ইরান এবং মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিরোধ আন্দোলনগুলোর সম্ভাব্য প্রতিশোধমূলক হামলা থেকে দখলদার ইসরাইলকে রক্ষা করতে মধ্যপ্রাচ্যে পারমাণবিক শক্তি চালিত গাইডেড মিসাইল সাবমেরিন ও স্ট্রাইক গ্রুপ পাঠিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহে ইসরাইলে বড় ধরনের হামলা হতে পারে এমন আশঙ্কা থেকে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে ওয়াশিংটন।
সংবাদমাধ্যমটি বলছে, মার্কিন ইতিহাসে সাবমেরিন মোতায়েনের কথা এভাবে প্রকাশ্যে ঘোষণার ঘটনা বিরল।
ইরানের রাজধানী তেহরানে হামাস প্রধান ইসমাইল হানিয়া হত্যাকাণ্ডের জবাবে ইরান এবং মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিরোধ আন্দোলনগুলো এই হামলা চালাবে বলে তেল আবিবকে সতর্ক করেছেন হোয়াইট হাউসের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের মুখপাত্র জন কিবরি।
মার্কিন সেনা সদর দপ্তর পেন্টাগন রোববার এ তথ্য নিশ্চিত করেছে যে, মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী লয়েড অস্টিন পারমাণবিক শক্তি চালিত ইউএসএস জর্জিয়া গাইডেড মিসাইল সাবমেরিনকে মধ্যপ্রাচ্যে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
একইসঙ্গে তিনি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন ক্যারিয়ার স্টাইক গ্রুপকেও মধ্যপ্রাচ্যে যাওয়ার নির্দেশ দেন। এ জাহাজে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বাধুনিক এফ-থার্টি ফাইভ জঙ্গিবিমান রয়েছে।
এছাড়া, বর্তমানে ওমান উপসাগরে মার্কিন রণতরী ইউএসএস রুজভেল্ট ও তার সাথে সহযোগী বহু সংখ্যক যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন রয়েছে।
এর আগে ৩১ জুলাই ভোরে ইরানের রাজধানী তেহরানে ইসরাইলি হামলায় নিহত হন ফিলিস্তিন প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসের রাজনৈতিক শাখার প্রধান ইসমাইল হানিয়া।
তেহরানে যে ভবনে তিনি অবস্থান করছিলেন, সেই ভবনে হামলা চালায় ইসরাইল। এতে ইসমাইল হানিয়া ও তার একজন দেহরক্ষী নিহত হন।
ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের নবম প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দেয়ার জন্য তেহরানে অবস্থান করছিলেন হানিয়া।
হানিয়া হত্যার ষড়যন্ত্রের বিষয়ে এখনও বিস্তারিত খবর প্রকাশ্যে আসেনি। তবে প্রাথমিক তদন্তে ইসরাইলি শাসক গোষ্ঠীর প্রত্যক্ষ মদদে এবং ওয়াশিংটনে জো বাইডেন প্রশাসনের সবুজ সংকেতে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরানের সূত্রগুলো।
হামাস প্রধানের মৃত্যুর সংবাদ পাওয়ার পরপরই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি বলেন, হানিয়াকে হত্যার অপরাধে দখলদার ইসরাইলকে কঠিন জবাব দেয়া হবে। হামাস প্রধানের রক্তের বদলা নেয়া আমাদের দায়িত্ব বলে মনে করি।
যদিও যুক্তরাষ্ট্র বারবার বলে আসছে যে, তারা গাজায় যুদ্ধবিরতি চায় এবং ইসরাইলের বিরুদ্ধে ইরানকে প্রতিশোধমূলক হামলা না চালানোর অনুরোধও জানিয়েছে।
তবে কোনোকিছুকে তোয়াক্কা না করে হানিয়া হত্যার ঘটনায় ইরানের রাজধানী তেহরানের জামকারান মসজিদে ‘ইয়ালাসারাত আল-হুসেইন’ বা আল-হোসেইনের আঘাত লেখা লাল পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে। ইরানে প্রতিশোধের প্রতীক হিসেবে এই লাল পতাকা উত্তোলন করা হয়।
ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড, গাজার হামাস, লেবাননের হিজবুল্লাহ, ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহী, এমনকি ইরাকের সন্ত্রাস প্রতিরোধ আন্দোলন আইআরআই এ হত্যার নিন্দা জানিয়ে ইসরাইলে হামলার হুমকি দিয়েছে। এরইমধ্যে ইসরাইলে বেশ কয়েকবার হামলাও চালিয়েছে সংগঠনগুলো।
চলতি সপ্তাহে ইসরাইলে বড় হামলার আশঙ্কা যুক্তরাষ্ট্রের
‘সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ইরানকে সমর্থন করে চীন’
ট্রাম্পের বিরুদ্ধে কমলাকে নিয়ে ভুয়া তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ