মধ্যপ্রচ্য সংকটে সব সময়েই যেন, ‘ধরি মাছ না ছুঁই পানি’ অবস্থানে বিশ্বের অন্যকম ক্ষমতাধর দেশ- রাশিয়া। দেশটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন তখন কি করবেন, তা বলে কয়ে করেন না। যখন যেটা করা দরকার ঠিক সেটাই করেন। আর তাঁর সব চালের একটাই উদ্দেশ্য, সেটি হলো চিরশত্রু আমেরিকাকে ঘোল খাওয়ানো। গেলো চারটি বছর ধরে তো জো বাইডেনকে রীতিমতো চরকির উপর ঘুরাচ্ছেন পুতিন।
গাজায় হামাসের বিরুদ্ধে ইসরাইলি অভিযানের শুরু থেকেই মধ্যপ্রাচ্য সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানের উপর জোর দিয়ে আছেন পুতিন। বলছেন, স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রই সমাধানের একমাত্র উপায়। কিন্তু তার কথায় কান দেন না ইসরাইলি নেতা বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও দেশটির প্রধান দোসর জো বাইডেন। উল্টো সঙ্কট আরও তীব্র করে নিরীহ ফিলিস্তিন ও আরবদের উপর নির্বাচারে হামলা চালিয়ে।
তবে, ইসরাইলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে শুরু থেকেই প্রতিরোধ লড়াইয়ে হাজির লেবাননের সশস্ত্র সংগঠন হিজবুল্লাহ আর ইয়েমেন বিদ্রোহী গোষ্ঠি হুতি। তাদের সঙ্গে আছে ইরাক-সিরিয়ার ইসলামিক যোদ্ধারা। ইরান সমর্থিত এই প্রতিরোধ অক্ষের দাপটে এখন রীতিমতো ত্রিশঙ্কু অবস্থা ইসরাইলের। বিশেষ করে লোহিত সাগরে হুতিদের একের পর এক সফলতায় এখন দিশেহারা ইসরাইলের বন্ধু পশ্চিমারা।
সম্প্রতি লোহিত সাগরের পাশাপাশি হুতিরা তাদের হামলার পরিধি বিস্তৃত করে নিয়ে গেছে ভূমধ্য ও আরব সাগর পর্যন্ত। বিশাল এই সমুদ্র পথে ইসরাইল সংশ্লিষ্ট কোন পণ্যবাহী জাহাজ পেলেই লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করছে হুতি যোদ্ধারা। তোয়াক্কা করছে না মহাশক্তি আমেরিকার নৌ বাহিনীকেও। উল্টো পশ্চিমাদের যুদ্ধ জাহাজকে ধাওয়া করে ইয়েমেনের উপকূল ছাড়া করছে ফিলিস্তিনের পর বন্ধু এই গোষ্ঠিটি।
আর, না প্রকাশ্যে না গোপনে হুতিদের হাতে আধুনিক অস্ত্রের চালান কিংবা নকশা দিয়ে সহায়তা করে যাচ্ছে রাশিয়া। সেই সঙ্গে লোহিত সাগরে কৌশলগত যুদ্ধে কি করে জিততে হবে, সেই বুদ্ধি ও পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে দেশটি। সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যে রাশিয়ার বিশেষ দূত মিখাইল বোগদানভের সঙ্গে লোহিত সাগরে চলমান সামরিক অভিযান নিয়ে আলোচনা করেছে ইয়েমেনের সশস্ত্র এই গোষ্ঠির একটি প্রতিনিধি দল।
ইয়েমেন মনিটরের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই বৈঠকে গাজায় ইসরাইলের আগ্রাসন এবং ইয়েমেনে ইঙ্গো-মার্কিন জোটের হামলা বন্ধের উপায় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এ সময় হুতি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রোহিত সাগরে একমাত্র ইসরাইল সংশ্লিষ্ট জাহাজে হামলা করা হচ্ছে, অন্য কোন দেশের জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে না। হুতি মনে করে, ইসরাইল সংশ্লিষ্ট যে কোন জাহাজই তাদের বৈধ টার্গেট।
এদিকে, মার্কিন সাময়িকী নিউজউইক ম্যাগাজিন জানিয়েছে, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইরানের মিত্র হুতি বাহিনীকে জাহাজ ডুবিয়ে দিতে সক্ষম এমন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দেয়ার কথা বিবেচনা করছেন। তাই বাইডেন প্রশাসনে আশঙ্কা, মস্কোর সঙ্গে হুতিদের সম্পর্ক লোহিত সাগরে পশ্চিমা জাহাজের চলাচলকে আরও বেশি বিপন্ন করে তুলবে। একই সঙ্গে সাগরে নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে ভঙ্গুর করে দেবে।
নিউজইউকের মতে, ইউক্রেনকে দু’হাত খুলে পশ্চিমাদের অস্ত্র সহায়তার পাল্টা ব্যবস্থা হিসাবে ইরানের সঙ্গে সখ্যতা বাড়িয়ে রাশিয়া মধ্যপ্রাচ্যে নতুন একটি জোট গঠন করতে চাইছে। সেই লক্ষ্য ব্রিকস জোটের বাইরেও ইয়েমন-লেবানন-সিরিয়ার সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার সম্পর্কে জোর দিচ্ছি ক্রেমলিন। এতে করে হুতিরা সামনের সময়ে আরও ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে পারে বলেই মনে করছে মার্কিন থিঙ্ক ট্যাঙ্কগুলো।
উল্লেখ্য, গেলো নভেম্বর থেকে শুধু পেন্টাগণের হিসাবেই ইয়েমেনের উপকূলে প্রায় দুশ’ পণ্যবাহী জাহাজে হামলা হয়েছে। এমনকি মার্কিন বিমান হামলার মধ্যেও শতাধিক জাহাজে হামলা করেছে হুতিরা। গত মার্চে রুবিমার ও টিউটর নামের দুটো জাহাজ ডুবিয়ে দিয়েছে। একটি জাহাজে বিস্ফোরক বোঝাই মানুষ্যহীন বোট দিয়ে হামলা চালানো হয়েছে। আর, ট্রু কনফিডেন্সে আগুন ধরিয়ে দেয় হুতি যোদ্ধারা।
তিন বছরের মধ্যে বিশ্বজুড়ে ভেঙে পড়তে পারে সাইবার নিরাপত্তা 