ব্যবসায়ীদের দাবির মুখে চলমান কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যেই আগামীকাল রোববার থেকে খুলছে দেশের সব গার্মেন্টস ও অন্যান্য শিল্প প্রতিষ্ঠান। এ কারণে শনিবার সকাল থেকে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার মানুষ কর্মস্থলে যোগ দিতে ঢাকায় ফিরছেন। মুন্সীগঞ্জের শিমুলিয়া ঘাটে বেড়েছে ঢাকামুখী যাত্রীদের চাপ। মানা হচ্ছে না কোনো স্বাস্থ্যবিধি।
শনিবার (৩১ জুলাই) শিমুলিয়া ঘাট কর্তপক্ষ জানায়, সকাল থেকেই ঢাকামুখী যাত্রী ও যানবাহন ঘাটে আসতে শুরু করে।
শিমুলিয়া ঘাটের ট্রাফিক পুলিশ পরিদর্শক (টিআই) মো. জাকির হোসেন একাত্তর টেলিভিশনকে বলেন, আমাদের ঘাটে যানবাহন এসেই ফেরিতে উঠতে পারছে। ঘাটে ঢাকামুখী যাত্রী ও যানবাহনের প্রচুর চাপ বেড়েছে।
কাকলি আক্তার নামে এক গার্মেন্টস কর্মী জানান, তিনি সাভারের একটি পোশাক কারখানায় কাজ করেন। মানুষের মুখে শুনেছেন আগামীকাল থেকে পোশাক কারখানা খোলা থাকবে। তাই কর্মস্থলের দিকে ছুটছেন তিনি।
আল আমিন নামের অপর এক পোশাককর্মী বলেন, ঈদের পর থেকে ভাবছিলাম কবে গার্মেন্টস খুলবে। গত কালকে রাতে ফোন পেলাম আমাদের পোশাক কারখানা রোববার থেকে খুলবে। তাই গোপালগঞ্জের গ্রামের বাড়ি থেকে আবারও ঢাকায় রওনা হলাম।
স্থানীয় ও শিমুলিয়া ঘাট সূত্রে জানা গেছে, করোনা মহামারির কারণে চলাচলে বিধিনিষেধ থাকায় শিমুলিয়া-বাংলাবাজার নৌপথে লঞ্চ, স্পিডবোট ও ট্রলার চলাচল বন্ধ রয়েছে। এ কারণে যাত্রীদের চাপ বেড়েছে ফেরিগুলোয়। ঈদের পরদিন থেকে রাজধানী ঢাকায় ফিরতে শুরু করেন মানুষজন। তবে যারা ঈদে বাড়ি যেতে পারেননি তারাও দলে দলে ঢাকা ছাড়েন এ কয়দিন।

এ নৌপথে গত এক সপ্তাহ ধরেই উভয় দিক থেকে মানুষের যাওয়া আসা চলছিল। আগামীকাল থেকে আবারও শিল্প প্রতিষ্ঠান খুলছে- এমন ঘোষণার পর থেকে জীবিকার তাগিদে কর্মস্থলে যোগ দিতে ঢাকার দিকে রওনা হচ্ছেন মানুষ। বাংলাবাজার ঘাট থেকে যেসব ফেরি ঘাটে আসছে তাতে বোঝাই করে মানুষজন আসছে। ফেরিতে মানুষের তুলনায় গাড়ির সংখ্যা খুব কম। এতে উপেক্ষিত হচ্ছে স্বাস্থ্যবিধি, বাড়ছে করোনার ঝুঁকি।
যাত্রীদের চাপ সামলাতে এই নৌপথে চলাচল করছে ১০টি ফেরি। ফেরি থেকে নামার পরে তিন থেকে চারগুণ বাড়তি ভাড়া দিয়ে বিভিন্ন যানবাহনে নিজ নিজ গন্তব্যে ছুটছেন যাত্রীরা।
বিআইডব্লিটিসির শিমুলিয়া ঘাটের উপ-মহাব্যবস্থাপক মো. শফিকুল ইসলাম একাত্তর টেলিভিশনকে জানান, আমাদের ঘাটে অল্প কিছু যানবাহন পারাপারের অপেক্ষায় রয়েছে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলগামী যাত্রীর চাপ কম। তবে বাংলাবাজার ঘাটে প্রচুর যানবাহন অপেক্ষমাণ আছে। আগামীকাল থেকে গার্মেন্টস খোলা থাকার কারণে এই চাপ বেড়েছে। রোববারের পরে এ চাপ কমে যাবে বলে আশা করছি।
আরও পড়ুন: দৌলতদিয়া ঘাটে আজও যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়
কয়েকজন যাত্রী তাদের দুর্ভোগের কথা জানিয়ে বলেন, শিল্পপ্রতিষ্ঠান খোলা। চাকরি বাঁচানোর তাগিদে কর্মস্থলে ফিরতেই হবে। তবে গণপরিবহন বন্ধ থাকায় ছোট ছোট যানবাহনে করে ঘাট পর্যন্ত আসতে হয়েছে। সেখানেও লঞ্চ-স্পিডবোট বন্ধ। ফেরিতে গাদাগাদি করে আসতে হচ্ছে। এ কারণে করোনার ভয় থেকেই যাচ্ছে। যদি শিল্প প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি গণপরিবহন, লঞ্চ, স্পিডবোট চালু থাকতো, তাহলে গাদাগাদি কম হতো। সেক্ষেত্রে করোনা সংক্রমণের হার কমতে পারে।
একাত্তর/আরবিএস
