একটি বাড়িকে রুপান্তর করা হয়েছে গুদামে। সেখানে পাঁচটি কক্ষ বোঝাই করে রাখা হয়েছে সরকারের দেওয়া বিভিন্ন মালামাল। সেলাই মেশিন, হৃইল, শাড়ী, কম্বল, লুঙ্গি কী নেই সেখানে।
কোটি টাকা মূল্যের এসব মালামাল দরিদ্র, অনগ্রসর ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিকদের বিতরণের জন্য দিয়েছিল সরকার। কিন্তু তা না করে সাবেক জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেনের ব্যক্তিগত সহকারী দোলন অবৈধভাবে এসব পণ্য রেখেছিলেন নিজের কব্জায়।
অবশেষে বৃহস্পতিবার রাতে সেনাবাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসন দুই ঘণ্টা অভিযান এসব মালামাল জব্দ করেছে। পাঁচটি কক্ষ ভর্তি পণ্যের মধ্যে রয়েছে- শাড়ী, লুঙ্গি, চাদর, কম্বল, টেলিভিশন, খেলার সরঞ্জাম, হুইল চেয়ার, খেজুরসহ নানা ধরনের জিনিস।

বৃহস্পতিবার রাত ১০টা থেকে ১২টা পর্যন্ত মেহেরপুর শহরের ক্যাশবপাড়ার এলাকার ওই বাড়িতে অভিযানে নেতৃত্ব দেন সদর উপজেলার সহকারি কমিশনার (ভূমি) গাজী মইদুর রহমান এবং সেনা কর্মকর্তা মেজর জাহিন।
সাবেক জনপ্রশাসন মন্ত্রীর পিএস দোলন দর্জি ওই বাড়ি ভাড়া করে গুদাম বানিয়েছিলেন। আর সেখানেই মজুদ করেছিলেন দানের জন্য দেওয়া সরকারি এসব মালামাল।

অভিযানে সহকারী কমিশনার গাজী মইদুর রহমান বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এই গোডাউনের সন্ধান পাই আমরা। এরপর ঘরের তালা ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করে সেখান থেকে বিপুল সরকারি মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে।
এসব মালামালের মধ্যে রয়েছে- ত্রাণের এবং সরকারি বরাদ্দের শাড়ী, লুঙ্গি, চাদর, কম্বল, টেলিভিশন, কোরআন শরীফ, টিফিন বক্স, ক্রিকেট-ফুটবল-ব্যাডমিন্টনসহ বিভিন্ন খেলার সরঞ্জাম, হুইল চেয়ার, সৌদি খেজুর, গ্যাস সিলিন্ডার, করোনা কিটস, এ্যপ্রোনসহ নানা ধরনের জিনিস।

জব্দ মালামাল ট্রাক এবং ভ্যান বোঝাই করে সরকারি হেফাজতে নিয়ে যাওয়া হয়। সহকারী কমিশনার জানান, এসব পণ্যের আনুমানিক মূল্য প্রায় কোটি টাকা।
স্থানীয়রা জানান, দেড় বছর আগে ফরহাদ হোসেনর আত্মীয় ও পিএস দোলন মাসিক ছয় হাজার টাকা চুক্তিতে বাড়িটি ভাড়া নিয়েছিল। তারপর থেকে সেখানে সরকারি ত্রাণের মালামাল মজুদ করে আসছিল। প্রায় সময় বাড়ি থেকে বিভিন্ন মালামাল ট্রাক বোঝাই করে নিয়ে গেছে, আবার মজুদ করেছে।

এভাবে ত্রাণ বা রিলিফের সরকারি মালামাল মজুদ করা অন্যায় কাজ জেনেও এতোদিন মন্ত্রীর প্রভাবের ভয়ে এলাকাবাসী কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পায়নি বলেও জানিয়েছেন তারা।
সহকারী কমিশনার গাজী মইদুর রহমান বলেন, উদ্ধারকৃত সমস্ত মালামাল জব্দ তালিকা করে সরকারি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। পরে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শুধু দুই মাস নয়, ১৫ বছরে গুমের তদন্ত করুন: ফখরুল