বরিশালে নির্মাণাধীন একটি বাড়ি নিয়ে বিরোধে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি) ও ব্রজমোহন কলেজের (বিএম) শিক্ষার্থীদের মধ্যে রাতভর দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। এসময় ব্রজমোহন কলেজের পাঁচটি বাস, একটি ট্রাক, প্রশাসনিক ভবন ও তিনটি ছাত্রাবাস ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আহত হয়েছেন অন্তত ২৫ জন। পরে সেনাবাহিনী গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।
মঙ্গলবার মধ্যরাত থেকে বুধবার ভোর পর্যন্ত ব্রজমোহন কলেজ ক্যাম্পাসে দফায় দফায় এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, নগরীতে এক নারীর নির্মাণাধীন একটি বাড়ি নিয়ে বিরোধে এর পক্ষে নেন ব্রজমোহন কলেজের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক মোস্তাফিজুর রহমান রাফি। এতে তিনি বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মারধরের শিকার হন।
তারা জানান, এর জেরে নগরীর বটতলায় চাঁদাবাজির অভিযোগ এনে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্রকে মারধর করা হয় এবং সোমবার রাত ১১টায় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা সংঘবদ্ধ হয়ে বিএম কলেজে হামলা চালায়।
বরিশাল কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ব্যাপ্টিস্ট মিশন রোডে এক নারী ভবন নির্মাণ করতে গেলে প্রতিবেশী বাধা দেয়। পরে তিনি বিএম কলেজের সমন্বয়ক মোস্তাফিজুর রহমান রাফিকে জানান। পরে রাফি সঙ্গীদের নিয়ে ঘটনাস্থলে যায়।
অপরদিকে প্রতিপক্ষের কন্যা বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী তার কয়েক সহপাঠীকে খবর দিয়ে নিয়ে আসে। এরই মধ্যে সোমবার বিএম কলেজের সমন্বয়ক রাফি মারধরের শিকার হয়। পরদিন মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্রকে চাঁদাবাজির অভিযোগ এনে আটকে রাখে বিএম কলেজের ছাত্ররা। ঘটনা শুনে দুই সহপাঠীকে বাস যোগে উদ্ধার করতে এসে তারা হামলার শিকার হয়।
এরপর রাত ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্ররা সংঘবদ্ধ হয়ে বাসযোগে বিএম কলেজে এসে ভাঙচুর করে। এসময় ববি ও বিএম কলেজ ছাত্রদের মধ্যে সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অর্ধ শতাধিক আহত হয়। ববির ছয় ছাত্রকে আটক করা হলেও শিক্ষকদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়।
এর আগে বিকেলে বিরোধপূর্ণ জমি দখল নিয়ে সৃষ্ট ঘটনায় দুই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ ক্যাম্পাসের সামনে মানববন্ধন করে। এ কর্মসূচির পর রাতে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
টাঙ্গাইলে শিল্পাঞ্চলে দখল নিতে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষ