনের চেয়ে এবার ২১১টি আসন বেশি পেয়েছে তারা। বিপরীতে বর্তমান ক্ষমতাসীন দল কনজারভেটিভ পার্টি ২৫০ আসন হারিয়েছে। ঋষি সুনাকের নেতৃত্বে নির্বাচন করা দলটি পেয়েছে ১২১ আসন।
গাজায় জাতিসংঘের স্কুলে ইসরাইলি হামলা, নিহত ১৬
যুক্তরাষ্ট্রে জন্মদিনের পার্টিতে বন্দুক হামলা, নিহত চার